আশুলিয়ায় লাইটার কারখানায় অগ্নিকাণ্ড, দগ্ধ ২৫

নিউজ ডেস্ক : আশুলিয়ায় একটি গ্যাস লাইটার তৈরির কারখানায় অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। এ অগ্নিকাণ্ডে অন্তত ২৫ জন দগ্ধ হয়েছেন। আজ মঙ্গলবার বিকেল ৪টার দিকে আশুলিয়ার জিরাবো এলাকার কালার ম্যাক্স বিডি লিমিটেড নামে ওই লাইটার কারখানায় এ ঘটনা ঘটে। খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের সদর দপ্তরসহ বিভিন্ন ফায়ার স্টেশনের নয়টি ইউনিট আগুন নেভাতে কাজ করে। প্রায় আড়াই ঘণ্টার চেষ্টার পর আগুন নিয়ন্ত্রণে আসে। দগ্ধ শ্রমিকদের সাভার এনাম মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল ও ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, বিকেলে হঠাৎ কারখানাটিতে আগুন লাগে। মুহুর্তের মধ্যেই আগুন টিন শেড কারখানাটির চারিদিকে ছড়িয়ে পড়ে। এ সময় আতঙ্কগ্রস্ত হয়ে শ্রমিকরা কারখানা থেকে বের হতে হতেই অন্তত ২৫ জন দগ্ধ হন। তাদের মধ্যে সাভার এনাম মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে পাঁচজন ও আশুলিয়ার বেরন এলাকায় অবস্থিত নারী ও শিশু স্বাস্থ্য কেন্দ্রে ১৩ জনকে ভর্তি করা হয়। এনাম মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি হওয়া শ্রমিকদের নাম হলো- আকলিমা, রহিমা, কুলসুম, ইয়াছমিন ও শারমিন। এদের বয়স ১৬ থেকে ১৮ বছরের মধ্যে।

নারী ও শিশু স্বাস্থ্য কেন্দ্র হাসপাতালের উপ মহাব্যবস্থাপক (জনসংযোগ) হারুন অর রশিদ বলেন, ১৩ জন নারী শ্রমিককে দগ্ধ অবস্থায় তাদের হাসপাতালে নিয়ে আসা হয়। তাদের মধ্যে ৪/৫ জনের ৮০ শতাংশ এবং বাকিদের ৫০ শতাংশ দগ্ধ হয়েছে। প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে তাদের ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের বার্ন ইউনিটে পাঠিয়ে দেওয়া হয়েছে।

নারী ও শিশু স্বাস্থ্য কেন্দ্র হাসপাতাল থেকে যাদের ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে তারা হলেন, জলি (৩০), মুক্তি আক্তার (১৮), হালিমা (২৫), ফাতেমা (১৫), নাজমা (১৭), রিনা (২০), মেহেরা (৩০), খাদিজা (১৪), আঁখি (১৪), সোনিয়া (১৬), শিমু (২৫), হাফিজা (১৬) ও মাহমুদা (২৬)। তবে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে মোট কতজন ভর্তি হয়েছে তা জানা যায়নি।

এ বিষয়ে ঢাকা রপ্তানি প্রক্রিয়াকরণ এলাকার (ডিইপিজেড) ফায়ার সার্ভিস অফিসের স্টেশন অফিসার আব্দুল হামিদ জানান, আগুন লাগার সঙ্গে সঙ্গে স্থানীয়রা আগুন নিয়ন্ত্রণে এগিয়ে আসে এবং ফায়ার সার্ভিস স্টেশনে খবর দেয়। খবর পেয়ে তাদের দুটি ইউনিটসহ ফায়ার সাভিসের সদর দপ্তর, উত্তরা, সাভার থেকে নয়টি ইউনিট এসে আগুন নিয়ন্ত্রণে কাজ করে। তবে তাৎক্ষণিকভাবে আগুন লাগার কারণ জানাতে পারেননি।

এ প্রসঙ্গে উত্তরা ফায়ার স্টেশনের সিনিয়র স্টেশন অফিসার শফিকুল ইসলাম বলেন, কারখানাটির ভেতরে গ্যাস লাইটার তৈরির ক্যামিকেল বা গ্যাস থাকায় দ্রুত আগুন ছড়িয়ে পড়ে। এ ছাড়াও কারখানাটির প্রবেশ পথ সরু গলিতে হওয়ায় আগুন নেভানোর কাজ শুরু করতে একটু বিলম্ব হয়েছে। পানির সমস্যাও ছিলো।

এ ব্যাপারে আশুলিয়া থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মহাসিনুল কাদির বলেন, নিরাপত্তার কারণে জিরোবো বিশমাইল সড়কের যান চলাচল কিছু সময় বন্ধ থাকে। উৎসুক লোকজনের কারণে আগুন নেভাতে সমস্যা তৈরি হয়।

Print Friendly, PDF & Email
basic-bank

Be the first to comment on "আশুলিয়ায় লাইটার কারখানায় অগ্নিকাণ্ড, দগ্ধ ২৫"

Leave a comment

Your email address will not be published.


*