নড়াইল প্রতিনিধি ॥ নড়াইলে মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে স্বীকৃতি পেতে অনেক ভুয়া আবেদন জমা পড়েছে বলে জানিয়েছে যাচাই-বাছাই কমিটি। এর মধ্যে অনেকেই মুক্তিযুদ্ধের সর্বাধিনায়ক এম জি ওসমানীর জাল সনদও জমা দিয়েছেন। নড়াইলের কালিয়া উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা যাচাই-বাছাই কমিটির অন্যতম সদস্য জাতীয় মুক্তিযোদ্ধা কাউন্সিল (জামুকা) প্রতিনিধি বি এম ইকরামুল হক বলেন, নতুন আবেদনকারী ব্যক্তিদের মধ্যে বেশির ভাগই জেনারেল ওসমানীর সনদ জমা দিয়েছেন। এর অধিকাংশই ভুয়া। কম্পিউটার থেকে ওসমানীর নামে কড়কড়ে সনদ তৈরি করে জমা দিয়েছেন। এ সনদÑকোথায় পেয়েছেন সাক্ষাৎকারে এমন প্রশ্নের উত্তর মিলছে না। নতুন আবেদনকারী ব্যক্তিদের ৫ শতাংশও টিকবেন না। কালিয়া উপজেলায় প্রশাসন সূত্র জানায়, নড়াইলের কালিয়ায় বর্তমানে ভাতাভোগী মুক্তিযোদ্ধার সংখ্যা ৭৫৬। আরও ৮৪৫ জন নতুন আবেদন করেছেন। গত ২১ জানুয়ারি থেকে উপজেলায় মুক্তিযোদ্ধা যাচাই-বাছাই শুরু হয়েছে। এ জন্য মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয় সাত সদস্যের কমিটি করে দিয়েছে। প্রায় প্রতিদিনই সাক্ষাৎকার নেওয়া হচ্ছে। নড়াইলের উপজেলা কমিটির সভাপতি মোল্যা ইমদাদুল হক, সদস্যসচিব নড়াইলের কালিয়া উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো: কামরুল ইসলাম। সদস্য মজিবর রহমান, সৈয়দ সামসুল আলম, শেখ তরিকুল আলম, চৌধুরী শাহাবুদ্দিন ও বি এম ইকরামুল হক। যাচাই-বাছাই কমিটির সভাপতি বলেন, ‘তখন স্বাধীনতা বিরোধী, হিন্দুদের বাড়ি লুট করেছেন, সেনাবাহিনীতে চাকরি করে পাকিস্তানে অবস্থান করেছেন এমন অনেকে মুক্তিযোদ্ধা হতে আবেদন করেছেন। একাত্তরে মুক্তিযোদ্ধাদের বিভিন্ন ভাবে সহযোগিতা করেছেনÑএমন ব্যক্তিরাও মুক্তিযোদ্ধা হতে চাইছেন। রাষ্ট্রীয় বিশেষ সুবিধার সুযোগ নিতেই এসব চেষ্টা। তবে নীতিমালা অনুযায়ীই আমরা কাজ করবো।’ গত বুধবার নড়াইলের কালিয়া মুক্তিযোদ্ধা ভবনে ইলিয়াছাবাদ ও সালামাবাদ ইউনিয়ন এবং পৌর এলাকার নতুন আবেদনকারী ব্যক্তিদের সাক্ষাৎকার নেওয়া হয়। সেখানে গিয়ে দেখা যায়, কেউ নিজেকে, আবার কেউ বাবা বা স্বামীকে মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে তালিকাভুক্ত করতে সাক্ষাৎকার দিতে এসেছেন। এ সময় কয়েকজন মুক্তিযোদ্ধা এ প্রতিনিধির কাছে নতুন আবেদনকারী ভুয়া ব্যক্তিদের তালিকা দেন। তা ঘেঁটে দেখা গেছে, এর মধ্যে বেশ কয়েকজন প্রভাবশালী ব্যক্তি রয়েছেন। নাম প্রকাশ না করার শর্তে একজন মুক্তিযোদ্ধা বলেন, এসব লোক মুক্তিযোদ্ধা হওয়া মানে প্রকৃত মুক্তিযোদ্ধাদের অপমান করা। জেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদের কমান্ডার এম এম গোলাম কবির বলেন, ‘শুধু ওসমানীরই নয়, মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম সংগঠক লেফটেন্যান্ট মতিউর রহমানের সইসহ যেসব সনদ জমা পড়ছে, তার বেশির ভাগই ভুয়া। তবে আমরা শক্ত অবস্থানে, কোনো তদবিরে কাজ হবে না।’যাচাই-বাছাই কমিটির সদস্য সচিব ও কালিয়া উপজেলার নির্বাহী অফিসার জানান, ৬ ফেব্রুয়ারি কালিয়ায় সাক্ষাৎকার নেওয়া শেষ হবে। এরপর কমিটির সদস্যদের সর্বসম্মত বিবেচনা, সর্বসম্মত বাদ ও দ্বিধাবিভক্ত এই তিনটি তালিকা করে জামুকায় পাঠানো হবে।
নড়াইলে মুক্তিযোদ্ধা যাচাই-বাছাই ॥ ভুয়া আবেদন ও জাল সনদ দাখিল
নড়াইলে মুক্তিযোদ্ধা যাচাই-বাছাই ॥ ভুয়া আবেদন ও জাল সনদ দাখিল
Be the first to comment on "নড়াইলে মুক্তিযোদ্ধা যাচাই-বাছাই ॥ ভুয়া আবেদন ও জাল সনদ দাখিল"