নিউজ ডেস্ক : নাইজেরিয়ার উত্তর-পূর্বাঞ্চলে জঙ্গিগোষ্ঠী বোকো হারামের নিয়ন্ত্রণে ছিল যেসব এলাকা সেখানকার প্রায় আড়াই লাখ শিশু তীব্র অপুষ্টিতে ভুগছে বলে জানিয়েছে ইউনিসেফ।
বিবিসি বলছে, জাতিসংঘের শিশু বিষয়ক এই সংস্থা সতর্ক করে বলেছে, শিগগিরই চিকিৎসার আওতায় না আনা গেলে বোর্নো রাজ্যের হাজার হাজার শিশুর মৃত্যু হতে পারে। রাজ্যের যেসব এলাকা বোকো হারামের নিয়ন্ত্রণে ছিল সেসব এলাকার মানুষজন পানি, খাদ্য ও স্বাস্থ্যসেবা ছাড়াই দিন যাপন করছে বলে জানতে পেরেছে ইউনিসেফ। গেল মাসে একটি স্বেচ্ছাসেবী সংস্থা জানিয়েছিল, বোকো হারামের কারণে পালিয়ে যাওয়া মানুষেরা না খেয়ে মারা যাচ্ছেন। উগ্র-ইসলামপন্থি গোষ্ঠী বোকো হারামের সাত বছর ধরে চলা বিদ্রোহে ২০ হাজার মানুষ নিহত ও ২০ লাখেরও বেশি মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছেন। নাইজেরিয়ার সামরিক বাহিনী এই বিদ্রোহীদের দমনে বড় ধরনের অভিযান শুরু করেছে।
ইউনিসেফ জানিয়েছে, নাইজেরিয়ার উত্তর-পূর্বাঞ্চলের যত বেশি এলাকা মানবিক সহায়তার আওতায় আসছে, সেখানকার শিশুদের মধ্যে অপুষ্টির ব্যাপকতা ততই পরিষ্কার হচ্ছে।
সংস্থাটি জানিয়েছে, বোর্নোতে মারাত্মক অপুষ্টিতে ভোগা ২ লাখ ৪৪ হাজার শিশু পাওয়া গেছে, এদের দ্রুত চিকিৎসার আওতায় আনা না গেলে প্রায় প্রতি পাঁচজনের একজন মারা যেতে পারে।
পশ্চিম ও মধ্য আফ্রিকা অঞ্চলের ইউনিসেফের পরিচালক ম্যানুয়েল ফন্টেইন বলেন, “সহায়তার মাত্রা দ্রুত বাড়ানো না গেলে মারাত্মক অপুষ্টিজনিত কারণে প্রতিদিন গড়ে প্রায় ১৩৪ শিশু মারা যেতে পারে।
“পরবর্তী শিশুটিকে মৃত্যুর হাত থেকে বাঁচাতে আমাদের সব অংশীদার ও দাতাদের এগিয়ে আসতে হবে। এ ধরনের সঙ্কট কারো একার পক্ষে মোকাবিলা করা সম্ভব নয়।”
ফন্টেইন জানিয়েছেন, ধ্বংস হয়ে যাওয়া শহরে বাস্তুচ্যুত মানুষদের আশ্রয় নিয়ে থাকতে দেখেছেন তিনি, আর সেখানকার হাড্ডিস্বার শিশুরা সাহায্য না পেলে বাঁচবে না।
“বোর্নো রাজ্যের ২০ লাখ মানুষের কাছে আমরা এখনো পৌঁছতেই পারিনি, এর অর্থ হচ্ছে সঙ্কটের পুরোটা রূপ বিশ্বের সামনে এখনো উন্মোচিত হওয়ার অপেক্ষায় আছে।”

Be the first to comment on "নাইজেরিয়ায় আড়াই লাখ শিশু অনাহারে"