নিউজ ডেস্ক : প্রথম ম্যাচে না হলেও আজ নিউজিল্যান্ডকে বাগে পাওয়া গিয়েছিল তাদের মাটিতেই। ভাগ্যদেবীও প্রসন্ন ছিল টাইগারদের ওপর।
কম রানের মধ্যে বেঁধে ফেলা গিয়েছিল কিউইদের। বেশির ভাগ সময়ই ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ ছিল বাংলাদেশের হাতে। কিন্তু জয় থেকে যখন কেবল অর্ধেক পথ বাকি তখন হঠাৎ করেই ধস নামল বাংলাদেশের ব্যাটিং লাইনআপে! নিউজিল্যান্ডের মাটিতে প্রথমবারের মতো তাদেরকে হারানোর সহজ সুযোগ মিস করল টাইগাররা। ৬৭ রানের জয়ে ১ ম্যাচ বাকি থাকতেই সিরিজ জিতে নিল নিউজিল্যান্ড। ম্যান অফ দ্য ম্যাচ হলেন নেইল ব্রুম।
নেলসনের ব্যাটিং স্বর্গে নিউজিল্যান্ডের দেওয়া ২৫২ রানের মাঝারি টার্গেটে ব্যাট করতে নেমে দলীয় ৩০ রানেই ওপেনার তামিম ইকবাল বিদায় নেন। ২৩ বলে ৩ বাউন্ডারিতে ১৬ রানের ইনিংসটি শেষ হয় টিম সাউদির বলে ল্যাথামের হাতে ধরা পড়ে। কম রানের মধ্যে উইকেট পতন হলে এমনিতেই চাপে পড়ে যায় দল। বাংলাদেশও সেই চাপে পড়েছিল। তবে ইমরুল কায়েস এবং সাব্বির রহমানের প্রতিশ্রুতিশীল ব্যাটিংয়ে বিপদ এড়ায় বাংলাদেশ। দুজন মিলে গড়েন ৭৫ রানের জুটি। এরপর ইমরুলের সাথে ভুল বোঝাবুঝির কারণে দৃষ্টিকটুভাবে রান আউট হয়ে ফিরে যান সাব্বির রহমান (৩৮)।
মিচেল স্যান্টনারের বলটা শর্ট কভারে ঠেলে দৌড় দিয়েছিলেন ইমরুল। কিন্তু রান নেওয়া সম্ভব নয় দেখে ঘুরে নিজের প্রান্তে ছুটলেন সাব্বির। কায়েস কিন্তু থামেননি। বরং উসাইন বোল্টের গতিতে ছুটলেন নন-স্ট্রাইকিং প্রান্তে। তার দৌঁড়ের কাছে হার মেনে ননস্ট্রাইক প্রান্তে থেকেও রান আউট হলেন সাব্বির! এরপর সাব্বিরের চোখে যে বিস্ময় আর ক্ষোভ দেখা যাচ্ছিল সেটা নিশ্চয়ই ছড়িয়ে গিয়েছিল দর্শকদের মনেও! এরপরই মূলত ধস নামে বাংলাদেশের ইনিংসে।
সাব্বিরের অদ্ভূতুড়ে আউটের পর ইমরুল কায়েসের সঙ্গে জুটি বাঁধতে ক্রিজে আসেন মহাবিপদে যার ব্যাট জ্বলে ওঠে, সেই মাহমুদ উল্লাহ রিয়াদ। কিন্তু আশ্চর্যজনক ভাবে মাত্র ১ রান করে ফার্গুসনের বলে বোল্ড হয়ে যান ঠাণ্ডা মাথার এই ক্রিকেটার। এরপরই ক্যারিয়ারের ১৩তম হাফ সেঞ্চুরি তুলে নেন ইমরুল কায়েস। কিন্তু ভাগ্যদেবী মুখ ফিরিয়ে নিয়েছে তখন। মাত্র ১৩ রানের মধ্যে ফিরে যান বিশ্বসেরা অল-রাউন্ডার সাকিব আল হাসান (৭), মোসাদ্দেক হোসেন (৩), ইমরুল কায়েস (৫৯) আর অভিষিক্ত তানভীর হায়দার (২)। প্রথম ম্যাচে দারুণ খেলা মোসাদ্দেক স্রেফ একটা বাজে শট খেলে উইলিয়ামসনের দ্বিতীয় শিকারে পরিণত হন।
মোসাদ্দেকের বিদায়ের পর ইমরুল কায়েসও আর বেশিক্ষণ লড়াই চালিয়ে যেতে পারেননি। ৮৯ বলে ৬ বাউন্ডারিতে দলের সর্বোচ্চ ৫৯ রান করে তিনি টিম সাউদির শিকার হন। ১ উইকেটে ১০৫ রান থেকে ১৪১ রানে নেই ৭ উইকেট! বাংলাদেশের ব্যাটিয়ের এমন করুণ দশা শেষ কবে দেখা গেছে বলতে পারেন?
ম্যাচের এই অবস্থায় নিউজিল্যান্ডের জয় কেবলই সময়ের ব্যাপার ছিল। শেষ পর্যন্ত সেটাই হলো। ৪২.৪ ওভারে ১৮৪ রানেই শেষে হলো বাংলাদেশের ইনিংস। ৩১ ডিসেম্বর শনিবার বাংলাদেশ সময় ভোর ৪টায় এই নেলসনেই অনুষ্ঠিত হবে সিরিজের তৃতীয় তথা সর্বশেষ ওয়ানডে। টাইগারদের সামনে এখন হোয়াইটওয়াশের লজ্জা এড়ানোর চ্যালেঞ্জ।
এর আগে নেলসনের মেঘলা আবহাওয়ায় সিরিজে ফেরার ম্যাচে নিউজিল্যান্ডকে ভালোভাবেই চেপে ধরে বাংলাদেশ। গ্যালারি থেকে ‘বাংলাদেশ বাংলাদেশ’ আওয়াজের সাথে সাথে জ্বলে উঠল টাইগাররা। অধিনায়ক মাশরাফি বিন মুর্তজা এ দিন সামনে থেকে নেতৃত্ব দিলেন বোলিংয়েও। ২৮০-২৯০ রানকে যখন ‘নিরাপদ’ স্কোর ভাবা হচ্ছিল সেখানে ২৫১ রান তো সহজ লক্ষ্য! বোলাররা তাদের কঠিন কাজটা সহজে করে দেখালেন। এবার পালা ব্যটসম্যানদের।
সেক্সটন ওভালে অনুষ্ঠিত দ্বিতীয় ওয়ানডেতে টসে জিতে স্বাগতিকদের ব্যাট করতে পাঠায় বাংলাদেশ। কিউইদের স্কোর বোর্ডে কোনো রান যোগ না হতেই মাশরাফি বিন মুর্তজার শিকার হন মারকুটে ওপেনার মার্টিন গাপটিল (০)। দলীয় ৩৭ রানে তাসকিনের বলে সাকিবের হাতে ধরা পড়েন কেন উইলিয়ামসন (১৪)। এরপর নিয়মিত বিরতিতেই উইকেট হারাতে থাকে নিউজিল্যান্ড। একসময় ১০৭ রানে ৫ উইকেট হারিয়ে বসে স্বাগতিকরা। টিম সাউদি (৩) এবং আগের ম্যাচের সেঞ্চুরিয়ান ল্যাথামকে (২২) ফেরত পাঠান সাকিব। তাসকিনের দ্বিতীয় শিকারে পরিণত হন লুক রঞ্চি (৩৫)।
এ দিন মোসাদ্দেক হোসেন এবং অভিষিক্ত তানভীর হায়দার ছাড়া সবাই কৃপণ বোলিং করেছেন। মোসাদ্দেক ২ ওভারে ১২ রান দিয়ে ১ উইকেট তুলে নেন। এরপর অবশ্য মাশরাফি তাকে আর বল দেননি। অন্যদিকে তানভীর ৮ ওভার বল করে ৪৭ রান দেন। মাশরাফি ৩টি, সাকিব-তাসকিন ২টি করে এবং শুভাশিস রায় ১টি উইকেট নেন। সাকিব, তাসকিন, শুভাশিসের ইকোনোমি রেট ছিল সমান, ৪.৫০। আর মাশরাফির সামান্য বেশি, ৪.৯০।
এই বোলিং তোপের মুখেও উইকেটের একপ্রান্ত কামড়ে ধরে ছিলেন কিউই দলে ফেরা নেইল ব্রুম। দলের সবার বিপরীতে ব্যাট চালিয়ে সেঞ্চুরি পূরণ করেন তিনি। ১০১ বলে ৭ বাউন্ডারি এবং ৩ ওভার বাউন্ডারিতে তিনি ৩ অংকে পৌঁছান। শেষ পর্যন্ত ১৭ বলে ১০৯ রান করে অপরাজিত থাকেন। তার ইনিংসে যুক্ত হয় আরও একটি বাউন্ডারি। নিউজিল্যান্ডের হয়ে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ রান করেন লুক রঞ্চি। তিনি ৩৮ বলে ৪ বাউন্ডারি এবং ১ ওভার বাউন্ডারিতে ৩৫ রান করেন। এ ছাড়া নিশাম করেন ২৮ রান।
কিন্তু এতসব ‘ভালো’র মাঝে কিছু খারাপ থাকবে না সে কি হয়? তাই বরাবরের মতো দেখা গেল মিসফিল্ডিং। এর মধ্যেই অভিষিক্ত নুরুল হাসান ৩টি ক্যাচ নিলেন, শেষ বলে রান আউট করে অল আউট করলেন কিউইদের। তবে মিসফিল্ডিংগুলো না হলে রান হয়ত আরও কম হতো। কিন্ত নিউজিল্যান্ডের ব্যাটিং স্বর্গে যা হয়েছে সেটাই বা খারাপ কীসের? তবু এই কম রানই অনেক ‘বড়’ হয়ে উঠল ব্যাটিং ব্যর্থতায়!

Be the first to comment on "ইতিহাস গড়ার সহজ সুযোগ হাতছাড়া করল টাইগাররা!"