শিরোনাম

ফেলুদাই আমার একমাত্র তৃপ্তি : সব্যসাচী

নিউজ ডেস্ক : দীর্ঘ অভিনয় ক্যারিয়ারে বিচিত্র সব চরিত্রে অভিনয় করেছেন ওপার বাংলার গুণী অভিনেতা সব্যসাচী চক্রবর্তী। সেসব চরিত্রের মাঝে সত্যজিৎ রায়ের অমর সৃষ্টি ফেলুদা চরিত্রটি সব্যসাচীকে অমর করে রেখেছে।

তাই এই বুড়ো বয়সেও ফেলুদা হিসেবে তাকেই বেছে নিয়েছেন সন্দ্বীপ রায়। কলকাতার একটি সংবাদমাধ্যমে সব্যসাচী চক্রবর্তী বললেন ফেলুদাকে নিয়ে তার ভালোলাগার কথা।
ফেলুদার ৫০ বছর উপলক্ষে নির্মিত হচ্ছে ‘ডাবল ফেলুদা’। সম্প্রতি এর পোস্টার ও ট্রেলার প্রকাশিত হয়েছে। অনুমিতভাবেই সাড়া পড়ে গেছে দর্শকমহলে। কিন্তু পাঁচ বছর আগে বয়সের কারণে স্বেচ্ছায় এই চরিত্রটি ছেড়ে দিয়েছিলেন সব্যসাচী। তার জায়গায় বাদশাহী আংটি করেছিল আবির চট্টোপাধ্যায়। ফেলুদা হিসেবে আবির খুব সফল হয়েছিল। কিন্তু পাশাপাশি গোয়েন্দা চরিত্র ব্যোমকেশ বক্সী হিসেবেও আবির সাফল্যের চুড়ায় পৌঁছে যান। দুটি জনপ্রিয় চরিত্রে এক অভিনেতাকে চাননি সন্দ্বীপ রায়। তাই আবার ফেলুদা চরিত্রে সব্যসাচীর প্রত্যাবর্তন।

কিন্তু প্রথমে নিজেও রাজি হননি সব্যসাচী। কারণ বয়সটা তো বেড়ে গেছে। তিনি নিজেই সন্দ্বীপ রায়কে পাঁচজনের নাম প্রস্তাব করেন। তারা হলেন ইন্দ্রনীল সেনগুপ্ত, প্রিয়াংশু চট্টোপাধ্যায়, টোটা রায়চৌধুরি, পরমব্রত চট্টোপাধ্যায় আর অনির্বাণ ভট্টাচার্য। কিন্তু সন্দ্বীপ রায় বলেন, ‘না হে হচ্ছে না। আসলে আমি একটু বয়স্ক ফেলুদা চাইছি যাকে দাবড়ে থমকিয়ে দেওয়া যাবে না। তুমিই ফেলুদার ভূমিকায় অভিনয় কর। ‘

আবার এই চরিত্রে ফিরে এসে কেমন লাগছে ‘ফেলুদার’? সব্যসাচী অকপটে বললেন, ”দারুণ। এটা তো আমার প্রিয় চরিত্র। একদিন নিজেই সত্যজিৎ রায়ের কাছে গিয়ে আব্দার করেছিলাম ‘ফেলুদার ভূমিকায় অভিনয় করতে চাই’। উনি বলেছিলেন, ‘সন্তোষ (‌সন্তোষ দত্ত)‌ নেই ‌, আমি আর ‘ফেলুদা’ করব না। বাবু করবে, তুমি ওর সঙ্গে যোগাযোগ কর। ‌’ এবং ফেলুদা করলাম। ”

কিন্তু পাঁচ বছর পর এই বুড়ো বয়সে কীভাবে প্রস্তুতি নিলেন? হেসে সব্যসাচী বলেন, “অভিনয় করতে হলে মানিয়ে নিতেই হবে। সে বয়স যাই হোক না কেন। কিন্তু সমস্যা হলো এই ভুঁড়িটাকে ম্যানেজ করব কী করে?‌ ডায়েট চার্ট থেকে কার্বোহাইড্রেট বাদ দিলাম। ভাত, রুটি কিচ্ছু না। প্রায় পাঁচ কেজি ওজন কমিয়ে ফেলেছি। “

সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেছিলেন ‘ডাবল ‌ফেলুদা’ ছবির পরই তিনি সিনেমা থেকে সরে যাবেন। কিন্তু সব্যসাচী একটু ঘুরিয়ে বললেন, তিনি ধীরে ধীরে সিনেমা থেকে সরে যাবেন। পাশাপাশি এটাও বললেন, ফেলুদা চরিত্রই তার অভিনয় জীবনের একমাত্র তৃপ্তি। এখন মঞ্চ নিয়ে ব্যস্ত হতে চান তিনি। আগামী বছরই তার দুটো নতুন নাটক মঞ্চে আসছে।

basic-bank

Be the first to comment on "ফেলুদাই আমার একমাত্র তৃপ্তি : সব্যসাচী"

Leave a comment

Your email address will not be published.


*