শিরোনাম

জামিন প্রত্যাখ্যান মোসাক ফনসেকা প্রধানের

নিউজ ডেস্ক : গ্রেপ্তারের পর জামিন প্রত্যাখ্যান করেছেন বহুল আলোচিত পানামা পেপারস কেলেঙ্কারির মূল হোতা এবং মোসাক ফনসেকার প্রতিষ্ঠাতা। বৃহস্পতিবার পানামা সিটি থেকে এক সহযোগীসহ গ্রেপ্তারের পর তাদের নিরাপত্তা হেফাজতে নেওয়া হয়।

গ্রেপ্তাকৃতরা হচ্ছেন মোসাক ফনসেকার প্রতিষ্ঠাতা জার্গেন মোসাক এবং তার সহকর্মী র্যামন ফনসেকা। ব্রাজিলের বহুল আলোচিত লাভা জাতো কেলেঙ্কারির ঘটনায় তাদের গ্রেপ্তার করা হয়। দুইজনের আইনজীবীদের পক্ষ থেকে তাদের নিরাপত্তা হেফাজতে থাকার কথা নিশ্চিত করা হয়েছে।

র্যামন ফনসেকা-র আইনজীবী হিসেবে কাজ করছেন ইলিয়াস সোলানো। নিজের মক্কেলের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ নাকচ করে দিয়েছেন তিনি। ইলিয়াস সোলানো বলেন, এসব অভিযোগ দুর্বল। এসবের অসারতা প্রমাণ করা খুব কঠিন কিছু নয়।

জার্গেন মোসাক-এর আইনজীবী মারলিন গুয়েরা সাংবাদিকদের বলেন, তিনি জামিন প্রত্যাখ্যান করেছেন। তিনি জানান, গ্রাহকদের অর্থনৈতিক সামর্থ্যের কারণে তার মক্কেলের দেশত্যাগে ঝুঁকি রয়েছে।

পানামাভিত্তিক সংবাদমাধ্যম লা প্রেনসা জানিয়েছে, তাদের বিরুদ্ধে মানি লন্ডারিং-এর অভিযোগ আনা হতে পারে।

গোপনীয়তা রক্ষাকারী হিসেবে স্বীকৃত পৃথিবীর অন্যতম প্রতিষ্ঠান এই মোসাক ফনসেকা, যেটি পানামার একটি আইনি প্রতিষ্ঠান। মক্কেলদের পরামর্শ বাবদ তারা বার্ষিক ফি গ্রহণ করে। ২০১৬ সালে এখান থেকেই সম্প্রতি ফাঁস হয় ১১ মিলিয়ন নথিপত্র। ওই নথিপত্রগুলোকেই বলা হচ্ছে পানামা পেপারস।

বিশ্বের ৪২টির বেশি দেশে প্রতিষ্ঠানটির শাখা রয়েছে। এসব শাখায় কর্মরত আছেন ৬০০ কর্মী। গতবছর মোসাক ফনসেকা’র এক কোটি ১০ লাখ গোপন নথি ফাঁস হওয়ার পর দুনিয়াজুড়ে আলোড়ন সৃষ্টি হয়েছে। এসব নথিতে বেরিয়ে এসেছে বিশ্বের ধনী আর ক্ষমতাধর ব্যক্তিরা কিভাবে কর ফাঁকি দিয়ে গোপন সম্পদের পাহাড় গড়েছেন? কিন্তু প্রশ্ন উঠেছে ঠিক কি পরিমাণ নথি ফাঁস করেছে প্রতিষ্ঠানটি? এক কথায় এর উত্তর অনেক। বিপুল পরিমাণ নথি ফাঁসের ঘটনা ঘটেছে। এমনকি এটা ২০১০ সালে উইকিলিকসের ফাঁস করা নথির চেয়েও বেশি। ২০১৩ সালে সাংবাদিকদের কাছে এডওয়ার্ড স্নোডেনের ফাঁস করা নথির চেয়েও এ সংখ্যা ঢের বেশি। মোসাক ফনসেকা’র অভ্যন্তরীণ ডাটাবেজ থেকে ফাঁস হয়েছে ১১ দশমিক ৫ মিলিয়ন নথি এবং ২ দশমিক ৬ টেরাবাইট তথ্য।

ফাঁস হওয়া নথিগুলোতে দেখা গেছে, কিভাবে গোপনীয়তার আড়ালে ল’ ফার্মটি বিশ্বনেতাদের অর্থ পাচার, নিষেধাজ্ঞা এড়ানো এবং কর ফাঁকিতে সহযোগিতা করেছে। এতে আরও উঠে এসেছে, স্বৈরশাসকসহ বিশ্বের সাবেক ও বর্তমান ৭২ জন রাষ্ট্র বা সরকারপ্রধানের নিজেদের দেশ থেকে অর্থ লোপাটের ভয়াবহ চিত্র।

গ্রাহক আকৃষ্ট করতে ব্যবসায়িক সহযোগীদের নিজেদের ব্র্যান্ড নাম ব্যবহারের সুযোগ দেয় মোওস্যাক ফনসেকা। এ প্রতিষ্ঠানটি সুইজারল্যান্ড, সাইপ্রাস, ব্রিটিশ ভার্জিন আইল্যান্ডসসহ বিভিন্ন স্থানে ট্যাক্স হ্যাভেন পরিচালনা করে। নিজ দেশের বাইরে অর্থ রাখার বিষয়ে দুনিয়াজুড়ে যেসব প্রতিষ্ঠান গ্রাহকদের সেবা প্রদান করে তার মধ্যে মোসাক ফনসেকার অবস্থান চতুর্থ। তিন লক্ষাধিক কোম্পানির সঙ্গে তারা কাজ করে। যুক্তরাজ্যে তাদের বেশ মজবুত অবস্থান রয়েছে।

এই ডাটা ফাঁসের বিষয়ে বিশদ আলোচনায় যেতে আগ্রহী নয় মোসাক ফনসেকা। গ্রাহকের গোপনীয়তার রক্ষার দিকেই অধিক নজর তাদের। মোসাক ফনসেকা বলছে, তারা মানি লন্ডারিং বিরোধী আইন মেনে চলেছে। সেদিকে খেয়াল রেখেই তারা ক্লায়েন্টদের সেবা দিয়েছেন। নিজেদের সেবার যে কোনও ধরনের অপব্যবহার রোধে তারা সচেষ্ট ছিলেন।

সূত্র: দ্য গার্ডিয়ান

basic-bank

Be the first to comment on "জামিন প্রত্যাখ্যান মোসাক ফনসেকা প্রধানের"

Leave a comment

Your email address will not be published.


*