নিউজ ডেস্ক : ফিলিপিন্সে আঘাত হেনেছে সুপার টাইফুন হাইমা। আগাম সতর্কতা হিসেবে ঘূর্ণিঝড়টির সম্ভাব্য গমনপথে থাকা লাখো মানুষকে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে।
বিবিসি বলছে, দেশটির ইতিহাসে এটি অন্যতম ভয়াবহ ঘূর্ণিঝড়ের আঘাত।
ঘূর্ণিঝড় হাইমা দেশটির উত্তরাঞ্চলীয় লুজোন দ্বীপ অতিক্রম করছে। সেখানে ১ কোটি মানুষ বসবাস করে।
দেশটির প্রেসিডেন্ট রডরিগো দোতার্তে বর্তমানে চীন সফরে রয়েছেন। তিনি জানিয়েছেন, জরুরি সংস্থার সদস্যদের মোতায়েন করা হয়েছে।
দোতার্তে বলেন, “আমাদের শুধু এটাই প্রার্থনা, অতীতের ধ্বংসযজ্ঞের মতো নিদারুণ যন্ত্রণা ও দুর্ভোগ থেকে যেন রেহাই মেলে।”
বুধবার স্থানীয় সময় রাত ১১টায় কাগায়ান প্রদেশের পেনাব্লাঙ্কা শহরে আঘাত হানার আগে হাইমা সুপার টাইফুনে রূপ নেয়।
পেনাব্লাঙ্কার কামাসি গ্রাম থেকে স্থানীয় কাউন্সিলর ইলিসা আরুগে জানিয়েছেন, “প্রচণ্ড বাতাস ও গাছপালা ভেঙে পড়ার কারণে আমরা বাইরে বেরুতে পারছি না।”
বিশেষজ্ঞদের আশঙ্কা, হাইমা ২০১৩ সালে আঘাত হানা সুপার টাইফুন হাইয়ানের মতো বিধ্বংসী হয়ে উঠতে পারে। ওই ঘূর্ণিঝড়ে ৭,৩৫০ জনেরও বেশি মানুষের প্রাণহানি হয়েছিল।
কর্তৃপক্ষ সতর্ক করে জানিয়েছেন, এই ঘূর্ণিঝড়ের কারণে ১৬ ফুট পর্যন্ত ঢেউয়ের সৃষ্টি করতে পারে। ফলে খুব সহজেই উপকূলের কাছে থাকা বাড়ি-ঘর ভাসিয়ে নিয়ে যেতে পারে।
দেশটির আবহাওয়া সংস্থা পূর্বাভাস দিয়ে জানিয়েছে, সুপার টাইফুনটি ঘন্টায় ২২৫ কিলোমিটার বেগে ফিলিপিন্সে আঘাত হানতে পারে। দমকা বাতাসের গতি ঘন্টায় ৩১৫ কিলোমিটার পর্যন্ত হতে পারে।
সুপার টাইফুনটি বৃহস্পতিবার চীনের দক্ষিণ দিকে চলে যেতে পারে।
ফিলিপিন্সে প্রতিবছর প্রায় ২০টি বড় ধরনের ঝড় আঘাত হেনে থাকে। ওইসব ঝড় অনেক সময় প্রাণঘাতী দুর্যোগে রূপ নেয়।

Be the first to comment on "ফিলিপিন্সে সুপার টাইফুন হাইমার আঘাত"