শিরোনাম

দিনে ১৪৪ ধারা রাতে নির্মান কাজ,বেদখল হচ্ছে মুক্তিযোদ্ধার জমি ॥ বাধা দিলেই মারধোর

দিনে ১৪৪ ধারা রাতে নির্মান কাজ বেদখল হচ্ছে মুক্তিযোদ্ধার জমি ॥ বাধা দিলেই মারধোর।

নিউজ ডেস্ক ॥  দিনে ১৪৪ ধারা রাতে নির্মান কাজ। এভাবেই গত ৬ মাসে একটু একটু করে দখল হচ্ছে মুক্তিযোদ্ধা শওকত আলীর পৈত্রিক জমি। আদালতের ১৪৪ ধারা জারি থাকা সত্ত্বেও দোকানঘর নির্মান করছেন মানিকগঞ্জ বাজারের ব্যবসায়ী মটুক আলী। সকলের সামনে কাজ করলেও বলার কেউ নেই। বাধা দিতে গিয়ে সোমবার (৬ নভেম্বর) রেনু বেগম নামের এক নারীকে ইট দিয়ে পিটিয়ে আহত করেছে মটুকের স্ত্রী ও কন্যা। পুলিশের অ-দৃশ্য ইশারায় জমি দখলের এই খেলা চলছে বলে এলাকাবাসীর কাছ থেকে তথ্য পাওয়া গেছে। ৭ নভেম্বর আদালতের নির্দেশনা পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গেলেও কোন ব্যবস্থা নেয়নি।

সরেজমিনে গিয়ে খোজ খবর নিয়ে জানা গেছে, উপজেলার মানিকগঞ্জ বাজারের রাস্তার পার্শ্বে শামুকখোলা মৌজার ৮৩১ খতিয়ানের ১১৯৬/১৬৭৬ দাগের ২০ শতক জমির দলিলের মালিক শামুকখোলা গ্রামের মুক্তিযোদ্ধা শওকত আলী ও তার পরিবার। শওকত আলী ও পরিবারের অন্যরা চাকুরীর সুবাদে ঢাকাতে অবস্থান করেন। এই সুযোগে ২০১৫ সালের মাঠ জরীপে শামুকখোলা গ্রামের মটুক আলী স্থানীয় এক নায়েবের জোগসাজসে জমির রেকর্ড মটুক আলীর নামে করিয়ে নেন।এর পর থেকে বাজারের ঐ মূল্যবান জমির মালিকানা দাবী করতে থাকেন। এব্যাপারে এলাকায় একাধিকবার শালিশ বৈঠক হলেও পারিবারিক প্রভাব খাটিয়ে জমিতে একাধিক দোকান তোলার কাজ শুরু করে দখলদারী করেন ঐ পরিবার।

গত ২৩ আগষ্ট প্রকাশ্যে দলবল নিয়ে জমির উপরে ভীত দিয়ে কাজ শুরু হয়। এরপর আইনগতভাবে বাধা দিতে থাকে শওকত আলীর পরিবারের লোকেরা। আদালত থেকে ১৪৫ ধারা,পরবর্তীতে ১৪৪ ধারা জারি হলেও নির্মান কাজ থেমে থাকেনি। প্রতিদিন রাতে কয়েকজন মিস্ত্রী কাজ করে যাচ্ছে। গত ১৩ সেপ্টেম্বর আদালত থেকে ১৪৪ ধারা জারী কারা হলেও তা মানছে না দখলকারী মটুকআলী। পুনরায় ৬ নভেম্বর আদালত থেকে আবারও ১৪৪ ধারা জারী করা হয়।

এ ব্যাপারে মুক্তিযোদ্ধা সৈয়দ শওকত আলী বলেন, গ্রামে আমাদের তেমন কোন লোকজন থাকেনা সেই সুযোগে মটুক আলী তার লোকজন নিয়ে আমাদের পৈত্রিক জমি দখল করছে,আমরা এলাকায় কোন গন্ডগোল চাই না। জমি নিয়ে মামলা হয়েছে আদালত যে রায় দিবে আমরা সেই রায় মেনে নেব,কিন্তু কষ্ট হলো আইনকে তোয়াক্কা না করেই পুলিশের সামনে দিয়েই বেআইনী কাজ হয়ে যাচ্ছে।

জমি দখলকারী মটুক আলী অভিযোগ বিষয়ে বলেন,এ জমির রেকর্ড আমার নামে, এটা নায়েব ইউনুস ভালো জানে,আমার জমিতে আমি কাজ করছি। জমির দলিল তার কাছে নেই স্বিকার করে তিনি বলেন,আমি সব জায়গা থেকে অনুমতি নিয়েই কাজ করছি। ১৪৪ ধারা ভঙ্গ করে নির্মান কাজ অবৈধ কিনা এই বিষয়ে কোন কথা বলেননি তিনি।
শামুকখোলা গ্রামের কৃষক মিন্টু আলী জানান,এটা শওকত আলীর বাবা আব্দুল মান্নানের জমি। এই জমি জবরদখল করে কখন ও সন্ধ্যা রাতে আবার শেষ রাতে কাজ করান মটুকের পরিবার।
একাধিকবার আদালতের তারিখ উপেক্ষা এবং ১৪৪ ধারা জারির তোয়াক্কা না করেই বহুতল ভবনের ভিত দিয়ে দোকান ভবন নির্মানের কাজ করে যাচ্ছেন ভূমিখেকো মটুক আলী।

সর্বশেষ ০৬ নভেম্বর সকালে আদালতের নিষেধাজ্ঞা উপেক্ষা করে কাজ না করার জন্য মটুক আলীর বাড়ি যান এলাকার লিটু আলীর স্ত্রী রেনু বেগম। কথা কাটাকাটির একপর্যায়ে মটুক আলীর স্ত্রী সুফিয়া বেগম এবং তার কন্যা আসমা খানম, রেনু বেগমকে বেধড়ক মারধোর করেন। এক পর্যায়ে ইট দিয়ে তার মাথায় আঘাত করলে গুরুত্বর আহত হন রেনু বেগম। বর্তমানে সে লোহাগড়া হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক মানিকগঞ্জ বাজারের কয়েকজন ব্যবসায়ী জানান, দখলকারী মুটুক আলী তাদের বলেছে, আমি ওসি, এসপিসহ সব ম্যানেজ করেই কাজ করছি। লোহাগড়া থানার সাবেক ওসি জাহাঙ্গীর আলম ও কয়েকজন কর্মকর্তা মটুক আলীকে টাকার বিনিময়ে সহায়তা করেছে। কাজ বন্ধ করার জন্য পুলিশ আসলে মিস্ত্রীরা সরে যায়,পুলিশ কিছুক্ষন পরে চলে যায়।এভাবে মুক্তিযোদ্ধা শওকত আলীর পৈত্রিক জমি একসময় চলে যাবে ভুমি খেকোর পেটে।

লোহাগড়া থানার অফিসার ইনচার্জ মোঃ শফিকুল ইসলাম জানান,মুক্তিযোদ্ধা শওকত আলীর পৈত্রিক জমি দখল করে ভবন নির্মান হচ্ছে এটা শুনেছি, আমি এখানে নতুন যোগদান করেছি। আগের ওসি কি করেছে সেটা আমি জানিনা। মঙ্গলবার (৬ নভেম্বর) আমার কাছে আদালতের ১৪৪ ধারা নোটিশ এসেছে,আমি যথাযথ ব্যবস্থা নিবো।

লোহাগড়া উপজেলা নির্বাহী অফিসার মনিরা পারভীন বলেন, আমি মুক্তিযোদ্ধা শওকত আলীকেও চিনি না, আদালতের ১৪৪ ধারা আছে কিনা তাও জানিনা, কোন অভিযোগও পাইনি। তবে অভিযোগ পেলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিবো।

basic-bank

Be the first to comment on "দিনে ১৪৪ ধারা রাতে নির্মান কাজ,বেদখল হচ্ছে মুক্তিযোদ্ধার জমি ॥ বাধা দিলেই মারধোর"

Leave a comment

Your email address will not be published.


*