নিউজ ডেস্ক : নড়াইলের লোহাগড়া উপজেলার মল্লিকপুর ইউনিয়নের পার-মল্লিকপুর গ্রামের মৃত সংশের কাজীর ছেলে,কাজী মনা মিয়া (৫২) বৃহঃপতিবার (৬অক্টবর) হৃদ যন্ত্রের ক্রিয়া বন্ধ হয়ে মৃত্যুবরন করেছেন (ইন্না— রাজেউন)।
এলাকাবাসি ও সরেজমিনে জানা গেছে, উপজেলার পার-মল্লিকপুর গ্রামে আধিপত্তর বিস্তার করাকে কেন্দ্র করে গত ১৬ আগষ্ট দু’পক্ষের মধ্যে এক রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ বাঁধে। সংঘর্ষে ঘটনাস্থলেই নূর ইসলাম মৃধার মৃত্যু হয়। গুরুতর আহত হন ইকবাল মৃধা, (২০ আগষ্ট) খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান তিনি। ডবল মার্ডারকে কেন্দ্র করে গোটা মল্লিকপুর এলাকায় চরম উত্তেজনা দেখা দেয়। পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে লোহাগড়া থানা পুলিশ,ঘটনা স্থলের অ’দুরে একটি অস্থায়ী পুলিশ ক্যাম্প স্থাপন করেন। এ ঘটনায় লোহাগড়া থানায় হত্যা মামলা দায়ের করলে, প্রতিপক্ষের সকল লোকজন অজানা আতংকে আত্মগোপন করেন। ফলে পার-মল্লিকপুর গ্রামের এক অংশে পুরুষ শুন্য হয়ে পড়ে। পুরুষ শুন্য প্রায় ৫০-৬০টি পরিবারে তখন চলে নীরব নিপীড়ন,নির্যাতন,আর প্রকাশ্যে ভাংচুর ও লুটপাট। পুলিশ প্রশাসন গ্রামের এক প্রান্তে প্রবেশ করে লুটপাট ঠেকাতে চেষ্টা করলেও, চলে অপর প্রান্তে লুটপাট। ভাংচুর ও লুটপাটের ঘটনায় থানায় পৃথক দু’টি মামলা দায়ের এবং আদালতে ৪টি মামলার তদন্ত চলমান রয়েছে। অব্যহত লুটপাট ও ভাংচুর এবং প্রতিপক্ষের হামলার ভয়ে প্রানে বাঁচার জন্য কাজী মনা মিয়া,পরিবার,পরিজন নিয়ে আশ্রয় নিয়েছিলেন,জেলার কালিয়া থানাধীন মাউলি গ্রামে শশুর ইঞ্জিল শেখ’র বাড়িতে। বেচেঁ থাকার তাগিদে ফেলে যান বাড়ির সব কিছুর সাথে পরিবার নিয়ে একমুঠো অন্ন্যর যোগান কৃষিজ যন্ত্র, একটি স্যালো মেসিন ও একটি পাওয়ার টিলার। শেষ সম্বল কৃষিজ যন্ত্র দু’টি অব্যহত লুটপাটের ধারাবাহিকতায় গত বুধবার (৫ অক্টবর) রাতে লুট হয়। কৃষিজ যন্ত্র লুটের সংবাদ শুনে কাজী মনা মিয়ার হৃদ যন্ত্রের ক্রিয়া বন্ধ হয়ে মৃত্যুবরন করেন। নিহতের লাশ শশুরালয় থেকে প্রথম জানাজা শেষে রাতে পার-মল্লিকপুর পৌছালে এক হৃদয় বিদারক দৃশ্যের অবতারনা হয়। (৬ অক্টবর) লাশের দ্বিতীয় জানাজা শেষে তাদের পারিবারিক কবরস্থানে দাফন করা হয়।

Be the first to comment on "লোহাগড়ায় হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে কৃষকের মৃত্যু"