নিউজ ডেস্ক : এর আগেও তিনি বলেছিলেন, বরদাস্ত করব না। দল থেকে দূর করে দেব! কিন্তু তোলা চেয়ে জুলুম, শাসানি, মারধর তাতেও থেমেছে কই! বরং পরিত্রাণের জন্য হাহাকার করে মুখ্যমন্ত্রীর সচিবালয়ে আখছার ফোন যাচ্ছে অভিযোগের। বিহিতের আর্জি নিয়ে কালীঘাটে দিদির বাড়িতেও সাত সকালে হত্যে দিচ্ছেন ব্যবসায়ী-শিল্পপতি থেকে শুরু করে সাধারণ মানুষ। আবার এ সব ব্যাপারে পুলিশি নিস্ক্রিয়তার জন্য আদালতের ভর্ৎসনাও জুটছে আদালত থেকে। রাজ্য জুড়ে তোলা চেয়ে জুলুম এ ভাবেই মহামারির আকার নেওয়ায় মঙ্গলবার ফের কড়া বার্তা দিতে বাধ্য হলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।
নবান্নে সাংবাদিক বৈঠক করে দৃশ্যত রুষ্ট মুখ্যমন্ত্রী এ দিন বলেন, ‘‘তৃণমূলের নাম করে কেউ ব্যবসা করলে মেনে নেব না। পুলিশ ও প্রশাসনকে স্পষ্ট করে দিয়েছি, কড়া হাতে গুণ্ডাদমন করতে হবে। আমার নাম করলেও রেহাই মিলবে না।’’ এখানেই থামেননি তিনি। মুখ্যমন্ত্রী বুঝিয়ে দেন, অভিযোগের সত্যতা প্রমাণিত হলে কাউকেই রেয়াত করা হবে না। তা তিনি যে-ই হোন না কেন! তাঁর কথায়, ‘‘অপরাধের কোনও জাত-ধর্ম হয় না। অপরাধীরা সব সময়ে অপরাধী।’’
শব্দের বাছাইয়ে সামান্য হেরফের হলেও ঘটনা হল, দ্বিতীয় দফায় ক্ষমতায় এসে এই কথাগুলি গত দু’মাসে কয়েক বার বলেছেন মমতা। তবে এ বার নতুন কী? তাৎপর্যপূর্ণ হল, এ দিন নবান্নে তাঁর সাংবাদিক বৈঠকে রাজ্য পুলিশের ডিজি এবং বিধাননগর ও কলকাতার পুলিশ কমিশনার ছাড়াও তৃণমূলের অন্য নেতাদের মধ্যে ছিলেন চার মূর্তি— কলকাতার মেয়র তথা আবাসনমন্ত্রী শোভন চট্টোপাধ্যায়, পুরমন্ত্রী ফিরহাদ হাকিম, পূর্তমন্ত্রী অরূপ বিশ্বাস ও বিধাননগরের মেয়র সব্যসাচী দত্ত।
সূত্রের মতে, দিদির কৌশল পরিষ্কার। কলকাতা ও সংলগ্ন শহরতলিতে তোলা-কাণ্ডে অধিকাংশ অভিযুক্তই কোনও না কোনও ভাবে এই নেতাদের আশ্রিত বলে অভিযোগ। বাস্তবে হয়তো ওই অভিযুক্তদের সঙ্গে এই নেতাদের কোনও সম্পর্কই নেই, কিন্তু এঁদের নাম ভাঙিয়েই দেদার তোলা আদায় চলছে। তা ছাড়া রাজারহাট-নিউটাউন এলাকায় সিন্ডিকেট চক্রে সব্যসাচীর যে প্রত্যক্ষ মদত রয়েছে, তা মমতার অজানা নয়। একই ভাবে টলি-পাড়ায় সিন্ডিকেট নিয়ে অরূপের বিরুদ্ধেও পরোক্ষে অভিযোগ রয়েছে। এই চার মূর্তিকে পাশে বসিয়ে মমতা আদতে তাঁদের অনুগামী ও আশ্রিতদের বার্তা দিলেন বলে মনে করছেন দলের নেতারা। একই ভাবে তাঁদের মতে, কলকাতা ও বিধাননগরের পুলিশ কমিশনার ও রাজ্য পুলিশের ডিজিকে সাংবাদিক বৈঠকে রেখে সর্বস্তরের পুলিশ অফিসার-কর্মীদের বার্তা দিয়েছেন মমতা। কারণ, বহু এলাকায় তোলাবাজির ঘটনা পুলিশ জেনেও নিষ্ক্রিয় ছিল বলে অভিযোগ। আবার তোলা-চক্রে পুলিশ সামিল থাকারও অভিযোগ রয়েছে। ঘটনাচক্রে এ দিনই তোলাবাজিতে অভিযুক্ত ভাঙড়ের তৃণমূল নেতা কাইজার আহমেদকে গ্রেফতার না করায় পুলিশকে ভর্ৎসনা করেছে আদালত।

Be the first to comment on "ফের হুঁশিয়ারি দিলেন মমতা"