গারো নারী ধর্ষণের প্রধান আসামি গ্রেফতার

নিউজ ডেস্ক : গারো নারী ধর্ষণের মূল অভিযুক্ত ব্যক্তিকে গ্রেফতার করেছে র‌্যাপিড একশন বেটালিয়ান (র‌্যাব)। রাজধানীর কাওরানবাজারের বিএসইসি ভবনের দশম তলায় শনিবার দুপুরে র‌্যাব মিডিয়া সেন্টারে এক সংবাদ সম্মেলনে এ সব তথ্য জানান র‌্যাব-১ এর অধিনায়ক (সিও) লেফট্যানেন্ট কর্নেল তুহিন মোহাম্মদ মাসুদ।

তিনি বলেন, র‌্যাব-১ এর অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. আবুল কালাম আজাদ ও সিনিয়র সহকারী পুলিশ সুপার মো. আকরামুল হাসানের অভিযান পরিচালনা করে শুক্রবার সন্ধ্যায় সাড়ে ৭টার দিকে বিমান বন্দর রেল ষ্টেশন এলাকা থেকে রুবেলকে গ্রেফতার করা হয়। তার কাছ থেকে ধর্ষিতার হবু স্বামী রিপন ম্রং এর স্মার্ট মোবাইল ফোন ও ৯ হাজার ৬৯২ টাকা উদ্ধার করা হয়। ধর্ষণকারী রুবেলের বিরুদ্ধে বাড্ডা থানায় ধর্ষণ, চাঁদাবাজি, ডাকাতির প্রস্তুতি, মাদকদ্রব্য ও সন্ত্রাসী ঘটনায় ৮ টি এবং রামপুরা থানায় একটি অস্ত্র মামলাসহ মোট ৯ টি মামলা রয়েছে।

গ্রেফতারের জিজ্ঞাসাবাদের তথ্য উল্লেখ করে তিনি বলেন, ওই গারো তরুনী ঢাকায় একটি বিউটি পার্লারে কাজ করে। ২৫ নভেম্বর বিকেলে সে উত্তর বাড্ডা হাসান উদ্দিন সড়কের ৩ নম্বর লেনের মিশ্রীটোলায় হাজী রুহুল আমীরে মেসের ভাড়াটিয়া তার হবু স্বামীর সাথে দেখা করতে যায়। এ সময় অন্য ভাড়াটিয়া নাজমুল, সালাউদ্দিন (সালু), জয়নাল, আল আমিন ও রনির উপস্থিতিতে মেসের ম্যানেজার হানিফ হবু স্বামীকে বলেন, মেসে মহিলা আনা নিষেধ, তুমি কেন এখানে মহিলা নিয়ে আসছ। ম্যানেজার ১ নভেম্বরের মধ্যে বাসা ছাড়ার জন্য বলেন। তখন একই মেসের বাসিন্দা সালাউদ্দিন (সালু) মোবাইল ফোনে কল করে তার পূর্ব পরিচিত সন্ত্রাসী আল আমিন, রনি, সুমন ও নাজমুলসহ স্থানীয় সন্ত্রাসী রুবেলকে মেসে ডেকে আনে। তারা ভিকটিমের হবু স্বামীর কাছ থেকে মেসে মহিলা আনার অজুহাতে ফাঁদে ফেলে ১৭ হাজার টাকা ও তার ব্যবহৃত স্মার্ট ফোনটি নিয়ে নেয়।

তিনি আরও বলেন, ধর্ষক রুবেল ও তার সহযোগী সালাউদ্দিন (সালু) মিলে ভিকটিমকে প্রাণের ভয় দেখিয়ে মামুন মিয়ার রিক্সার গ্যারেজে ধর্ষণের জন্য নিয়ে যায়। কিন্তু সেখানে রিক্সা গ্যারেজে রিক্সার ড্রাইভার ও অন্যান্য লোকজন থাকায় পারভেজের রিক্সার গ্যারেজের পাশে হাজী মোশারফ মিয়ার পরিত্যক্ত বাসার একটি রুমে নিয়ে যায় এবং সেখানে রুবেল তাকে ধর্ষণ করে। ধর্ষণের সময় তার অন্যান্য সহযোগী আল আমিন ও সালাউদ্দিন রুমের বাহিরে অবস্থান করে এই পাশবিক নির্যাতনে সহযোগীতা করে।

তুহিন মোহাম্মদ মাসুদ বলেন, রুবেল বাড্ডা ও রামপুরা থানা এলাকার চিহ্নিত অস্ত্রধারী, চাঁদাবাজ, অপহরণকারী, ধর্ষণকারী, ডাকাত ও সন্ত্রাসী হিসেবে পরিচিত। সে তার সহযোগীদের নিয়ে নির্জন রাস্তায় চলাচলরত মেয়েদের সুযোগ বুঝে উত্যক্তসহ ধর্ষণ আগেও করেছে। অধিকাংশ ভিকটিমই লোক লজ্জা ও প্রাণের ভয়ে এ ব্যাপারে কোন রুপ প্রতিবাদ বা আইনের দ্বারস্থ হননি। অন্য এলাকার কেউ যদি স্থানীয় যুবক-যুবতী একসাথে বাড্ডা এলাকায় বেড়াতে যেত তাহলে সে ও তার সহযোগিরা তাদেরকে ফাঁদে ফেলে বা জিম্মি করে সর্বস্ব লুটে নিত।

এ মামলায় ধর্ষক রুবেলের সহযোগি আসামী আল আমিনসহ অন্যান্য সহযোগিদের গ্রেফতার প্রচেষ্টা অব্যাহত আছে বলেও জানান র‌্যাব-১ এর অধিনায়ক।

 

Print Friendly, PDF & Email
basic-bank

Be the first to comment on "গারো নারী ধর্ষণের প্রধান আসামি গ্রেফতার"

Leave a comment

Your email address will not be published.


*