ভারতে নোট বাতিলে বিপাকে পর্যটকরা

নিউজ ডেস্ক : ৫০০ ও ১০০০ রুপির নোট নিয়ে ভারতের কেন্দ্রীয় সরকারের সিদ্ধান্তে শুক্রবারও দিনভর হয়রানির শিকার হতে হয়েছে দেশটির সাধারণ মানুষ ও পর্যটকদের। এদিন ব্যাংক ও এটিএম খুললেও মানুষের ন্যুনতম চাহিদা না মেটায় হতাশ হয়ে বাড়ি ফিরে যেতে হয় অনেককেই। কেন্দ্রীয় সরকারের পক্ষ থেকে ঘোষণা করা হয়েছিল ১১ নভেম্বর থেকে সব এটিএম খোলা থাকবে। গ্রাহকরা নির্বিঘ্নে রুপি তুলতে পারবেন। কিন্তু দুই দিন বন্ধ থাকার পরও এদিন রাজ্যের অনেক এটিএম’এর ঝাঁপই ছিল বন্ধ। আবার কোথাও এটিএম খোলা থাকলেও দরজায় টাঙানো ছিল ‘নো ক্যাশ’। আর যেগুলি খোলা ছিল তার বাইরেই রুপি তোলার লাইন এতটাই লম্বা ছিল যে লাইনের শেষ মাথা দেখা যায় নি। ব্যাংকগুলিতেও ছিল একই অবস্থা। রুপি না পাওয়ায় অনেক জায়গায় বিক্ষোভ করেন গ্রাহকরা। শুধু কলকাতা শহরই নয়, উত্তর চব্বিশ পরগনা, হাওড়া, হুগলিসহ রাজ্যের প্রতিটি জেলাতেই হয়রানির একই ছবি। তবে এটিএম পরিসেবা স্বাভাবিক হতে আরও বেশ কিছুদিন সময় লাগবে বলে ব্যাংকগুলির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে। সরকারী ঘোষনা অনুযায়ী আগামী ১৮ নভেম্বর পর্যন্ত এটিএমগুলি থেকে সর্বাচ্চ ২ হাজার রুপি তুলতে পারবেন গ্রাহকরা। এরপর সেই সংখ্যাটা বেড়ে হবে ৪ হাজার রুপি। অর্থাৎ এই মুহুর্তে কোন এটিএম থেকেই ২ হাজারের বেশি রুপি তোলা যাবে না। নোট বদলাতে এদিন ব্যাংকে যেতে হয় কংগ্রেস সহসভাপতি রাহুল গান্ধীকেও। এদিন দুপুরে দিল্লির পার্লার্মেন্ট স্ট্রিটে স্টেট ব্যাংক অব ইন্ডিয়ার শাখায় যান রাহুল। সাদা শার্ট-নীল জিন্স পরে সাধারণ মানুষের সঙ্গে লাইনে দাঁড়িয়ে পড়েন কংগ্রেস সহ-সভাপতি। এরপর বেশ কিছুক্ষণ অপেক্ষা করে অবশেষে চারহাজার রুপির নতুন নোট হাতে নিয়ে ফিরে আসেন তিনি। পরে রাহুল জানান ‘আমি চার হাজার পুরোনো নোট বদলে নতুন নোট নিয়ে যেতে এসেছি। হাত খরচের রুপি লাগবে তো। সরকারের এই ঘোষণায় সাধারণ মানষকে খুব দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। আমিও তাদের দুর্ভোগের যন্ত্রণা শেয়ার করতে চাই, তাই ব্যাংকে চলে এসেছি’। সাধারণ মানুষ, রাজনীতিবিদদের পাশাপাশি হয়রানির শিকার হচ্ছেন পর্যটকরাও। প্রতিবছরই অসংখ্য বাংলাদেশি ভারতে আসেন চিকিৎসা করাতে অথবা বেড়াতে। কিন্তু মোদি সরকারের এই আচমকা নোট বাতিলে সবচেয়ে সমস্যায় পড়েছেন ভারতে আসা রোগীরা। যশোরের বাসিন্দা শেখ মনসুর আলি তার ভাইয়ের কিডনি সমস্যা নিয়ে এসেছিলেন কলকাতায়। তিনি জানান ‘কলকাতার একটি বেসরকারি হাসপাতালে ভাইয়ের চিকিৎসা চলছে, কিন্তু হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ পুরোনো নোট নিচ্ছে না। হাসপাতাল থেকে বলা হয়েছে তারা মাত্র ১০০ রুপির নোট নেবে। কিন্তু আমার কাছে মাত্র কয়েকটা এই নোট রয়েছে’। যদিও হাসপাতালে ভর্তির আগেই একটা বড় অংকের রুপি জমা দিয়েছেন ওই হাসপাতালে। কিন্তু তার ভয় হাসপাতালের চূড়ান্ত বিল নিয়ে। শুক্রবারেও কলকাতার নিউমার্কেটের অধিকাংশ মানি এক্সচেঞ্জগুলি থেকে বাংলাদেশি পর্যটকরা নিজেদের প্রয়োজন মতো রুপি বিনিময় করতে পারেনি। খুচরা রুপির টান থাকায় ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তেও আমদানি-রপ্তানি করতে গিয়ে চরম সমস্যায় পড়তে হয়েছে ব্যবসায়ীদের। ফলে আন্তর্জাতিক বাণিজ্যেও ঘাটতি দেখা দিয়েছে। এদিকে মোদি সরকারের এই সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে সংসদের অধিবেশনে সরব হতে চলেছে তৃণমূল কংগ্রেস। দলের নেত্রী মমতা বন্দোপাধ্যায় মোদির বিরুদ্ধে আর্থিক অরাজকতা তৈরির অভিযোগ এনে সব বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলিকেই একত্রিত হওয়ার আবেদন জানিয়েছেন।

Print Friendly, PDF & Email
basic-bank

Be the first to comment on "ভারতে নোট বাতিলে বিপাকে পর্যটকরা"

Leave a comment

Your email address will not be published.


*