নিউজ ডেস্ক : ভারত নিয়ন্ত্রিত কাশ্মিরে ভারতীয় সেনা বাহিনীর দফতরে হামলার জন্য পাকিস্তানভিত্তিক জঙ্গি সংগঠন জয়েশ-ই-মোহাম্মদকেই সন্দেহ করছে ভারতীয় কর্তৃপক্ষ। এর আগে চলতি বছরের প্রথমদিকে পাঞ্জাবের পাঠানপকোটে ভারতের বিমানঘাঁটিতে হামলার জন্যও ওই সশস্ত্র সংগঠনটিকে দায়ী করেছিল ভারত।
প্রাথমিক তদন্তের পর দায়িত্বশীল সেনা কর্মকর্তা ডিরেক্টর জেনারেল অব মিলিটারি অপারেশনস (ডিজিএমও) লেফটেন্যান্ট জেনারেল রণবীর সিং বলেন, “ওই হামলার পেছনে রয়েছে বিদেশি সন্ত্রাসীরা। আমাদের প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে হামলার পেছনে জয়েশ-ই-মোহাম্মদের হাত রয়েছে। চারটি একে-৪৭, চারটি আন্ডার ব্যারেল গ্রেনেড লঞ্চার এবং অন্যান্য যুদ্ধ সরঞ্জাম ছিল তাদের কাছে, যা চার নিহত ‘সন্ত্রাসী’র কাছ থেকে উদ্ধার করা হয়েছে। সব সমরাস্ত্রেই পাকিস্তানের চিহ্ন রয়েছে।”
রণবীর সিং আরও জানান, যে কোনও পরিস্থিতি মোকাবিলার জন্য ভারতীয় সেনাবাহিনী প্রস্তুত রয়েছে। হামলাকারীরা অটোম্যাটিক রাইফেল এবং ছোট আগেনেয়াস্ত্র দিয়ে হামলা চালায় এবং সেনা সদস্যদের তাঁবু এবং অস্থায়ী ঘাঁটিতে আগুন ধরিয়ে দেয়।
তিনি আরও বলেন, ‘হামলায় মোট ১৭ সেনা সদস্য নিহত হয়েছেন। এর মধ্যে তাঁবুতে আগুন লাগানোর জন্য ১৩-১৪ জন নিহত হন।
ভারতীয় সেনাবাহিনীর উত্তরাঞ্চলীয় কমান্ডের বিবৃতি থেকে জানা যায়, ১৮ সেপ্টেম্বর (রবিবার) ভোর সাড়ে পাঁচটার দিকে ভারি অস্ত্র-শস্ত্রে সজ্জিত একদল লোক কাশ্মিরের উরিতে লাইন অব কন্ট্রোলের নিকটে সামরিক বাহিনীর একটি প্রশাসনিক স্থাপনায় হামলায় চালায়। ওই হামলায় ১৭ সেনা সদস্য ও ৪ হামলাকারী নিহত হন।
তবে এখনও পর্যন্ত কোনও সংগঠনের পক্ষ থেকে ওই হামলার দায় স্বীকার করা হয়নি।
হতাহতদের হেলিকপ্টারে করে রাজধানী শ্রীনগরে সেনা হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে। হামলার পর উরির দোকানপাট সব বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। পুরো শহরে যান চলাচল বন্ধ আছে।
প্রতিরক্ষামন্ত্রী মনোহর পারিকর ও ভারতীয় সেনাবাহিনী প্রধান জেনারেল দলবির সিং কাশ্মিরে গেছেন। দিল্লিতে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় আহত সেনা সদস্যের সংখ্যা ৩৫ বলে জানিয়েছে।
এর আগে চলতি বছরের ২ জানুয়ারি পাঞ্জাবের পাঠানকোট বিমান ঘাঁটিতে হামলা চালানো হয়েছিল। ওই ঘটনায় ৬ হামলাকারী আর নিরাপত্তা বাহিনীর ৭ সদস্য নিহত হন। ঘটনার পর থেকেই হামলার পেছনে পাকিস্তানে নিষিদ্ধ ঘোষিত জঙ্গি সংগঠন জয়েশ-ই-মোহাম্মদকেই দায়ী করে আসছে ভারত। এই সংগঠনের বিরুদ্ধে দ্রুত ও কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি তুলেছেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। তবে পাকিস্তানের পক্ষ থেকে বলা হয়েছিল, সুনির্দিষ্ট প্রমাণ সাপেক্ষেই ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
পরে পাকিস্তানের যৌথ বাহিনী পাঠানকোটে তদন্ত চালিয়ে ঘোষণা দেয়, এই হামলার সঙ্গে মাসুদ আজহারের কোনও রকম সংশ্লিষ্টতার বিষয়ে এখনও নিশ্চিত হওয়া যায়নি। ভারতের তদন্ত কর্মকর্তারা জয়েশ-ই-মোহাম্মদ প্রধান মওলানা মাসুদ আজহারকেই হামলার মূল সন্দেহভাজন বলে মনে করে। ভারতীয় কর্তৃপক্ষ দাবি করেছিল, মাসুদ আজহার ও তার ভাই আব্দুল আসগর রউফ পাঠানকোট হামলার সঙ্গে সরাসরি সম্পৃক্ত।
মওলানা মাসুদ আজহারকে ১৯৯৯ সালে ভারতের একটি কারাগার থেকে মুক্তি দেওয়া হয় ও পাকিস্তানে ফিরিয়ে দেওয়া হয়। ছিনতাইকৃত বিমান আইসি ৮১৪ এর জিম্মি করা যাত্রীদের বিনিময়েই তাকে মুক্তি দেয় ভারত সরকার।
পরে ভারতের পাঞ্জাবের পাঠানকোট বিমানঘাঁটিতে হামলার দায় স্বীকার করে একটি কাশ্মিরি বিদ্রোহী সংগঠন। সোমবার কাশ্মিরি ‘স্বাধীনতা যোদ্ধা’রা এই আক্রমণ চালিয়েছে বলে দাবি করে।
ইউনাইটেড জিহাদ কাউন্সিলের মুখপাত্র সৈয়দ সাদাকাত হোসাইন জানান, ‘এই হামলা ছিল ভারতের জন্য সতর্ক বার্তা।’ তিনি আরও বলেন, ‘পাঠানকোট বিমানঘাঁটিতে হামলা চালিয়েছে ন্যাশনাল হাইওয়ে স্কোয়াডের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট মুজাহিদিনরা।’
সৈয়দ সাদাকাত হোসাইন তখন আরও বলেন, ‘ভারতের সরকার ও গণমাধ্যম এই হামলার দায় পাকিস্তানের ওপর চাপিয়ে দিতে চাইছে কারণ তারা পাকিস্তানভীতিতে ভুগছে। এভাবে কাশ্মিরের মুক্তিকামী মানুষের সংগ্রামকে প্রতিহত করা যাবে না।’
সূত্র: ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস, এনডিটিভি, টাইমস অব ইন্ডিয়া।

Be the first to comment on "কাশ্মিরের হামলার নেপথ্যে পাকিস্তানি জঙ্গি সংগঠন: ভারতীয় কর্তৃপক্ষ"