চিনির দাম এক বছরে দ্বিগুণ

নিউজ ডেস্ক: লাগামহীনভাবে দাম বাড়ায় অস্থিরতা কাটছেনা চিনির বাজারে। পর্যাপ্ত মজুত থাকা সত্ত্বেও দাম বাড়ছে নিত্য প্রয়োজনীয় এ পণ্যটির। এক বছরে আগেও কেজিপ্রতি চিনি ৩৮ থেকে ৪০ টাকায় বিক্রি হলেও এখন তা বিক্রি হচ্ছে ৭২ থেকে ৭৬ টাকায়।

জানা গেছে, নানা অজুহাতে মিল মালিকরা চাহিদানুযায়ী চিনি সরবরাহ না কারায় এককভাবে দাম নির্ধারণ করছে হাতেগোনা কয়েকজন ডিলার। ফলে অনেকটা নিয়ন্ত্রণহীনভাবে বাড়ছে চিনির দাম।

রাজধানীর সেগুনবাগিচা, মতিঝিল, খিলগাঁও, হাতিরপুল, কারওয়ান বাজারসহ বিভিন্ন খুচরা বাজারের তথ্য অনুযায়ী, বৃহস্পতিবার (২১ জুলাই) প্রতিকেজি চিনি বিক্রি হচ্ছে ৭২ থেকে ৭৬ টাকায়। যা সপ্তাহের ব্যবধানে কেজিতে বেড়েছে পাঁচ থেকে সাত টাকা বেশি।

সেগুনবাগিচা বাজারের চিনি কিনতে আসা বেসরকারি চাকুরিজীবী আনিসুজ্জামান বলেন, এক সপ্তাহ আগে চিনি কিনেছি ৬৪ টাকায় আজ সেই চিনি ৭৬ টাকা। সরকার যদি বাজার নিয়মিত তদারকি করে তাহলে হঠাৎ পণ্যেরে দাম বাড়াতে পারে না। কিন্তু দেশে তো এটি দেখার কেউ নেই।

এছাড়া ভোক্তা অধিকার আইন অনুযায়ী প্যাকেটজাত পণ্যের মোড়কে লেখা খুচরা মূল্যের অধিক দামে বিক্রি করা আইনত দণ্ডনীয় অপরাধ হলেও প্রতি কেজি প্যাকেটজাত চিনির খুচরা মূল্য ৬৩ টাকা লেখা থাকলেও বিক্রি হচ্ছে ৭২ থেকে ৭৪ টাকায়। তবে সরকারি সংস্থা টিসিবির তথ্য অনুযায়ী, প্রতি কেজি চিনি বিক্রি করছে ৪৮ টাকায়। এতে বাজারে দামের ব্যবধান কেজিতে ২৫ টাকা।

টিসিবির তথ্য অনুযায়ী, গত এক মাস আগেও প্রতিকেজি চিনি বিক্রি হয়েছে ৬২ থেকে ৬৫ টাকায়। গত বছরে একই সময়ে প্রতিকেজি চিনি বিক্রি হয়েছে ৩৮ থেকে ৪০ টাকায়। অর্থাৎ এক বছরের ব্যবধানে চিনির দাম বেড়েছে ৮৫ দশমিক ৯০ শতাংশ।

এদিকে পাইকারি বাজারে দাম বেশি হওয়ায় বাড়তি দামে বিক্রি করতে হচ্ছে বলে জানিয়েছেন খুচরা ব্যবসায়ীরা। তবে আর্ন্তজাতিক বাজারে মূল্য বৃদ্ধি, সরবরাহ কম থাকায় চিনির দাম বাড়ছে বলে জানিয়েছেন পাইকারি ব্যবসায়ীরা। আর দফায় দফায় দাম বাড়ায় বিপাকে পড়েছেন সাধারণ ক্রেতারা।

বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বপ্রাপ্ত সচিব মনোজ কুমার রায় বলেন, আন্তর্জাতিক বাজারে দাম বাড়ায় চিনির দাম কিছুটা বেড়েছে। তবে দাম নিয়ন্ত্রণে মনিটরিং টিম কাজ করছে। পাশাপাশি গোয়েন্দা সংস্থাও নজর রাখছে। যারা কারসাজিতে জড়িত তাদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হবে। ঊর্ধ্বমুখি চিনির দাম নিয়ন্ত্রণে টিসিবির মাধ্যমে ৪৮ টাকা দরে সরবরাহ করা হচ্ছে। এছাড়া কম দামে সুগার করপোরেশনের পর্যাপ্ত চিনি বাজারে ছাড়ছে বলেও জানান তিনি।

পাইকারি চিনি ব্যবসায়ী আবুল হাসেম বলেন, বর্তমানে যে পরিমাণ চিনির চাহিদা রয়েছে সে তুলনায় সরবরাহ কম। তাই পাইকারি বাজারে দাম বেড়েছে। তিনি আরো বলেন, মিল থেকে ডিলাররা চিনি কিনে সরবরাহ করে। ঈদের আগে চিনি কিনেছি ৫২ টাকায় এখন প্রায় ৬৬ টাকার উপরে কিনতে হচ্ছে।

এদিকে দাম বাড়ায় চিনি দিয়ে তৈরি অন্যান্য পণ্যের দামও বাড়ছে। সংশ্লিষ্টদের মতে ঈদের আগে মনিটরিং টিম সক্রিয় থাকায় দাম কিছুটা নিয়ন্ত্রণে ছিলো। কিন্তু ঈদের পর চিনির নিয়ন্ত্রণহীন ভাবে দাম বাড়ছে।

Print Friendly, PDF & Email
basic-bank

Be the first to comment on "চিনির দাম এক বছরে দ্বিগুণ"

Leave a comment

Your email address will not be published.


*