ব্রেক্সিট: লেবার পার্টিতে বিদ্রোহ

নিউজ ডেস্ক : ইউরোপীয় ইউনিয়ন থেকে বেরিয়ে যাওয়ার পক্ষে যুক্তরাজ্যবাসীর রায়ের পর বিরোধী দল লেবার পার্টিতে ভাঙনের সুর বেজে উঠেছে। ইইউতে থাকার পক্ষ নেওয়া প্রধানমন্ত্রী ডেভিড ক্যামেরন পদত্যাগের ঘোষণা দেওয়ার পর লেবার নেতা জেরেমি করবিনেরও সরে যাওয়ার দাবি তুলেছেন ছায়া মন্ত্রিসভার অর্ধেক সদস্য।
করবিন নেতৃত্ব থেকে সরে না দাঁড়ালে এই এমপিরা পদত্যাগের হুমকিও দিয়েছেন বলে বিবিসির খবরে বলা হয়েছে। ঐতিহাসিক এক গণভোটে বৃহস্পতিবার যুক্তরাজ্যের ইইউতে থাকা না থাকার বিষয়ে রায় দেয় যুক্তরাজ্যবাসী। এতে ৫২ শতাংশ ভোট পড়ে ইইউ থেকে যুক্তরাজ্যের বেরিয়ে যাওয়ার পক্ষে এবং ৪৮ শতাংশ মানুষ ইইউতে থাকার পক্ষে ভোট দেয়।
ভোটের ফল প্রকাশের পর প্রধানমন্ত্রিত্ব ছাড়ার ঘোষণা দেন ক্যামেরন। ক্যামেরনের কনজারভেটিভ পার্টির একটি অংশ ইইউ ছাড়ার পক্ষে অবস্থান নিলেও লেবার পার্টির অধিকাংশই ছিলেন ইইউতে থেকে যাওয়ার পক্ষে।
লেবার পার্টিতে অস্থিরতা দেখা দেয় ছায়া মন্ত্রিসভার পররাষ্ট্রমন্ত্রী হিলারি বেনকে করবিন বরখাস্ত করার পর। এর কয়েক ঘণ্টা পর ওই মন্ত্রিসভার স্বাস্থ্যমন্ত্রী হেইডি আলেক্সান্ডারও পদত্যাগের ঘোষণা দেন।
গণভোটে জয়ের ব্যাপারে জোরালো কোনো ভূমিকা রাখতে পারেননি- এমন অভিযোগে দলে অনাস্থার মুখে পড়েছেন করবিন। লেবারদের হয়ে প্রধানমন্ত্রিত্ব করা টনি ব্লেয়ারও বর্তমান নেতৃত্বের দক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন।
তবে করবিনের ঘনিষ্ঠরা বলছেন, যাই ঘটুক না কেন, নেতৃত্বে টিকে থাকতে তিনি আশাবাদী। ছায়া মন্ত্রিসভার এক সদস্য বিবিসিকে বলেন, “আমি মনে করি, নতুন নেতৃত্ব নির্বাচন করা হবে এবং জেরেমি তাতে জয়ীও হবেন। কিন্তু পুরো বিষয়টিই এক ধরনের বিশৃঙ্খলা।”

হিলারি বেনকে বহিষ্কারের কারণ সম্পর্কে লেবার পার্টির একটি সূত্র জানিয়েছে, করবিনের নেতৃত্বে ‘অনাস্থা’ জানিয়েছিলেন ছায়া পররাষ্ট্রমন্ত্রী। বেনের নিজের কথাও তাই। তিনি বলেন, “আমি করবিনের নেতৃত্ব এবং ভোটে তার জয়ের ব্যাপারে আমি সন্দিহান ছিলাম।”

বিষয়টি জানাতে নেতাকে ফোন করেছিলেন জানিয়ে তিনি বলেন, “দলকে নেতৃত্ব দেওয়ার ব্যাপারে তার সক্ষমতার ওপর আমি আস্থা হারিয়েছি এটা জানিয়েছি এবং এরপরই তিনি আমাকে বরখাস্ত করেন।” ‘অনাস্থা’ উপেক্ষা করে করবিন নেতৃত্বে থাকার চেষ্টা ছায়া মন্ত্রিসভা থেকে সদস্যদের পদত্যাগের ব্যাপারে হিলারি বেন উৎসাহ জুগিয়ে যাচ্ছেন বলে গণমাধ্যমের খবর।

Print Friendly, PDF & Email
basic-bank

Be the first to comment on "ব্রেক্সিট: লেবার পার্টিতে বিদ্রোহ"

Leave a comment

Your email address will not be published.


*