র‌্যাম্পে হাঁটলেন গণধর্ষণের শিকার নারী

নিউজ ডেস্ক : সন্ত্রাসবাদ ও জঙ্গি হামলা নয়, বরং নির্যাতিতার পাশে দাঁড়িয়ে নজির গড়ল পাকিস্তান। ১৪ বছর আগে গণধর্ষণের শিকার হয়েছিলেন দেশটির পাঞ্চাবের মুজফফরগড়ের মীরওয়ালা গ্রামের বাসিন্দা মুখতারন মায়ি। মঙ্গলবার ‘‌পাকিস্তান ফ্যাশন উইক’‌–এ তাকেই র‌্যাম্পে হাঁটালেন পাকিস্তানি ডিজাইনার রোজিনা মুনিব। হাজার হাজার ক্যামেরার সামনে মাথা উঁচু করে হাঁটলেন দাঁড়ালেন মায়ি। তবে আলোর ঝলকানির সামনে আবেগ ধরে রাখতে পারেননি তিনি।

মুখতারন মায়ি বলেন, ‘‌আমি এগিয়ে এলে যদি একজন নারীও উপকৃত হন, ধন্য হব। নারীদের উদ্দেশে একটাই কথা বলব, নিজেকে দুর্বল ভেবো না। অন্যায়ের বিরুদ্ধে মুখ খোলো। বিচার মিলবেই।’

তাকে পাশে পেয়ে আপ্লুত ডিজাইনার মুনিবও। তার মতে, ‘‌দুর্ঘটনা সবার জীবনেই ঘটতে পারে। তাই বলে তো জীবন শেষ হয়ে যায় না‍‌!‌‌’‌

পঞ্চায়েতের নির্দেশে ২০০২ সালে মুখতারনের ১২ বছর বয়সী ভাই আব্দুল শাকুরকে অপহরণ করে যৌন নির্যাতন চালায় তিন ব্যক্তি। মুখ খুললে ফল ভাল হবে না বলে হুমকি দেয়। কিন্তু এলাকায় জানাজানি হলে নিযাতনের শিকার পরিবারের বিরুদ্ধে পাল্টা অভিযোগ করে অভিযুক্তরা। সেখান থেকে ঘটনাচক্রের নির্যাতনকারীদের ৪ চার জন মুখতারনকে গণধর্ষণ করে। তাতেও রেহাই মেলেনি। ধর্ষণের পর নগ্ন করে গোটা গ্রামে ঘোরানো হয় তাকে। তবে ভেঙে পড়েননি মুখতারন। থানা অভিযোগ জানান। ১৪ জন সন্দেহভাজনকে গ্রেফতার করে পুলিশ।

স্থানীয় খাপ পঞ্চায়েতই ধর্ষণের বিধান দিয়েছিল বলে অভিযোগ ওঠে। নিম্ন আদালতে মামলাটি উঠলে বেকসুর খালাস পায় ৮ জন। বাকি ৬ জনের মৃত্যুদণ্ডের নির্দেশ দেয়। ক্ষতিপূরণ বাবদ মুখতারনকে ৫ লক্ষ টাকা দেয় সরকার। সেই টাকায় গ্রামে একটি স্কুল গড়ে তোলেন তিনি। এরপরই রাজ্য ও দেশের বাইরে মুখতারনের লড়াইয়ের কাহিনী ছড়িয়ে পড়ে।

 

Print Friendly, PDF & Email
basic-bank

Be the first to comment on "র‌্যাম্পে হাঁটলেন গণধর্ষণের শিকার নারী"

Leave a comment

Your email address will not be published.


*