নিউজ ডেস্ক : দক্ষিণ সুদানের কিছু অংশে দুর্ভিক্ষ ঘোষণা করা হয়েছে। ছয় বছরের মধ্যে প্রথমবার বিশ্বের কোনও অংশে এ সঙ্কট দেখা দিল। সরকারি ও জাতিসংঘের রিপোর্ট অনুযায়ী প্রায় ১ লাখ লোক ক্ষুধাকষ্টে ভুগছে। আরও লাখ দশেক লোক দুর্ভিক্ষের শিকার হওয়ার মুখে। গৃহযুদ্ধ ও অর্থনৈতিক ধসকে এ দুর্ভিক্ষের জন্য দায়ী করা হচ্ছে। দক্ষিণ সুদান প্রথম দুর্ভিক্ষের ঘোষণা দিলেও এ দুর্যোগের শঙ্কা রয়েছে ইয়েমেন, সোমালিায় ও উত্তর-পশ্চিম নাইজেরিয়াতে।
আপাতত দক্ষিণ সুদানের ইউনিটি স্টেটে দুর্ভিক্ষ দেখা দিয়েছে। কিন্তু মানবাধিকার সংগঠনগুলো জানিয়েছে, জরুরি সহায়তা না পাওয়া গেলে এ সঙ্কট আরও ছড়িয়ে পড়বে। জাতিসংঘ বিশ্ব খাদ্য কর্মসূচি (ডব্লিউএফপি) ও ইউনিসেফের মতো সহায়তাকারী এজেন্সিগুলো বলছে, দক্ষিণ সুদানের মোট জনসংখ্যার ৪০ শতাংশেরও বেশি মানুষের (৪০ লাখ ৯০ হাজার) জরুরি খাবার দরকার।
দুর্ভিক্ষ কখন ঘোষণা করা হয়?
খাদ্যসঙ্কটের কারণে পুষ্টিহীনতার শিকার হতে পারে অগণিত মানুষ। কিন্তু শুধুমাত্র এ পর্যায়কে দুর্ভিক্ষ বলা যাবে না। দীর্ঘদিনের খরা ও অন্য সমস্যার কারণে খাদ্য সরবরাহ কম হয় বটে, তাই বলে এ পরিণতিকে দুর্ভিক্ষ ঘোষণা করা যাবে না। জাতিসংঘের প্রণীত বৈশিষ্ঠ্য অনুযায়ী দুর্ভিক্ষ তখনই ঘোষণা করা হবে যখন নির্দিষ্ট মাত্রায় মৃত্যুহার, অপুষ্ঠি ও ক্ষুধার সম্মিলন হবে-
কোনও একটি এলাকার অন্তত ২০ শতাংশ পরিবার চরম খাদ্যসঙ্কটের মুখোমুখি হলে, এমনকি অল্প পরিমাণ খাবারও যাদের নেই। যখন অপুষ্টির হার ৩০ শতাংশেরও বেশি হয়। প্রতিদিন ১০ হাজারে মৃত্যুহার যখন দুইজনের বেশি হয়। দুর্ভিক্ষের ঘোষণা দেওয়ার জন্য জাতিসংঘ কিংবা সদস্য রাষ্ট্রের কোনও বাধ্যবাধকতা নেই। সমস্যার সমাধানে শুধুমাত্র বিশ্বের নজর কাড়তেই এ ব্যবস্থা নেওয়া হয়।

Be the first to comment on "দক্ষিণ সুদানে দুর্ভিক্ষ ঘোষণা"