নিউজ ডেস্ক : সিলেটে কলেজছাত্রী খাদিজা বেগম নার্গিসকে কুপিয়ে হত্যাচেষ্টাকারী বদরুল আলম আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন। এরপর তাকে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। বুধবার বিকেলে মহানগর অতিরিক্ত বিচারিক হাকিম আদালতে বদরুল এ জবানবন্দি দেন। বেলা আড়াইটা থেকে বিকেল চারটা পর্যন্ত তিনি জবানবন্দি দেন। তাঁর জবানবন্দি ১৬৪ ধারায় রেকর্ড করেন অতিরিক্ত বিচারিক হাকিম উম্মে সরাবন তহুরা। কোর্ট পরিদর্শক মফিজুল ইসলাম জবানবন্দি দেওয়ার বিষয়টি জানিয়েছেন।
আদালত সূত্রে জানা গেছে, স্বীকারোক্তিতে তিনি আদালতকে জানিয়েছে, ২০০৯ সালে খাদিজাদের বাড়িতে লজিং থাকতো তিনি। ওই সুয়োগে খাদিজার সঙ্গে তার ২০০৯ সাল থেকে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে উঠে।
বদরুল আদালতকে জানায়, তারা দুজন প্রতিজ্ঞা করেছিল কেউ অন্য কারো সঙ্গে সর্ম্পকে জড়াবে না এবং অন্য কাউকে বিয়ে করবে না। কিন্তু খাদিজার পরিবার বিষয়টি জানার পর এই সম্পর্ক ভেঙে যায়। এরপর তাকেও লজিং থেকে তাড়িয়ে দেয়া হয়। এরপরও বদরুল একাধিকবার সম্পর্ক পুনঃস্থাপন করতে গিয়ে ব্যর্থ হয়।
খাদিজা তাকে অপমান করায় ঘটনার দিন বদরুল আম্বরখানা এলাকা থেকে গরুর মাংস কাটার একটি চাপাতি আড়াইশ টাকা দিয়ে ক্রয় করে ব্যাগে করে এমসি কলেজে যায়। সেখানে খাদিজাকে তাদের প্রেমের প্রতিজ্ঞার কথা জানালে খাদিজা তাকে প্রত্যাখান করে সামনে এগুলে তার মাথায় রাগ উঠে যায়। এরপর ব্যাগ থেকে চাপাতি বের করে বদরুল কোপাতে থাকে।
মহানগর পুলিশের অতিরিক্ত উপ-পুলিশ কমিশনার (প্রসিকিউশন) তৌহিদুর রহমান জানান, কলেজছাত্রী খাদিজা আক্তার নার্গিসকে হত্যাচেষ্টা মামলার একমাত্র আসামি বদরুল আলম আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি শেষে আদালত তাকে জেলহাজতে পাঠানোর নির্দেশ দেন। এর পরপরই পুলিশ তাকে কড়া পাহায় সিলেট কেন্দ্রীয় কারাগারে নিয়ে যায়।
উল্লেখ্য, সোমবার বিকেলে খাদিজা বেগমকে হত্যাচেষ্টার পর জনতা পাকড়াও করে গণপিটুনি দিয়ে বদরুলকে পুলিশে সোপর্দ করে। তারপর থেকে তিনি পুলিশের হেফাজতে চিকিৎসাধীন ছিলেন।
এদিকে মুমূর্ষু অবস্থায় উদ্ধার হওয়া নার্গিস রাজধানীর স্কয়ার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। হামলাকারী বদরুল শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী এবং ছাত্রলীগের সহসম্পাদক ছিলেন। তবে ছাত্রলীগ স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে বদরুল ছাত্রলীগের কেউ নন। তাকে এরইমধ্যে বহিষ্কার করেছে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ।

Be the first to comment on "কলেজছাত্রীকে হত্যাচেষ্টা: আদালতে বদরুলের স্বীকারোক্তি"