নিউজ ডেস্ক:পাকিস্তানের কোয়েটাতে একটি হাসপাতালের জরুরী বিভাগে বিস্ফোরণে নিহতের সংখ্যা বেড়েই চলছে। প্রথমে ৩০ জন নিহত হয়েছেন বলে পাকিস্তানের দৈনিক ‘ডনের’ এক প্রতিবেদনে বলা হয়। তবে পরবর্তীতে সেই গণমাধ্যমের খবরে বলা হয়েছে নিহতের সংখ্যা ৫৩। পুলিশের বরাত দিয়ে সোমবার পাকিস্তানের দৈনিক ‘ডনের’ এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়। পাকিস্তানের জিও টিভির প্রতিবেদনেও মৃতের সংখ্যা ৫৩ বলা হয়েছে। সেই সাথে এই সংখ্যা বাড়তে পারে বলেও আশঙ্কার করা হয়েছে। ঘটনাটি ঘটে সোমবার বেলুচিস্তান প্রদেশে।
পাকিস্তানের দৈনিক ‘ডনের’ এক প্রতিবেদিনে আরো বলা হয়েছে, হাসপাতালের জরুরি বিভাগের প্রবেশদ্বারে এই হামলায় আরও অনেকে আহত হয়েছেন। বোমা নিষ্ক্রিয়কারী দলের সদস্যরা নিশ্চিত করেছেন, আত্মঘাতী বোমা হামলা থেকেই এই বিস্ফোরণ হয়। তবে এখন পর্যন্ত কোনো পক্ষ এই হামলার দায় স্বীকার করেনি।
বেলুচিস্তানের স্বরাষ্ট্র সচিব আকবর হারিফাল জানান, সোমবার সকালে কোয়েটাতেই অজ্ঞাত বন্দুকধারীদের গুলিতে নিহত হন বেলুচিস্তান বার অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি বিলাল আনোয়াল কাসি। ওই ঘটনার খবর পেয়ে আইনজীবী ও সাংবাদিকরা হাসপাতালে যাওয়ার পর বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে।
ঘটনাস্থলে থাকা এক সাংবাদিক বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে বলেন, অ্যাডভোকেট বিলাল আনোয়াল কাসিকে হত্যার খবর শুনে তার ৫০ জনেরও বেশি শুভাকাঙ্খী হাসপাতালের জরুরি বিভাগে যান। বিস্ফোরণে সময় তারা অ্যাডভোকেট বিলাল আনোয়ারের মরদেহের পাশেই ছিলেন। বেলুচিস্তানের জ্যেষ্ঠ পুলিশ কর্মকর্তা জহুর আহমেদ আফ্রিদি জানান, হতাহতদের বেশিরভাগই আইনজীবী। আহতদের মধ্যে বেলুচিস্তান বার অ্যাসোসিয়েশনের সাবেক সভাপতি বাজ মোহাম্মদ কাকরও রয়েছেন।
হামলার নিন্দা জানিয়ে বেলুচিস্তান প্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী সানাউল্লাহ জেহরি স্থানীয় টেলিভিশন চ্যানেল জিও নিউজকে বলেন, ভারতের গোয়েন্দা সংস্থা রিসার্চ অ্যান্ড অ্যানালাইসিস উইং (আরএডব্লিউ) বা ‘র’ কোয়েটায় এই সন্ত্রাসী হামলায় জড়িত।
বিস্ফোরণের ধরন নিশ্চিত হওয়ার আগে এবং এ ঘটনায় প্রাথমিক তদন্ত শেষ হওয়ার আগেই গণমাধ্যমে এই বিবৃতি দেন মুখ্যমন্ত্রী। তিনি বলেন, এটি একটি আত্মঘাতী হামলা বলেই প্রতীয়মান হয়েছে।
পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী নওয়াজ শরীফও এ ঘটনায় তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন। বিস্ফোরণে প্রাণহানির ঘটনায় গভীর শোক ও ক্ষোভ প্রকাশ করে এক বিবৃতিতে তিনি বলেন, নিরাপত্তাবাহিনী সদস্য, পুলিশ ও সাধারণ মানুষের অসংখ্য আত্মত্যাগে বেলুচিস্তানে যে শান্তি ফিরে এসেছে তা কাউকে নস্যাৎ করতে দেওয়া হবে না।’

Be the first to comment on "পাকিস্তানে হাসপাতালে বিস্ফোরণে বাড়ছে নিহতের সংখ্যা"