নিউজ ডেস্ক: দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলে সাশ্রয়ী ব্যয়ে ব্যাংকিং সেবা পৌঁছে দিতে চালু হয়েছে এজেন্ট ব্যাংকিং। কৃষকের ঋণ পাওয়ার সুবিধার্থে বিশেষভাবে এজেন্ট ব্যাংকিংকে কাজে লাগাতে এর আওতা বাড়িয়েছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। ফলে এখন থেকে এজেন্ট ব্যাংকেং থেকে কৃষি ও পল্লী ঋণ পাবেন কৃষকরা।
চলতি অর্থবছরে (২০১৬-১৭) দেশে কার্যরত সব ব্যাংকগুলোর জন্য কৃষি ও পল্লী ঋণের লক্ষ্যমাত্রা এবং নীতিমালা ঘোষণা করেছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। রোববার কেন্দ্রীয় ব্যাংকের গভর্নর ফজলে কবির এ নীতিমালা ঘোষণা করেন।
বাংলাদেশ ব্যাংক প্রকাশিত নীতিমালা থেকে জানা যায়, চলতি অর্থবছরে (২০১৬-১৭) ১৭ হাজার ৫৫০ কোটি টাকার কৃষি ও পল্লী ঋণ বিতরণের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। যা গত অর্থবছরের তুলনায় ৭ শতাংশ বেশি। আর ২০১৫-১৬ অর্থবছরে ঋণ বিতরণ করা হয়েছে ১৭ হাজার ৬৪৬ কোটি ৩৯ লাখা টাকা। যা লক্ষ্যমাত্রার ১০৮ শতাংশ। এ সময়ে ঋণ পেয়েছে ৩৪ লাখ ২৬ হাজার ১৩০ জন।
নতুন এ নীতিমালায় বলা হয়েছে, এখন থেকে এজেন্টরা ব্যাংকিংয়ের মাধ্যমে কৃষি ঋণ বিতরণ করতে পারবে। এছাড়াও দেশের সব বেসরকারি বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোকে অবশ্যই তাদের লক্ষ্যমাত্রার ৩০ শতাংশ ঋণ বিতরণ করতে হবে নিজস্ব সক্ষমতায় অর্থাৎ এজেন্ট ব্যাংকিং বা নিজস্ব শাখার মাধ্যমে। যদিও এজেন্টদের কমিশন বা সার্ভিস চার্জবাবদ শূণ্য দশমিক ৫ শতাংশ আদায় করতে পারবে ব্যাংকগুলো, যা নির্ধারিত সুদহারের বাইরে থাকবে।
এছাড়া আড়াই লাখ টাকার কৃষি ঋণে কোনো ধরনের সিআইবি অনুসন্ধানের প্রয়োজন পড়বে না। সারা দেশে আম, লিচুর পাশাপাশি পেয়ারা উৎপাদনে বিশেষভাবে গুরুত্ব দেওয়ার কথা বলা হয়েছে, যেখানে ব্যাংকগুলো সারা বছর ঋণ বিতরণ করতে পারবে।
নতুন নীতিমালায় কৃষি ঋণের সুদের ঊর্ধ্বসীমা ১০ শতাংশ নির্ধারণ করা হয়েছে। গত জুনেই কৃষি ঋণের সুদের ঊর্ধ্বসীমা ১ শতাংশ কমিয়ে ১০ শতাংশ নির্ধারণ করা হয়। নতুন নীতিমালায় বিষয়টি অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। এছাড়া নতুন নীতিমালা ১ জুলাই, ২০১৬ থেকে কার্যকর হয়েছে।
কৃষি ও পল্লী ঋণ নীতিমালা বিষয়ে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের ডেপুটি গভর্নর এস কে সুর চৌধুরী বলেন, বিদেশি ব্যাংকগুলোর বিভিন্ন জায়গায় শাখা খোলায় সমস্যা রয়েছে। কিন্তু ১শ’ বা ২শ’ এজেন্ট নিয়োগ করা কোনো অসুবিধাই নয়। বেসরকারি ব্যাংকগুলোরও গ্রামাঞ্চলে শাখার পরিমাণ কম। তারা এখন এজেন্ট ব্যাংকিং এর মাধ্যমে ঋণ বিতরণ করতে পারবে। এর উদ্যেশ্য হলো কৃষকদের উপর যেন সুদের হার বেশি না হয়।
কারণ হিসেবে তিনি বলেন, এনজিও মাধ্যমে ঋণ বিতরণ করতে গেলে সুদহার এমনিতেই বেড়ে যায়। তবে কোনো ব্যাংক যদি এনজিওর সঙ্গে এমনভাবে চুক্তি করতে পারে যে ব্যাংকের নিজস্ব ব্যবস্থাপনায় যে খরচ হবে তাদের খরচের সমান হয়, তাহলে এনজিওর মাধ্যমে ঋণ বিতরণে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কোনো আপত্তি থাকবে না।
মিউচ্যুয়াল ট্রাস্ট ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও ব্যাংক নির্বাহীদের সংগঠন এবিবির সভাপতি আনিস এ খান বলেন, এজেন্ট ব্যাংকিংয়ে সম্ভাবনা অনেক বেড়ে গেছে। এটা আমাদের দেশে মোবাইল ব্যাংকিংয়ের মত আলোড়ন ফেলে দিতে পারে। এ বছরটা আমরা পুরোপুটি এজেন্ট ব্যাংকিংয়ের মাধ্যমে কাজ করলে বুঝতে পারবো এখান থেকে আমরা কতটা সফলতা পাবো।
সমাপ্ত অর্থবছরের কৃষি ঋণ বিতরণে ১০টি ব্যাংক লক্ষ্যমাত্রা পূরণ করতে পারেনি বলে জানিয়েছেন এস কে সুর। তিনি বলেন, ৫৫ টি ব্যাংকের মধ্যে (বিশেষ বিবেচনায় আইসিবি ইসলামী ব্যাংককে গত বছর কৃষি ঋণ বিতরণ করতে হয়নি) ১০টি ব্যাংক লক্ষমাত্রা পূরণ করতে পারেনি। ব্যাংকগুলো লক্ষ্যমাত্রার যে টাকা বিতরণ করতে পারে নাই, তা বাংলাদেশ ব্যাংক কেটে রাখবে।
উল্লেখ্য, কৃষি ও পল্লী ঋণের নীতিমালা অনুযায়ী দেশের সব বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোকে মোট ঋণের ন্যূনতম আড়াই শতাংশ কৃষি ও পল্লীখাতে বিতরণ করতে হয়। নতুন ব্যাংকগুলোর জন্য এ হার ৫ শতাংশ। যারা এ লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে সক্ষম হবে না তাদের অর্থবছর শেষে লক্ষ্যমাত্রার অনর্জিত অংশ বাংলাদেশ ব্যাংকে বাধ্যতামূলক জমা রাখতে হয়। যে টাকার উপর কেন্দ্রীয় ব্যাংক কোনোরূপ সুদ দেয় না। যা এবারও বলবৎ থাকছে।

Be the first to comment on "এজেন্ট ব্যাংকিংয়ে কৃষি ও পল্লী ঋণ পাবে কৃষক"