উরিতে সেনাদের গুলিতে প্রাণ হারিয়েছে ১০ জঙ্গী

নিউজ ডেস্ক : রবিবারে ব্যর্থ। মঙ্গলে সফল।
৪৮ ঘণ্টা আগেই উরি সেক্টরের সেনাঘাঁটিতে হামলা চালিয়ে ১৮ জন সেনাকে হত্যা করেছিল জঙ্গীরা। আজ সেই সেক্টরেই ফের অনুপ্রবেশের চেষ্টা চালায় তারা। কিন্তু এ দফায় তাদের রুখে দিয়েছে ভারতের সেনাবাহিনী। সেনাদের গুলিতে প্রাণ হারিয়েছে ১০ জন জঙ্গী। এ দিন নওগাম সেক্টর দিয়েও অন্য এক দল জঙ্গি কাশ্মীরে ঢোকার চেষ্টা চালিয়েছিল। তারা সফল না-হলেও সেখানে সংঘর্ষে প্রাণ গিয়েছে এক জওয়ানের।
উরি সেনা ছাউনির ঘটনার পরে পাকিস্তানের বিরুদ্ধে কড়া ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য দেশ জুড়ে চাপ বেড়েছে নরেন্দ্র মোদী সরকারের উপরে। সরকার এবং শাসক দলের কর্তাব্যক্তিরাও ‘দাঁতের বদলে চোয়াল’ নেওয়ার হুমকি দিয়েছেন। কিন্তু গত কাল সরকারের শীর্ষ নেতৃত্বের সঙ্গে বৈঠকে সেনাবাহিনীর প্রধানরা জানিয়ে দিয়েছেন, পাকিস্তানের সঙ্গে এই মুহূর্তে সীমিত যুদ্ধ করা সম্ভব নয়। পরমাণু শক্তিধর দুই দেশের সংঘাত পুরোদস্তুর যুদ্ধে গড়াতে পারে। যা দেশের পক্ষে কাঙ্ক্ষিত নয় তো বটেই, শক্তিধর দেশগুলিও সেই পথে হাঁটতে দেবে না। এই পরিস্থিতিতে এক দিকে পাকিস্তানের উপরে কূটনৈতিক চাপ বাড়ানো অন্য দিকে দেশের মাটিতে সন্ত্রাসবাদের কড়া মোকাবিলা— এই জোড়া কৌশল নিয়ে হাঁটতে চাইছে মোদী সরকার। আজ রাষ্ট্রপুঞ্জ এবং কাশ্মীর, দু’জায়গাতেই সফল দিল্লি।
আজ সকালে উরি সেক্টরের লাছিপোরায় ভারতীয় সেনাছাউনি লক্ষ করে গুলিবর্ষণ শুরু করে পাক সেনা। পাল্টা জবাব দেন ভারতীয় জওয়ানরা। ভারতীয় পোস্টে কোনও ক্ষয়ক্ষতি হয়নি। সেনা সূত্রে খবর, জঙ্গি অনুপ্রবেশে সাহায্য করার জন্যই এই হামলা চালিয়েছিল পাক সেনা। বস্তুত, এর পরেই ওই সেক্টর দিয়ে নিয়ন্ত্রণরেখা পেরনোর চেষ্টা করে জঙ্গিদের একটি বড় দল। সেনারা তাদের চ্যালেঞ্জ করে। সংঘর্ষে এখনও পর্যন্ত ১০ জন জঙ্গি খতম হয়েছে বলে সেনা সূত্রে খবর। বলা হচ্ছে, নিয়ন্ত্রণরেখা সংলগ্ন নালায় জঙ্গীদের দেহ পড়ে রয়েছে। দেহগুলিতে আইইডি বা বিস্ফোরক থাকতে পারে, এই আশঙ্কায় ঝুঁকি না-নিয়ে কাল দিনের বেলা দেহ উদ্ধার করা হবে।
একই ভাবে অনুপ্রবেশের চেষ্টা হয় নওগাম সেক্টরে। সেনা সূত্রের দাবি, ওই এলাকায় চার জন জঙ্গীকে ঘিরে ফেলা হয়েছে। তাদের সঙ্গে গুলির লড়াই চলছে রাত পর্যন্ত। তবে মারা গিয়েছেন এক জন জওয়ান।
কাশ্মীরের পরিস্থিতি বুঝতে এ দিন শ্রীনগরে রাজ্য প্রশাসন ও সেনাকর্তাদের সঙ্গে বৈঠক করেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রসচিব রাজীব মেহর্ষি। সূত্রের খবর, অনুপ্রবেশের ঘটনা আরও বাড়তে পারে বলে বৈঠকে আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন তিনি। কারণ, নিয়ন্ত্রণরেখার ওপারে বেশ কিছু এলাকায় জঙ্গীরা তৈরি হয়ে রয়েছে বলে জানতে পেরেছেন গোয়েন্দারা। তাঁদের মতে, কাশ্মীরে লাগাতার অশান্তির সুযোগে জঙ্গিরা সহজে ছড়িয়ে পড়তে পারছে। এই অনুকূল পরিস্থিতিকে কাজে লাগিয়ে আরও বেশি জঙ্গিকে ভারতে ঢোকাতে মরিয়া পাক সেনাবাহিনী এবং আইএসআই।
সেই জঙ্গিদের কড়া হাতে দমনের পাশাপাশি পাক ষড়যন্ত্রের উপযুক্ত জবাব দেওয়ার ছাড়পত্রও সেনাবাহিনীকে দিয়েছে কেন্দ্র। এটা ঠিক যে এখনই নিয়ন্ত্রণরেখা লঙ্ঘন করে পাক অধিকৃত কাশ্মীরের মাটিতে কোনও অভিযান চালানো হবে না। কিন্তু ভারতের মাটি থেকেই যাতে সেখানকার পাক-সেনার পরিকাঠামো ধ্বংস করে দেওয়া যায়, তাই প্রস্তুতি নিচ্ছে সেনাবাহিনী এবং বিএসএফ। এক বিএসএফ কর্তার কথায়, ‘‘আজ উরিতে হামলা চালিয়ে পাক সেনা ফের সংঘর্ষবিরতি ভেঙেছে। এ বার এমন জবাব দেওয়া হবে যাতে নিয়ন্ত্রণরেখায় পাকিস্তানের পরিকাঠামো কার্যত অচল হয়ে যায়।’’ নজির হিসেবে বছর দুয়েক আগের পরিস্থিতির কথা উল্লেখ করেছেন তিনি। তখন হঠাৎই কাশ্মীরে প্রবল গুলিবর্ষণ শুরু করেছিল পাক বাহিনী। ভারতের জবাবে কার্যত বিধ্বস্ত হয়ে যায় পাক পরিকাঠামো।
উরির হামলার পরে দুনিয়ার সামনে পাকিস্তানের মুখোশ আরও খুলে দেওয়ার কৌশল নিয়েছে ভারত। কোন পথে তা করা হবে তা নিয়ে আজ দিল্লিতে বৈঠক করেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী রাজনাথ সিংহ। ভিয়েনা থেকে নিউ ইয়র্কে রাষ্ট্রপুঞ্জের সাধারণ সভার অধিবেশনে যোগ দিতে যাওয়ার কথা ছিল বিদেশসচিব এস জয়শঙ্করের। কিন্তু বৈঠকে যোগ দিতে দিল্লি ফিরে আসেন তিনি। হাজির ছিলেন জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা অজিত ডোভালও। কাল এ নিয়ে বৈঠক করবে প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বাধীন মন্ত্রিসভার নিরাপত্তা বিষয়ক কমিটি।
উরির সেনাঘাঁটিতে হত জঙ্গিদের রক্ত এবং‌ ডিএনএ-র নমুনা, জামাকাপড়, অস্ত্র, গ্রেনেড, জিপিএস সেট আজ এনআইএ গোয়েন্দাদের হাতে তুলে দিয়েছে সেনা। সূত্রের খবর, জঙ্গিদের ব্যবহৃত জিনিসপত্র পাকিস্তানি। পাকিস্তানের বিরুদ্ধে কূটনৈতিক লড়াইয়ে অস্ত্র হবে সেগুলি।
সূত্র : আনন্দবাজার পত্রিকা

Print Friendly, PDF & Email
basic-bank

Be the first to comment on "উরিতে সেনাদের গুলিতে প্রাণ হারিয়েছে ১০ জঙ্গী"

Leave a comment

Your email address will not be published.


*