নিউজ ডেস্ক : দেড় মাস আগে বানের পানিতে আসাম থেকে ভেসে আসা হাতি ‘বঙ্গবাহাদুরের’ শেষ ঠিকানা হতে যাচ্ছে জামালপুরের সরিষাবাড়ি উপজেলার কয়রা গ্রাম।
মঙ্গলবার সকালে ওই গ্রামে হাতিটির মৃত্যু হয়। বিকালে সেখানেই হাতিটিকে মাটিচাপা দেওয়ার প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে বলে জানিয়েছেন অবসরোত্তর ছুটিতে থাকা উপ প্রধান বন সংরক্ষক তপন কুমার দে।
তিনি বলেন, হাতির ভিসেরা পরীক্ষার জন্যে নমুনা সংগ্রহ করে মহাখালীর বিশেষায়িত হাসপাতালে পাঠানো হবে। প্রয়োজনীয় নমুনা নেওয়ার পর বিকালে কয়রা গ্রামেই তাকে মাটিচাপা দেওয়া হবে।
মাটিচাপা দেওয়ার জন্য উপযুক্ত জায়গা খুঁজে বের করতে স্থানীয় চেয়ারম্যানকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে বলে তিনি জানান।
এদিকে হাতির মৃত্যুর কারণ জানতে মরদেহের ময়নাতদন্তের জন্য তিন সদস্যের একটি কমিটি করে দিয়েছেন সরিষাবাড়ি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা।
টিমের সদস্যরা হলেন-হাতি উদ্ধারকারী দলের সঙ্গে থাকা ভেটেরিনারি সার্জন ডা. মোস্তাফিজুর রহমান, ডা. নিজাম উদ্দিন ও সরিষাবাড়ী উপজেলা পশুসম্পদ কর্মকর্তা ও ভেটেরিনারি সার্জন ডা. বিদ্যুৎ কুমার শাহা।
ভারতের আসাম থেকে গত ২৬ জুন বানের জলে ভেসে কুড়িগ্রাম সীমান্ত হয়ে বাংলাদেশে আসার পর চার জেলায় চষে বেড়ায় পাঁচ টন ওজনের ওই পুরুষ হাতি।
এক মাসের বেশি সময় ধরে পিছু পিছু ঘোরার পর গত ১১ অগাস্ট ট্রাঙ্কুলাইজার দিয়ে অচেতন করে ডাঙ্গায় তোলা হয় হাতিটিকে। পায়ে শিকল ও রশি দিয়ে একটি আমগাছের সঙ্গে বেঁধে রেখে শুরু হয় সরিয়ে নেওয়ার প্রক্রিয়া। নাম দেওয়া হয় বঙ্গবাহাদুর।
পর্যাপ্ত খাবার, ঘুম ও সঙ্গীহীন অবস্থায় দুর্বল হয়ে পড়া বুনো হাতিটিকে সাফারি পার্কে ছেড়ে দেওয়ার পরিকল্পনা করছিলেন বন বিভাগের উদ্ধারকর্মীরা।
কিন্তু এরই মধ্যে রবিবার সকালে হাতিটি শেকল ছিঁড়ে ছুট দিলে আবারও ট্রাঙ্কুলাইজার দিয়ে অচেতন করা হয়। পরে হুঁশ ফিরলেও অবস্থা খারাপের দিকে যেতে থাকে। মঙ্গলবার ভোরে কয়রা গ্রামের বাদা বিলে বঙ্গবাহাদুর মারা যায়।
এদিকে, ‘বঙ্গবাহাদুর’র মৃত্যুতে এলাকাবাসীর অনেকে কান্নায় ভেঙে পড়ে। কক্সবাজারের ডুলাহাজারা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান সাফারি পার্কের ভেটেরিনারি সার্জন মোস্তাফিজুর রহমান জানান, গতকাল তাপমাত্রা বেশি থাকায় ‘বঙ্গবাহাদুর’ অসুস্থ হয়ে কাদাপানিতে পড়ে যায়। সন্ধ্যা পর্যন্ত হাতিটির শরীরে ইনজেকশনের মাধ্যমে ১২টি স্যালাইন দেওয়া হয়। হাতিটিকে সুস্থ করে তুলতে সব ধরনের চিকিৎসা ও সেবা দেওয়া হয়েছিল।
কামরাবাদ ইউনিয়নের কয়ড়া গ্রামের সাবেক ইউপি সদস্য মুকুল মিয়া বলেন, এলাকাবাসীকে সঙ্গে নিয়ে সেবা দিয়েও হাতিকে বাঁচাতে পারলাম না। আমাদের কাঁদিয়ে সে অজানার পথে পাড়ি দিয়েছে।
কয়রা গ্রামের বাসিন্দা হাজী বরকতুল্লাহ (৬০) বলেন, বানের পানিতে আমার দুই বিঘা জমির ফসল নষ্ট হয়েছে। তাতে আমার কষ্ট নেই। কিন্তু হাতিটি মরে যাওয়ায় কষ্ট পেয়েছি।
খোদেজা বেগম (৫০) বলেন, গ্রামবাসীর অনেকেই কেঁদেছে। পাঁচ দিন ধরে লোকজনের জ্বালা-যন্ত্রণা সহ্য করেছি। কিন্তু হাতি মরে যাওয়ার কান্না চেপে রাখছে পারছি না। শুভা বেগম (৩৫) বলেন, হাতিটি কারও কোনো ক্ষতি করেনি। আজ আমাদের কাঁদিয়ে চলে গেল।
কামরাবাদ ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) চেয়ারম্যান মুনসুর আলী খান বলেন, ১৯ দিন ধরে হাতিটি আমার ইউনিয়নে অবস্থান করছিল। সব ধরনের সহযোগিতা করেছি। মারা যাওয়ায় কষ্ট পেয়েছি।
হাতিটিকে গাজীপুরের বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান সাফারি পার্কে নিয়ে যাওয়ার কথা ছিল। তাকে উদ্ধারের জন্য চট্টগ্রামের কাপ্তাই থেকে দুটি বড় হাতি আনার কথা ছিল। আজ সকালেই হাতিগুলোর সরিষাবাড়ী পৌঁছানোর কথা। তার আগেই চলে গেল বঙ্গ বাহাদুর।

Be the first to comment on "বঙ্গবাহাদুরের শেষ ঠিকানা কয়রা ॥ ময়নাতদন্তের জন্য কমিটি গঠন"