১০ হাজারের বেশি নয় কেন, ক্ষুব্ধ বিদেশিরাও

নিউজ ডেস্ক : টাকা থাকতেও টাকার জন্য হয়রানি শুধু দেশবাসীর নয়। নাজেহাল হতে হচ্ছে বিদেশিদের এবং প্রবাসী ভারতীয়দেরও। সিঙ্গাপুর, দুবাই, মালয়েশিয়া, ইংল্যান্ড বা আমেরিকা— কোথাও ভারতীয় টাকা পাওয়া যাচ্ছে না। যাঁরা বিদেশি মুদ্রা নিয়ে ভারতে আসছেন, এ দেশের টাকা, বিশেষত একশো টাকার নোট পর্যাপ্ত পরিমাণে পাচ্ছেন না তাঁরাও।
বিদেশ থেকে ডলার, পাউন্ড, ইয়েন, ভাট ইত্যাদি নিয়ে যাঁরা সরাসরি কলকাতায় আসছেন, তাঁরা তার বিনিময়ে ভারতীয় মুদ্রায় পাচ্ছেন বড়জোর ৯-১০ হাজার টাকা।
কলকাতা বিমানবন্দর সূত্রের খবর, ওখানে সপ্তাহে সাধারণ ভাবে ৪০-৫০ লক্ষ টাকার বিদেশি মুদ্রা বিনিময় হয়ে থাকে। পাঁচশো আর হাজার টাকার নোট বাতিলের গেরোয় গত সপ্তাহে বিনিময় হয়েছে মাত্র ২-৩ লক্ষ টাকা! যে-সংস্থা বিমানবন্দরে বিদেশি মুদ্রা বিনিময় করে, তার ভাইস প্রেসিডেন্ট অভিজিৎ দত্ত মঙ্গলবার বলেন, ‘‘সোমবার বিকেল পর্যন্ত এক-এক জন যাত্রীকে আড়াই-তিন হাজার টাকার বেশি দিতে পারিনি। পরে কিছু টাকা হাতে আসে। তাই এ দিন যাত্রী-পিছু ৯-১০ হাজার দিতে পেরেছি।’’
অনেক বিদেশি নাগরিক হাতে পাঁচশো আর হাজার টাকার নোট নিয়ে বিমানবন্দরে নামছেন। কিন্তু তাঁরাও সেই টাকা কলকাতার বিদেশি মুদ্রা বিনিময় কাউন্টারে দিতে গিয়ে সমস্যায় পড়ছেন। একশো বা নতুন দু’হাজার টাকার নোট পাচ্ছেন না। ফলে ক্ষোভ বাড়ছে তাঁদেরও।
যেমন ব্রিটিশ নাগরিক ডেল গিল কলকাতা বিমানবন্দরে নেমেই ফেটে পড়লেন ক্ষোভে। খনির যন্ত্রপাতি নিয়ে একটি আন্তর্জাতিক প্রদর্শনীতে যোগ দিতে এ শহরে এসেছেন তিনি। প্রায় প্রতি বছরই কোনও-না-কোনও কাজে তাঁকে আসতে হয় ভারতে। তাই ডেলের কাছে সব সময়েই বেশ কিছু ভারতীয় টাকা থাকে। তাঁর কথায়, ‘‘ভারত সরকারের ঘোষণা শুনে ইন্টারনেট ঘেঁটে জেনেছিলাম, এখানে যে-কোনও বিমানবন্দরের মুদ্রা বিনিময় কাউন্টারে বাতিল পাঁচশো ও হাজার টাকার নোট দিলে তা বদলে দেওয়া হচ্ছে। আমার সঙ্গে ১৩ হাজার টাকা আছে। কিন্তু কাউন্টারে তা বদলানো গেল না।’’
ডেলের মতো বিদেশিদের টাকা বদলে দেওয়া হচ্ছে না কেন?
এর জবাবে মুদ্রা বিনিময়ের নিয়মের খুঁটিনাটির কথা তোলেন অভিজিৎবাবু। জানান, যাঁরা বিদেশ থেকে ভারতে আসেন, তাঁদের কাছ থেকে বিদেশি মুদ্রা নিয়ে ভারতীয় টাকা দেওয়া হয়। কিন্তু ‘অ্যারাইভাল’ বা আসার পথে কারও কাছে ভারতীয় টাকা থাকলেও বিমানবন্দরের সংশ্লিষ্ট কাউন্টার সেই টাকা নিতে পারবে না। ভারতীয় টাকা নেওয়া হয় একমাত্র ‘ডিপারচার’ বা যাওয়ার সময়। ‘‘নোটের ঘাটতি চলায় বিদেশমুখী যাত্রীর কাছ থেকে মাথাপিছু পাঁচশো-হাজার টাকার নোটে পাঁচ হাজার টাকার বেশি নেওয়া যাচ্ছে না। তবে একশো টাকার নোট দিলে একসঙ্গে পঞ্চাশ হাজার টাকা পর্যন্ত নেওয়া যাবে,’’ বললেন অভিজিৎবাবু।
ডেলের মতো বিদেশিদের পাশাপাশি সমস্যায় পড়ছেন অমরেশ পণ্ডার মতো প্রবাসী ভারতীয়েরাও। সিঙ্গাপুরের একটি হোটেলের প্রধান পাচক অমরেশবাবু আদতে দিঘার বাসিন্দা। সিঙ্গাপুর চষে ফেলেও ভারতীয় একশো টাকার নোট পাননি তিনি। শেষ পর্যন্ত দু’লক্ষ টাকা ব্যাঙ্ক মারফত পাঠিয়ে দিয়েছেন নিজের ভারতীয় অ্যাকাউন্টে। দু’বছর পরে এ দিন তিনি যখন কলকাতায় নামলেন, হাতে মাত্র ২০ সিঙ্গাপুরি ডলার। অথচ আগে যত বার এসেছেন, সিঙ্গাপুরি ডলার ভাঙিয়ে বড় অঙ্কের ভারতীয় টাকা আনতে কোনও অসুবিধেই হয়নি। ‘‘একশো টাকার নোট পেতে কয়েক দিন ধরে সিঙ্গাপুর শহর তোলপাড় করে ফেলেছি। কিন্তু চেনা-অচেনা যত মানি-চে়ঞ্জার আছেন, সকলেই হাত উল্টে দিয়েছেন। তাঁদের কারও কাছে একশো টাকার নোট নেই। পাঁচশো বা হাজার টাকার নোটও নেই। এই ২০ ডলার ভাঙিয়ে যা পাব, সেটুকু নিয়েই দিঘা যেতে হবে,’’ অমরেশবাবুর গলায় রীতিমতো হতাশা।
দুবাই থেকে সকালে এমিরেটসের উড়ানে কলকাতায় নেমে বিপাকে পড়েছেন ফ্রান্সের ওয়াল্টার হেলম্যানও। তিনি বললেন, ‘‘দুবাই বিমানবন্দরের মুদ্রা বিনিময় কাউন্টারে কোনও ভারতীয় টাকাই নেই। আমি সেখানে কোনও টাকা ভাঙাতে পারিনি। কলকাতায় ভাঙানো গেল মাত্র একশো ডলার।’’ এই শহরে দিন সাতেক থাকার পরিকল্পনা ওয়াল্টারের। ওই সামান্য টাকায় সাত দিন! টেনশনে পড়ে গিয়েছেন তিনি। তবে ততটা চিন্তিত নন স্কটল্যান্ড থেকে আসা ডোনাল্ড চেস্টনার, ফ্রান্সের ডেভিড বা চিনের বাসিন্দা বেনি ঝাও। আগে থেকে সমস্যার কথা বুঝে তাঁরা সিদ্ধান্ত নিয়েছেন, যাবতীয় লেনদেন করবেন কার্ডের মাধ্যমেই। সামান্য যেটুকু নগদ টাকার প্রয়োজন হবে, তা হোটেলের কাছ থেকে বা চেনাজানা লোকের থেকে চেয়ে নেবেন।
সূত্র : আনন্দবাজার পত্রিকা

Print Friendly, PDF & Email
basic-bank

Be the first to comment on "১০ হাজারের বেশি নয় কেন, ক্ষুব্ধ বিদেশিরাও"

Leave a comment

Your email address will not be published.


*