দেশে ফিরলেন খালেদা জিয়া

নিউজ ডেস্ক : পবিত্র হজ পালন শেষে দেশে ফিরেছেন বিএনপি চেয়ারপার্সন খালেদা জিয়া। বিকেল সোয়া ৫টায় এমিরেটস এয়ারলাইনসের একটি ফ্লাইটে তিনি ঢাকার শাহজালাল (রা.) আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণ করেন। খালেদা জিয়াকে স্বাগত জানাতে বিমানবন্দর এলাকায় বিপুল সংখ্যক নেতাকর্মী উপস্থিত ছিলেন। বিমানবন্দর থেকে সরাসরি গুলশানের বাসায় চলে যান খালেদা জিয়া।
বিমানবন্দরে খালেদা জিয়াকে স্বাগত জানান বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাস, আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী, ভাইস চেয়ারম্যান আব্দুল্লাহ আল নোমান, মোহাম্মদ শাহজাহানসহ বিএনপি ও এর অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা। তবে খালেদা জিয়াকে স্বাগত জানাতে বিমানবন্দরে যাওয়া নেতাকর্মীদের মধ্যে অনেকেই ভেতরে প্রবেশের সুযোগ না পেয়ে বিমানবন্দরে সড়কে অবস্থান মিছিল করেন। তবে খালেদা জিয়া বিমানবন্দর থেকে বেরিয়ে গুলশানের বাসায় যাওয়ার পথে সড়কে অবস্থান করা নেতাকর্মীরা বিভিন্ন স্লোগান দিয়ে তাকে হাত নেড়ে স্বাগত জানান। এর আগে মদিন থেকে বাংলাদেশের উদ্দেশে রওনা দেয়ার আগে সৌদি সময় ভোর পৌনে ৪টায় খালেদা জিয়াকে বিদায় জানান সেদেশে অবস্থানরত বিএনপি নেতাকর্মীরা।
এদিকে বিমানবন্দরে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ও ঢাকা মহানগর আহ্বায়ক মির্জা আব্বাস বলেন, বিএনপি নয়, সরকারই নির্বাচন কমিশনকে বিতর্কিত করেছে। তবে বিএনপি আশা করে নির্বাচন কমিশনসহ সব সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানকে সরকার নিরপেক্ষ রাখবে। গণতন্ত্রের স্বার্থেই সরকারকে তা করতে হবে।
৭ সেপ্টেম্বর বিকেল ৫টায় ঢাকা থেকে সৌদি এয়ারলাইন্সের একটি ফ্লাইটে রওনা হয়ে সৌদি আরবের স্থানীয় সময় রাত ১২টায় বিএনপি চেয়ারপার্সন খালেদা জিয়া জেদ্দা কিং আব্দুল আজিজ বিমানবন্দরে পৌঁছান। আর একই দিনে এমিরেটস এয়ারলাইন্সের একটি ফ্লাইটে লন্ডন থেকে রওনা দিয়ে ৮ সেপ্টেম্বর সৌদি আরবের স্থানীয় সময় ভোর ৫টায় জেদ্দা কিং আব্দুল আজিজ বিমানবন্দরে অবতরণ করেন বিএনপির সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান ও খালেদা জিয়ার বড় ছেলে তারেক রহমান, তার স্ত্রী ডা. জোবাইদা রহমান, মেয়ে জাইমা রহমান ও প্রয়াত আরাফাত রহমান কোকোর স্ত্রী শর্মিলা রহমান। সেদিন থেকে একত্রিত হয়ে হজ পালন ও খালেদা জিয়া সৌদি আরব ত্যাগের আগ পর্যন্ত তারা একসঙ্গেই অবস্থান করন।
সৌদি আরব অবস্থানকালে হজ করার পাশাপাশি বিএনপি চেয়ারপার্সন খালেদা জিয়া দলের বিভিন্ন বিষয় নিয়ে ছেলে তারেক রহমানের সঙ্গে কথা বলেছেন বলে জানা গেছে। এ ছাড়া সৌদি ্আরব বিএনপির নেতাকর্মীরা তার সঙ্গে সাক্ষাৎ করতে গেলে তিনি তাদের ঐক্যবদ্ধ থেকে দলের জন্য কাজ করতে বলেছেন।
১১ সেপ্টেম্বর সৌদি বাদশা সউদ বিন আবদুল আজিজের আমন্ত্রণে রাজকীয় অতিথি হিসেবে খালেদা জিয়া সপরিবারে সৌদি আরবের মক্কায় ঐতিহাসিক আরাফাতের ময়দানে পবিত্র হজ সম্পন্ন করেন। এ সময় তাঁর সঙ্গে ছিলেন ছেলে তারেক রহমান ও তার স্ত্রী ডা. জোবাইদা রহমান, মেয়ে জাইমা রহমান ও ছোট ছেলে প্রয়াত আরাফাত রহমান কোকোর স্ত্রী শর্মিলা রহমান. খালেদা জিয়ার উপদেষ্টা কাউন্সিলের সদস্য এনামুল হক চৌধুরী, বিএনপির তথ্যপ্রযুক্তি বিষয়ক সম্পাদক শরীফ শাহ কামাল তাজ, একান্ত সচিব আবদুস সাত্তার, আলোকচিত্রী নুরুউদ্দিন আহমেদ ও গৃহকর্মী ফাতেমা। ১৭ সেপ্টেম্বর খালেদা জিয়া তাঁর সফরসঙ্গীদের নিয়ে মক্কা থেকে মদিনা শরিফ যান। সেখানে বিশ্বনবি হজরত মুহাম্মদ (সা.)-এর রওজা মোবারক জিয়ারত ও নফল ইবাদত করেন তিনি। বৃহস্পতিবার ভোর ৪টায় সৌদি আরব থেকে খালেদা জিয়া বাংলাদেশ থেকে যাওয়া তাঁর সফরসঙ্গীদের নিয়ে দেশের উদ্দেশে রওনা দেন। পথে দুবাই বিমানবন্দরে প্রায় ২ ঘন্টা যাত্রা বিরতি করে বিকেল সোয়া ৫টায় দেশে ফিরে আসেন। আর তারেক রহমান, তার স্ত্রী ডা. জোবাইদা রহমান, মেয়ে জায়মা রহমান ও আরাফাত রহমান কোকোর স্ত্রী শর্মিলা রহমান লন্ডনে ফিরে যান।
উল্লেখ্য, এটি হচ্ছে খালেদা জিয়ার তৃতীয় হজ। এর আগে ১৯৯১ সালে প্রধানমন্ত্রী থাকাকালে একবার এবং ১৯৯৭ সালে বিরোধী দলের নেতা থাকাকালে তিনি আরও একবার হজ করেন। তবে প্রায় প্রতিবছরই রমজানে তিনি ওমরাহ পালন করনে। আট বছর ধরে যুক্তরাজ্যে থাকা ছেলে তারেক রহমানকে নিয়ে ২০১৪ সালের জুলাই মাসে মায়ের সঙ্গে ওমরাহ পালন করেছিলেন। গতবছর তারেক রহমান লন্ডন থেকে সৌদি আরব যাওয়ার ভিসা না পাওয়ায় খালেদা জিয়াও ওমরাহ করতে যাননি। তবে গতবছর ১৫ সেপ্টেম্বর লন্ডন সফরে যান বিএনপি চেয়ারপার্সন খালেদা জিয়া। লন্ডন সফরে গিয়ে ছেলে তারেক রহমানসহ পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে ২ মাসেরও বেশি সময় অবস্থান করে গতবছর ২১ নভেম্বর দেশে ফিরে আসেন তিনি।

Print Friendly, PDF & Email
basic-bank

Be the first to comment on "দেশে ফিরলেন খালেদা জিয়া"

Leave a comment

Your email address will not be published.


*