নিউজ ডেস্ক: পার্বত্য চট্টগ্রাম ভূমি কমিশন সংশোধন আইন ২০১৬ বাতিলের দাবিতে রাঙ্গামাটি, খাগড়াছড়ি ও বান্দরবান জেলায় সকাল-সন্ধ্যা হরতালসহ বিক্ষোভ মিছিল ও মানববন্ধন কর্মসূচি পালনের ঘোষণা দিয়েছে ৫ সংগঠন। এগুলো হলো-পার্বত্য নাগরিক পরিষদ, পার্বত্য বাাঙালি ছাত্র পরিষদ, পার্বত্য চট্টগ্রাম সমঅধিকার আন্দোলন, পার্বত্য গণপরিষদ ও পার্বত্য বাঙালি ছাত্র ঐক্য পরিষদ।
ঘোষিত কর্মসূচির মধ্যে রয়েছে- আজ বৃহস্পতিবার ঢাকা প্রেসক্লাবের সামনে সকাল ১০টায় মানববন্ধন ও তিন পার্বত্য জেলায় বিক্ষোভ মিছিল, আগামী ৮ আগস্ট সকাল ১০টায় তিন পার্বত্য জেলায় (খাগড়াছড়ি শাপলা চত্বর, রাঙ্গামাটি জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের সামনে ও বান্দরবান প্রেসক্লাবের সামনে) মানববন্ধন এবং আগামী ১০ আগস্ট এই তিন পার্বত্য জেলায় একযোগে সকাল-সন্ধা হরতাল পালন।
বুধবার (৩ আগস্ট) গণমাধ্যমে দেওয়া এক যৌথ বিবৃতিতে এ সকল কর্মসূচির ঘোষণা দিয়েছে উল্লেখিত পাঁচটি সংগঠনের নেতৃবৃন্দ।
বিবৃতিতে বলা হয়, সরকার যদি দাবি না মানে তাহলে পরবর্তীতে লাগাতার হরতালসহ কঠোর কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে।
মন্ত্রিসভায় পাস হওয়া পার্বত্য চট্টগ্রাম ভূমি কমিশন সংশোধন আইন ২০১৬ বাতিল করার পাশাপাশি ভূমি কমিশনে বাঙালি প্রতিনিধি নিয়োগের দাবিও জানিয়েছে সংগঠনগুলো।
বিবৃতিতে আরও বলা হয়, পার্বত্য চট্টগ্রাম ভূমি বিরোধ নিষ্পত্তি কমিশন আইন ২০০১ সরকার কর্তৃক সংশোধিত হওয়ায় গত ২ আগস্ট রাজধানী ঢাকার পার্বত্য গণপরিষদের কেন্দ্রীয় অস্থাযী কার্যালয়ে পার্বত্য চট্টগ্রাম সমঅধিকার আন্দোলনের কেন্দ্রীয় মহাসচিব মনিরুজ্জামান মনিরের সভাপতিত্বে এক জরুরী সভা অনুষ্ঠিত হয়। উক্ত সভায় পার্বত্য নাগরিক পরিষদের চেয়ারম্যান আলহাজ্ব ইঞ্জিনিয়ার আলকাছ আল মামুন ভূঁইয়া, সাংগঠনিক সম্পাদক শেখ আহম্মেদ রাজু, পার্বত্য গণপরিষদের মহাসচিব ও পার্বত্য বাঙালি ছাত্র ঐক্য পরিষদের কেন্দ্রীয় প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি ও সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী অ্যাডভোকেট পারভেজ তালুকদার, পার্বত্য গণপরিষদের কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক ও সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী অ্যাডভোকেট আলম খানসহ নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন ।
উক্ত সভায় পার্বত্য চট্টগ্রাম ভূমি বিরোধ নিষ্পত্তি কমিশন আইন ২০১৬ মন্ত্রিসভা কর্তৃক চূড়ান্ত অনুমোদন পাওয়ায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়। অ্যাডভোকেট পারভেজ তালুকদারের সঞ্চালনায় উক্ত সভায় বক্তারা বলেন, এ আইন একটি কালো আইন। এই আইনে গৃহীত সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে কোনো আপীল করা যাবে না। ঐ কমিশনের সদস্যদের মধ্যে কোনো বাঙালি প্রতিনিধি নেই। কমিশনের চেয়ারম্যান ও সদস্য সচিব পদে সুপ্রিম কোর্টের আপীল বিভাগের অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি ও চট্টগ্রাম বিভাগীয় কমিশনারকে নিয়োগ দেওয়া হবে। বাকি সদস্যরা নৃগোষ্ঠীর সদস্য থেকে নিয়োগ পাবেন। এক্ষেত্রে পার্বত্য চট্টগ্রামের বাঙালি কোনো প্রতিনিধি না থাকাতে সেখানকার ৪৮ শতাংশ বাঙালি জনগণের জন্য ন্যায় বিচার পাওয়া নিশ্চিত হবে না। এতে করে বাঙালিরা তাদের ভূমির অধিকার হারাবে।

Be the first to comment on "তিন পার্বত্য জেলায় ১০ আগস্ট সকাল-সন্ধ্যা হরতাল"