নিউজ ডেস্ক : মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের তদন্ত শেষ না হওয়ায় মুক্তিযোদ্ধার সন্তান ও নাতি-নাতনির কোটায় ৬৫৫ নিয়োগপত্র ঝুলে আছে অগ্রণী ব্যাংকে। যদিও মন্ত্রণালয় বলছে, তারা নিয়োগপত্রের পরও তদন্ত করবে, কিন্তু ব্যাংক তদন্ত শেষেই নিয়োগপত্র দিতে চায়।
মুক্তিযোদ্ধার নাতি-নাতনির কোটায় ২০১৫ সালে ‘সিনিয়র অফিসার’ পদে নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি দেয় অগ্রণী ব্যাংক। সব প্রক্রিয়া শেষে নিয়োগের জন্য ২০১৬ সালের ২৪ আগস্ট ৬৫৫ জনকে চূড়ান্তভাবে বাছাই করে প্রতিষ্ঠানটি। বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী পুলিশ ভেরিফিকেশন ও মুক্তিযোদ্ধা মন্ত্রণালয়ের তদন্ত শেষে নিয়োগপত্র ইস্যু করা হবে।
জানা গেছে, ৬৫৫ জন চাকরিপ্রার্থীর পুলিশি তদন্ত ইতিমধ্যে শেষ হয়েছে। কিন্তু মুক্তিযোদ্ধা মন্ত্রণালয়ের তদন্তকাজটি হয়নি এখনো। এ ক্ষেত্রে অবশ্য অন্য আরো প্রতিষ্ঠানের ক্ষেত্র দেখা যাচ্ছে প্রবল অসংগতি। সমসাময়িক নিয়োগ পরীক্ষায় বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক ও জিটিসিএলে মুক্তিযোদ্ধা মন্ত্রণালয়ের তদন্ত ছাড়াই নিজ নিজ কর্মস্থলে ইতিমধ্যে যোগদান করেছেন চাকরিপ্রার্থীরা।
কিন্তু অগ্রণী ব্যাংকের ৬৫৫ জন চাকরিপ্রার্থীর ভাগ্যে শিকে ছিঁড়ছে না। ফলে তারা পড়েছেন এক বিড়ম্বনায়। এই ব্যাংকে নিয়োগের আশায় অনেকে সরকারি-বেসরকারি চাকরিতে পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়েও তাতে যোগদান করেননি। এমনকি অগ্রণী ব্যাংকে চূড়ান্ত বাছাইয়ের পর অনেকে তাদের সরকারি-বেসরকারি চাকরি ছেড়ে দিয়ে এখন বেকার জীবন যাপন করছেন।
অগ্রণী ব্যাংকের এই নিয়োগের বৈধতা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছিল একটি পক্ষ। ২০১৬ সালে এর বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে হাইকোর্টে একটি রিট করেন মুক্তিযোদ্ধার সন্তানরা। (যার নম্বর ১৩৮৮৯/১৬) কারণ হিসেবে তারা বলেছিলেন, মুক্তিযোদ্ধার সন্তানদের উপেক্ষা করে মুক্তিযোদ্ধাদের কিছু নাতি-নাতনিকে নির্বাচন করা হয়েছে। পরে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, চাকরি পরীক্ষায় অকৃতকার্য মুক্তিযোদ্ধা সন্তানরা তৃতীয় কোনো পক্ষের প্ররোচনায় আদালতে রিট করে চাকরির নিয়োগ প্রক্রিয়াকে বিলম্ব করার চেষ্টা করেছেন।
বাংলাদেশ ব্যাংকার্স সিলেকশন কমিটির সচিবালয়ের (বিএসসিএস) অফিসে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, তারা সরাসরি নিয়োগের ক্ষেত্রে জেলা কোটা নীতিমালা, নিয়োগ কোটা নীতিমালা এবং জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের সব নিয়ম মেনে তাদের নিয়োগ দেওয়া হয়। বিএসসিএস সূত্র আরো জানায়, তারা নিয়োগ প্রক্রিয়ায় প্রথমে মুক্তিযোদ্ধার সন্তানদের নিয়োগ দেন। যেহেতু প্রতিটি নিয়োগ জেলা কোটা (নম্বর সমবিধি-১) এস-০৯-২০০৯-৪৪২ অনুসরণ করার কথা বলা হয়েছে, কাজেই জেলা কোটা পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে অনুসরণ করা হয়েছে।
চলতি বছরের ৬ ফেব্রুয়ারি হাইকোর্ট রিট আবেদনটি ভিত্তিহীন হিসেবে খারিজ করে দিয়ে স্থিতাবস্থা প্রত্যাহার করে নেন। কিন্তু তার পরও নিয়োগপত্র পাচ্ছেন না ওই ৬৫৫ জন চাকরিপ্রার্থী। তাদের নিয়োগপত্র আটকে আছে মুক্তিযোদ্ধা মন্ত্রণালয়ের তদন্তের অপেক্ষায়। অগ্রণী ব্যাংক মুক্তিযোদ্ধা মন্ত্রণালয়ের তদন্ত শেষ করেই চূড়ান্ত নিয়োগপত্র দেবে। খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, বর্তমানে মুক্তিযোদ্ধা মন্ত্রণালয়ে ১৬ হাজার জন চাকরিপ্রার্থীর তদন্ত জমে রয়েছে।
তবে মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয় বলছে, অগ্রণী ব্যাংক চাইলে নিয়োগপত্র দিতে পারে ওই চাকরিপ্রার্থীদের। একটি প্রজ্ঞাপনে মন্ত্রণালয় বলেছে, অগ্রণী ব্যাংকের ৬৫৫ জন প্রার্থীর নিয়োগপত্র দেওয়ার পর মন্ত্রণালয় তাদের তদন্ত সম্পন্ন করবে।
এ ব্যাপারে জানতে চাইলে অগ্রণী ব্যাংকের মহাব্যবস্থাপক শামসুল ইসলাম বলেন, ‘মুক্তিযোদ্ধা মন্ত্রণালয়ের তদন্ত শেষেই নিয়োগ দেওয়া হবে। যদিও মন্ত্রী মহোদয় ডিও লেটার দিয়েছেন, সে ক্ষেত্রে আমরা সবকিছু চিন্তা-ভাবনা করছি। যদি মুক্তিযুদ্ধ মন্ত্রণালয়ের লোকবল কম থাকে, তাহলে আমরা তাদের লোকবল দিয়ে তদন্তকাজে সহযোগিতা করতে রাজি আছি।

Be the first to comment on "অগ্রণী ব্যাংকে ঝুলছে ৬৫৫ মুক্তিযোদ্ধা পরিবারের ভাগ্য"