তুরস্কে নিহতের সংখ্যা দেড় শতাধিক ছাড়িয়েছে

নিউজ ডেস্ক : তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়েপ এরদোয়ানকে ক্ষমতাচ্যুত করতে সেনাবাহিনীর একাংশের চালানো অভ্যুত্থানের চেষ্টা কার্যত ব্যর্থ হয়েছে। আর সেই সাথে ক্রমেই বাড়ছে নিহতের সংখ্যাও। আন্তর্জাতিক বিভিন্ন গণ্যমাধ্যমে এই নিহতের সংথ্যা ভিন্ন ভিন্ন ভাবে প্রকাশ করা হয়েছে। তবে অধিকাংশ আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমেই বলা হয়েছে নিহতের সংখ্যা দেড়শও বেশি ছাড়িয়ে গেছে।

বিবিসি ও সিএনএন এর খবরে বলা হয়েছে নিহতের সংখ্যা ১৬১ জন। আর অাহত সংখ্যা হাজারেরও বেশি। তবে এনডিটিভি ও বার্তা সংস্থা এএফপি বলছে, শুক্রবার রাতে শুরু হওয়া সেনা অভ্যুত্থান চেষ্টার সময় সংঘর্ষে অন্তত ১৯৪ জন নিহত ও এক হাজারের বেশি মানুষ আহত হয়েছেন।

বার্তা সংস্থা এএফপি বলছে, সেনাবাহিনীর একটি অংশের এই অভ্যুত্থান চেষ্টা ‘ভণ্ডুল’ হয়ে যাওয়ার পর সেনাপ্রধান হুলুসি আকারকে ‘নিরাপদ স্থানে’ সরিয়ে নিয়েছেন নিরাপত্তাকর্মীরা। ভারপ্রাপ্ত সেনাপ্রধান করা হয়েছে জেনারেল উমিত দুনদারকে।

এনডিটিভি ও এপি জানায়, দায়িত্ব পাওয়ার পর টেলিভিশন ভাষণে দুনদার বলেন, সরকার উৎখাতের চেষ্টার চক্রান্তের ঘটনায় ১৯৪ জন নিহত হয়েছেন। এদের মধ্যে ১০৪ জন চক্রান্তকারী, ৪১ জন পুলিশ ও ৪৭ জন সাধারণ মানুষ ও দুইজন সরকার পক্ষের সেনা। ‘সেনা অভ্যুত্থান চেষ্টা ব্যর্থ’ মন্তব্য করে উমিত বলেন, অনেক সেনা সদস্যকে ‘অজানা স্থানে’ নিয়ে যাওয়া হয়েছে।

বিবিসি বলছে, তুরস্কের রাজধানী আঙ্কারা ও ইস্তানবুলে শুক্রবার রাতে প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়েপ এরদোয়ানের বিরুদ্ধে সেনাবাহিনীর একাংশ অভ্যুত্থানের চেষ্টা চালায়। এরপরই সরকার উৎখাতের পক্ষে-বিপক্ষের লোকদের মধ্যে সংঘর্ষ শুরু হয়। শনিবার সকালেও আঙ্কারা ও ইস্তানবুলের পুলিশ সদর দফতর এলাকাতে গোলাগুলির শব্দ পাওয়া যাচ্ছিল। অবকাশ যাপনের মধ্যেই সেনা অভ্যুত্থান চেষ্টার খবর পান প্রেসিডেন্ট এরদোয়ান। এর পরপরই তিনি ইস্তাম্বুল পৌঁছে জাতির উদ্দেশে দেওয়া ভাষণে ‘পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আছে’ বলে জানান।

দেশে ‘ব্যর্থ’ এক সেনা অভ্যুত্থান চেষ্টার পর প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়েপ এরদোয়ান শনিবার ইস্তানবুল বিমানবন্দরে যখন সাংবাদিকদের সামনে কথা বলছিলেন, তখন তার চারপাশ ঘিরে ছিল উল্লসিত কর্মী-সমর্থক।

সাংবাদিক সম্মেলনে এরদোয়ান অভ্যুত্থানকে ‘দেশদ্রোহিতা’ আখ্যা দিয়ে বলেন, ‘যারা এর পেছনে ছিলেন তাদের বড় মূল্য দিতে হবে।’ তিনি বলেন, ‘অভ্যুত্থানে জড়িত কয়েকজন অফিসারকে ইতোমধ্যেই গ্রেফতার করা হয়েছে, আমি এখন সেনাবাহিনীতে শুদ্ধি অভিযান চালাব।’ প্রেসিডেন্টের বক্তব্যের পর অন্তত ২০০ সেনা দেশটির ইস্তানবুলের বসফরাস সেতুতে আত্মসমর্পণ করেন। আটক করা হয় দেড় হাজারের বেশি সেনা সদস্য।

এর আগে এরদোয়ানের হাজার হাজার সমর্থকের বিক্ষোভের মুখে সেনা বাহিনীর বিদ্রোহী অংশ ইস্তাম্বুল বিমান বন্দর থেকে সড়ে যেতে বাধ্য হয়।

সামরিক অভ্যুত্থানের প্রচেষ্টা ব্যর্থ করতে প্রেসিডেন্ট এরদোয়ানের ডাকে সাড়া দিয়ে হাজার হাজার সমর্থক বিভিন্ন শহরে বিক্ষোভ করছেন।

দেশের প্রধানমন্ত্রী বিনালি ইলদিরিম বলেছেন, পরিস্থিতি এখন সরকারের নিয়ন্ত্রণে এসেছে, এবং রাজধানী আঙ্কারার আকাশে বিমান উড্ডয়ন নিষিদ্ধ করা হয়েছে।

প্রেসিডেন্ট এরদোয়ানের প্রতি সমর্থন জানিয়েছে তুরস্কের ঘনিষ্ঠ মিত্র মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র। প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা এক বিবৃতিতে সকল পক্ষকে দেশের গণতান্ত্রিকভাবে নির্বাচিত সরকারকে সমর্থন করার জন্য এবং রক্তপাত এড়ানোর আহ্বান জানান।

সেনা অভ্যুত্থান চেষ্টার সময় আঙ্কারায় সরকার সমর্থকরা রাষ্ট্রীয় প্রচার মাধ্যম টিআরটি-র নিয়ন্ত্রণ অভ্যুত্থানকারীদের হাত থেকে দখল করে নেয়।

পরে প্রেসিডেন্ট এরদোয়ান সমর্থকরা ইস্তানবুলের আন্তর্জাতিক বিমান বন্দরের ভেতরে অবস্থান নেন।

বিভিন্ন মসজিদ থেকে ফজরের নামাজের কয়েক ঘণ্টা আগেই আযান দেয়া হয় এবং মানুষকে ‘গণতন্ত্র রক্ষার’ জন্য রাস্তায় নামার আহ্বান জানানো হয়।

তবে এর আগে একটি টেলিভিশন ঘোষণায় তুরস্কের সেনাবাহিনীর একটি অংশ দাবি করে, তারা দেশের নিয়ন্ত্রণ নিয়েছে। সেনাবাহিনীর বিবৃতিতে বলা হয়, এখন থেকে একটি ‘পিস কাউন্সিল’ দেশ পরিচালনা করবে। দেশে কারফিউ এবং মার্শাল ল’ জারি করা হয়েছে। তবে এখন পর্যন্ত এটা পরিষ্কার নয় যে, এই ঘটনার সঙ্গে কারা জড়িত। এই ঘটনাকে ক্ষুদ্র একটি গোষ্ঠীর প্রচেষ্টা বলে বর্ণনা করেছেন দেশটির প্রেসিডেন্ট এরদোয়ান। ইউরোপীয় ইউনিয়নের একটি সূত্র রয়টার্সকে বলেছে, সবকিছু দেখে এটা একটি পরিকল্পিত অভ্যুত্থান বলেই মনে হচ্ছে। কারণ তারা সব গুরুত্বপূর্ণ স্থানে অবস্থান নিয়েছে। খুব সহজে এর শেষ হবে বলে মনে হচ্ছে না।

 

Print Friendly, PDF & Email
basic-bank

Be the first to comment on "তুরস্কে নিহতের সংখ্যা দেড় শতাধিক ছাড়িয়েছে"

Leave a comment

Your email address will not be published.


*