নিউজ ডেস্ক : টাঙ্গাইলে আওয়ামী লীগের নেতা ফারুক আহমেদ হত্যা মামলার অভিযোগপত্র গ্রহণ করেছেন আদালত। একই সঙ্গে এই মামলায় আওয়ামী লীগের সংসদ আমানুর রহমান খান রানাসহ ১০ জনের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করা হয়েছে।
পুলিশের দেওয়া অভিযোগপত্র গ্রহণ করে টাঙ্গাইলের মুখ্য বিচারিক হাকিম আদালতের বিচারক আমিনুল ইসলাম বুধবার এ আদেশ দেন। টাঙ্গাইল-৩ (ঘাটাইল) আসনের সংসদ সদস্য রানা, তার তিন ভাই কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের সাবেক সহসভাপতি সানিয়াত খান বাপ্পা, টাঙ্গাইল পৌরসভার সাবেক মেয়র ও শহর আওয়ামী লীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক সহিদুর রহমান খান মুক্তি এবং ব্যবসায়ী নেতা জাহিদুর রহমান খান কাঁকনসহ মোট ১৪ জনকে আসামি করে গত ৪ ফেব্রুয়ারি পুলিশ এ মামলায় অভিযোগপত্র দেয়। অভিযোগপত্রে ৩৩ জনকে সাক্ষী করা হয়েছে।
অভিযোগপত্রভুক্ত অন্য আসামিরা হলেন এমিপর ঘনিষ্ঠ সহযোগী কবির হোসেন, আনিছুল ইসলাম (রাজা), মোহাম্মদ আলী, সমীর, ফরিদ আহমেদ, আমানুরের দারোয়ান বাবু, যুবলীগের তৎকালীন নেতা আলমগীর হোসেন (চাঁন), নাসির উদ্দিন (নুরু), ছানোয়ার হোসেন ও সাবেক পৌর কমিশনার মাছুদুর রহমান। আসামিদের মধ্যে রাজা, মোহাম্মদ আলী, সমীর ও ফরিদ কারাগারে আছেন। সংসদ সদস্য আমানুর ও তাঁর তিন ভাইসহ ১০ আসামি পলাতক। ২০১৩ সালের ১৮ জানুয়ারি শহরের বাসার সামনে গুলি চালিয়ে হত্যা করা হয় আওয়ামী লীগের টাঙ্গাইল জেলা কমিটির সদস্য ফারুককে। হত্যার তিনদিন পর ফারুকের স্ত্রী নাহার আহমেদ টাঙ্গাইল মডেল থানায় অজ্ঞাতপরিচয় কয়েকজনকে আসামি করে মামলা করেন।
তবে পরে নাহার সংবাদ সম্মেলনে দাবি করেন, টাঙ্গাইলের প্রভাবশালী খান পরিবারের চার ভাই রানা, মুক্তি, কাঁকন ও বাপ্পা এই হত্যাকাণ্ডে জড়িত।
ফারুক জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক প্রার্থী হতে চেয়েছিলেন। সেজন্যই তাকে হত্যা করা হয়েছিল বলে তার পরিবারের অভিযোগ।
ফারুক হত্যাকাণ্ডে গ্রেপ্তার খান পরিবারের ঘনিষ্ঠ হিসেবে পরিচিত আনিসুল ইসলাম রাজা এবং মোহাম্মদ আলী আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দিতে রানাদের চার ভাইকে জড়িয়ে বক্তব্য দেন বলে পুলিশ কর্মকর্তারা জানিয়েছিলেন।
রানা ও মুক্তি এই মামলায় আগাম জামিন নিতে উচ্চ আদালতেও যান। তখন তাদের গ্রেপ্তার ও হয়রানি না করতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে নির্দেশনা দিয়েছিল হাইকোর্ট। তবে গত বছরের ডিসেম্বরে তাতে স্থগিতাদেশ আসে।

Be the first to comment on "এমপি রানাসহ ১০ জনের নামে গ্রেফতারি পরোয়ানা"