শিরোনাম

প্রবীণ রাজনীতিক অজয় রায়কে শেষ শ্রদ্ধা

নিউজ ডেস্ক : প্রয়াত কমিউনিস্ট নেতা অজয় রায়কে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার প্রাঙ্গণে শেষ শ্রদ্ধা জানিয়েছেন রাজনৈতিক, সামাজিক-সাংস্কৃতিক নেতাসহ সর্বস্তরের মানুষ। প্রবীণ এই রাজনীতিক সোমবার ভোরে ধানমন্ডিতে নিজের বাসায় মারা যান। তার বয়স হয়েছিল ৮৮ বছর। আজ বুধবার সকাল সাড়ে ১০টার দিকে অজয় রায়ের মরদেহ বারডেম হাসপাতালের হিমঘর থেকে শহীদ মিনারে নেওয়া হয়। শহীদ মিনারে প্রথমে মুক্তিযোদ্ধা হিসাবে গার্ড অব অনার দেওয়া হয় অজয় রায়কে।

নিজের প্রতিষ্ঠিত সম্মিলিত সামাজিক আন্দোলন, সাম্প্রদায়িকতা ও জঙ্গিবাদ বিরোধী মঞ্চের নেতাকর্মীরা ছাড়াও ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ আশরাফুল ইসলাম, সিপিবির সভাপতি মুজাহিদুল ইসলাম সেলিম, নাট্যব্যক্তিত্ব রামেন্দু মজুমদার, ঢাকা বিশ্ববিদ‌্যালয়ের উপাচার্য আ আ ম স আরেফিন সিদ্দিক, সাম্যবাদী দলের সাধারণ সম্পাদক দীলিপ বড়ুয়া প্রয়াতের কফিনে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানান।

১৯২৮ সালের ৩০ ডিসেম্বর ময়মনসিংহের ঈশ্বরগঞ্জে জন্ম নেন অজয় রায়। ভারতের বারানসিতে থাকাকালে স্কুলজীবনেই বাম নেতাদের সংস্পর্শে এসে যুক্ত হন কমিউনিস্ট পার্টির সঙ্গে। আইনজীবী বাবার মৃত‌্যুর পর ১৯৪৪ সালে বাংলাদেশে ফিরে অর্থনীতিতে মাস্টার্স ডিগ্রি নেন অজয়। এরপর কিশোরগঞ্জের বনগ্রামে দাদার বাড়িতে ফিরে কমিউনিস্ট পার্টির কাজে সক্রিয় হন। পঞ্চাশের দশকে কমিউনিস্ট নেতা নগেন সরকার, ওয়ালী নেওয়াজ খান, মণি সিংহের সান্নিধ্যে আসেন অজয় রায়। ১৯৭২ সালে বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টির দ্বিতীয় কংগ্রেসে কেন্দ্রীয় সম্পাদকমণ্ডলীর সদস্য নির্বাচিত হন।

সিপিবির কেন্দ্রীয় সদস‌্য রুহিন হোসেন প্রিন্স জানান, ১৯৯৩ সালে কমিউনিস্ট পার্টিতে ভাঙনের পর রূপান্তরিত কমিউনিস্ট পার্টি হয়ে অজয় রায় গঠন করেন নতুন দল কমিউনিস্ট কেন্দ্র। তবে সে দলও টেকেনি। ২০১০ সালের পর সম্মিলিত সামাজিক আন্দোলননামের একটি সংগঠন গড়ে তার নেতৃত্ব দিয়ে আসছিলেন দেশের প্রগতিশীল গণতান্ত্রিক আন্দোলনের অন্যতম এই পুরোধা ব‌্যক্তি। অজয় রায় সংবাদপত্রের কলাম লেখার পাশাপাশি বাংলাদেশের রাজনীতি, অর্থনীতি, বিভিন্ন আন্দোলন এবং ভূমি ব‌্যবস্থাপনা নিয়ে বেশ কয়েকটি বই লিখে গেছেন।

 

basic-bank

Be the first to comment on "প্রবীণ রাজনীতিক অজয় রায়কে শেষ শ্রদ্ধা"

Leave a comment

Your email address will not be published.


*