নিউজ ডেস্ক : হবিগঞ্জের বাহুবল উপজেলাধীন দ্বীননাথ ইন্সস্টিটিউট মডেল হাই স্কুল কে সরকারী করন ও এক শিক্ষা কর্মকর্তার অনিয়ম, স্বজনপ্রীতি আর দুর্নীতি বন্ধের দাবীতে বুধবার সকালে প্রশাসনিক ভবন ঘেরাওসহ ব্যাপক বিক্ষোভ প্রদর্শন এবং থানায় হামলা ও সংর্ঘষকালে বিক্ষুব্ধ ছাত্র-জনতা আর অভিভাবকদের ওপর গুলি চালিয়েছে পুলিশ। এতে ১৪ ছাত্র গুলিবিদ্ধ এবং ছাত্র-শিক্ষক-অভিভাবক ও পুলিশসহ আহত হয়েছে আরও প্রায় ৫০ জন। তন্মধ্যে গুরুতর আহত সংশ্লিস্ট স্কুলের ৯ম শ্রেনীর ছাত্র রেজাউল করিম, আব্দুর রহমান, ১০ম শ্রেনীর ছাত্র আনহার আলী ও বিল্লাল হোসেন সহ ওই ১৪ ছাত্র এবং বেশ কয়েকজন ছাত্র-অভিভাবককে হবিগঞ্জ সদর আধুনিক হাসপাতাল সহ স্থানীয় উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। এছাড়া এই ঘটনায় সংশ্লিস্ট স্কুলের সহকারী শিক্ষক অশোক দাশ, গোলাম মহিউদ্দিন ও ১০ শ্রেনীর ছাত্র জাহাঙ্গীর সহ অজ্ঞাত নামা বহিরাগত আরও একজনকে আটক করেছে পুলিশ। এদিকে ঘটনার পরপরই এসপি জয় দেব কুমার ভদ্র ও এএসপি হেড কোয়ার্টার সুদীপ্ত রায় ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন। এই ঘটনার পর সংশ্লিস্ট বিদ্যাপিঠ ও এলাকাস্থ আশপাশের গ্রামগুলোতে বিরাজ করছে চরম উত্তেজনা। যে কোন সময় পুলিশের সাথে আবারও বড় ধরনের রক্তক্ষয়ী সংর্ঘষের আশংকা করছেন এলাকাবাসী।
পুলিশ ও ছাত্র-শিক্ষকগণ জানান, পূর্ব কর্মসূচী অনুযায়ী বাহুবল উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকতা সামসুন্নাহার পারভীন এর বিরুদ্ধে ব্যাপক অনিয়ম, স্বজনপ্রীতি ও ঘুষ বানিজ্যের অভিযোগ এনে ওই দিন সকাল ১১ টায় সংশ্লিস্ট স্কুল ম্যানেজিং কমিটি, শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও স্থানীয় জনতার নের্তৃত্বে শত শত মানুষ তৎসংশ্লিস্ট কার্যালয় ঘেরাও এবং ব্যাপক বিক্ষোভ প্রদর্শন শুরু করে। এক পর্যায়ে বিক্ষোভকারীদের একটি অংশ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও উপস্থিত পুলিশ সদস্যদের ওপর জুতা নিক্ষেপ শুরু করে। পরিস্থিতি সামাল দিতে সংশ্লিস্ট উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান আব্দুল হাইসহ এলঅকার আরও গণমান্য ব্যক্তিবর্গ তাতে হস্তক্ষেপ করেন এবং বিক্ষুব্ধ ছাত্র-জনতাকে সরিয়ে দেন। একই সময় ১২টার দিকে এই ছাত্র-জনতার একটি অংশ স্থানীয় থানায় হামলা চালিয়ে ভাংচুরে লিপ্ত হয়। ফলে পুলিশের সাথে তুমুল বাকবিতণ্ডা সৃষ্টি হয়। এসময় বাধ্য হয়েই পুলিশ চড়াও হয় বিক্ষোভকারীদের ওপর। এক পর্যায়ে ছাত্র-জনতার সাথে শুরু হয় পুলিশের তুমুল সংর্ঘষ। বিক্ষুব্ধকারীদের ওপর পুলিশ চালায় লাটিচার্জ ও টিয়ার সেল নিক্ষেপ। এতেও কাজ না হওয়ায় মুহুমুহু শর্টগানের গুলি ছুড়ে পুলিশ। এসময় পরিস্থিতি পুলিশের অনুকলে আসলেও গুরুতর আহত বুলেটবিদ্ধ সহ অনেককেই দ্রুত হবিগঞ্জ সদর আধুনিক হাসপাতালসহ স্থানীয় উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যায় এলাকাবাসী। এদিকে এ এসপি হেড কোয়ার্টার সুদীপ্ত রায় জনকন্ঠকে জানান, এই ঘটনা নিয়ন্ত্রন ও জানমালের নিরাপত্তার স্বার্থে পুলিশ বিক্ষুব্ধ লোকজনের ওপর অন্তত ১৪ রাউন্ড টিয়ারসেল ও ৯০ রাউন্ড শর্টগানের গুলি ছুড়ে। এছাড়া এসপি জয় দেব কুমার ভদ্র ওই ঘটনার নেপথ্য কারন উদঘাটর ও প্রকৃত দোষীদের চিন্থিত করন সহ সার্বিক সমস্যা সমাধানের লক্ষ্যে এ্এসপি (সদর) সুদীপ্ত রায়কে প্রধান করে ৩ সদস্য বিশিষ্ট একটি কমিটি গঠন করেছেন। তিনি জানান, ঘটনার পর সংশ্লিস্ট এলাকায় উত্তেজনা থাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করার পাশাপাশি উদ্বুদ্ধ পরিস্থিতি সমাধানে সকল পক্ষকে নিয়ে বৈঠক চলছে।
হবিগঞ্জে বিক্ষুব্ধ ছাত্র-জনতার সাথে পুলিশের সংঘর্ষ

Be the first to comment on "হবিগঞ্জে বিক্ষুব্ধ ছাত্র-জনতার সাথে পুলিশের সংঘর্ষ"