শিরোনাম

ছাত্রলীগের ৫ লাখ টাকা করে চাঁদা দাবি!

নিউজ ডেস্ক : যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (যবিপ্রবি) ফিসারিজ অ্যান্ড মেরিন বায়োসায়েন্স বিভাগে প্রভাষক পদে চাকরি প্রত্যাশীদের কাছে চাঁদা দাবির অভিযোগ উঠেছে বিশ্ববিদ্যালয় শাথা ছাত্রলীগের বিরুদ্ধে। যারা প্রভাষক পদে নিয়োগ পাবেন তাদেরকে পাঁচ লাখ টাকা করে দিতে হবে বলে অঙ্গীকার করিয়ে নেন ছাত্রলীগ নেতা-কর্মীরা।
প্রভাষক পদে পরীক্ষা দিতে আসা প্রার্থীদের পরীক্ষার হল থেকে ডেকে নিয়ে সংগঠনটির নেতারা এ চাঁদা দাবি করেন বলে অভিযোগ করেছেন একাধিক চাকরি প্রত্যাশী। এ কাজে বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগের সভাপতি সুব্রত বিশ্বাস নেতৃত্ব দিয়েছেন বলেও অভিযোগ করেন চাকরি প্রত্যাশীরা। তবে সুব্রত বিশ্বাস তার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ অস্বীকার করেছেন।
শনিবার (১১ ফেব্রুয়ারি) যবিপ্রবির ফিসারিজ অ্যান্ড মেরিন বায়োসায়েন্স বিভাগের প্রভাষক পদে নিয়োগ পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়। দুইটি পদের বিপরীতে পরীক্ষায় ১৭ জন চাকরি প্রত্যাশী পরীক্ষায় অংগ্রহণ করে। আবেদকারী ছিলো ৩২ জন। পরীক্ষা সকাল ১০ টায় শুরু হওয়ার কথা থাকলেও তা শুরু হয় বেলা সাড়ে ১১টার পর। পরীক্ষায় অংশ নিতে আসা প্রার্থীরা জানান, পরীক্ষা শুরু পূর্বে তাদের পরীক্ষা হল থেকে বের করে দেওয়ার কারণে নির্ধারিত সময়ে পরীক্ষা শুরু হয়নি।
চাকরি প্রত্যাশী ও সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, প্রভাষক পদে চাকরি প্রত্যাশীরা ১১ ফেব্রুয়ারি বিশ্ববিদ্যালয়ের পাঁচ তলায় চ্যান্সেলরের সম্মেলন কক্ষে সকাল ১০টার পূর্বেই পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করার জন্য উপস্থিত ছিলেন। লিখিত পরীক্ষা শুরুর আগ মুহূর্তে বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগের সভাপতি সুব্রত বিশ্বাসের নেতৃত্বে ১৫-২০ জন কর্মী পরীক্ষায় অংশ নিতে আসা ১৭ জন প্রার্থীকে ভবনের নিচে ডেকে নিয়ে যায়। এ সময় পরীক্ষা নিতে আসা বিশ্ববিদ্যালয়ের চ্যান্সেলর রাষ্ট্রপতির দুইজন প্রতিনিধিও উপস্থিত ছিলেন।
চাকরি প্রত্যাশীরা অভিযোগ করেন, তাদের নিচে ডেকে নিয়ে গিয়ে পরীক্ষা না দেওয়ার জন্য ভয়ভীতি দেখানো হয়। এক পর্যায়ে চাকরি হলে প্রতি প্রার্থীকে ‘পাঁচ লাখ টাকা করে দিতে হবে’ বলে অঙ্গীকার করিয়ে নেন ছাত্রলীগ নেতা-কর্মীরা।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন চাকরি প্রত্যাশী জানান, ‘তারা (ছাত্রলীগের নেতারা) ভয়ভীতি দেখিয়েছে এবং চাকরি হলে পাঁচ লাখ টাকা দেওয়ার জন্য বলেছে। বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষকে বিষয়টি জানিয়েছি।’
এ প্রসঙ্গে বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগের ছাত্রলীগ সভাপতি ও ফিসারিজ অ্যান্ড মেরিন বায়োসায়েন্সের শিক্ষার্থী সুব্রত বিশ্বাস তার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ অস্বীকার করেছেন।
সুব্রত বলেন, ‘পরীক্ষা দিতে আসা প্রার্থীদের বের করে নিয়ে যাওয়া বা টাকা দাবির কোনো ঘটনা ঘটেনি। নিয়োগ পরীক্ষার হলে ফিসারিজ ডিপার্টমেন্টের শিক্ষার্থীরা গিয়েছিল। তাদের দাবি ছিল, ফিসারিজ ডিপার্টমেন্ট থেকেই যেন শিক্ষক নিয়োগ দেওয়া হয়। প্রথমে আমি ঘটনাস্থলে ছিলাম না। ঝামেলা হওয়ার খবর পেয়ে আমি ঘটনাস্থলে যাই।’
টাকা দাবির বিষয়ে তিনি বলেন, ‘আমি বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের সভাপতি। এমন কোনো কাজ আমায় দিয়ে সম্ভব না।’
বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. আব্দুস সাত্তার বলেন, ‘প্রভাষক পদে পরীক্ষা দিতে আসা প্রার্থীদের কার নেতৃত্বে নিয়ে যাওয়া হয়েছে- বিষয়টি আমার কাছে স্পষ্ট না। তবে, সকাল ১০টায় যথাসময়ে পরীক্ষা নেওয়া সম্ভব হয়নি। ঘণ্টাখানেক পর ক্যান্ডিডেটরা উপস্থিত হন। সে কারণে দেরি করেই তাদের লিখিত ও ভাইভা পরীক্ষা নিতে হয়েছে।’
প্রার্থী কিংবা অন্য কেউ কোনো বিষয়ে অভিযোগ করেননি বলেও জানান উপাচার্য।

basic-bank

Be the first to comment on "ছাত্রলীগের ৫ লাখ টাকা করে চাঁদা দাবি!"

Leave a comment

Your email address will not be published.


*