নিউজ ডেস্ক : সুখোই ৩০-এমকেআইয়ের চাকা ছুঁল অরুণাচল প্রদেশের পাসিঘাটের নবনির্মিত অ্যাডভান্সড ল্যান্ডিং গ্রাউন্ডের (এএলজি) রানওয়ে। ৫৪ বছর পরে ফের সচল হল পাসিঘাট বিমানঘাঁটি। আর এই প্রথম অরুণাচলের আকাশে উড়ে রাজ্যের রানওয়েতে অবতরণ করল যুদ্ধবিমান সুখোই। ভারত-চিন সীমান্তে অরুণাচলের ওয়ালং, জিরো, আলো, মেচুকার পরে পাসিঘাটেও এএলজি চালু করে চিনের উদ্দেশে কড়া চ্যালেঞ্জও ছুঁড়ে দিল ভারত।
এ দিন পাসিঘাট এএলজির আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী কিরেণ রিজিজু ও এয়ার মার্শাল সি হরিকুমার। হাজির ছিলেন রাশিয়া থেকে প্রথম সুখোই ভারতে উড়িয়ে আনা অরুণাচলি পাইলট মহন্ত পাংগিং। এ দিন নিজের ঘরের মাটিতে সুখোই নামতে দেখে আবেগতাড়িত হয়ে পড়েন পাংগিং।
১৯৬২ সালের ভারত-চিন যুদ্ধের পর থেকে পরিত্যক্ত হয়ে পড়ে থাকা পশ্চিম সিয়াং জেলার পাসিঘাঁট বিমানঘাঁটি ২০১০ সালে হাতে নেয় বিমান বাহিনী। তখন সেখানকার রানওয়ে ছিল ভাঙাচোরা, জঙ্গলে ঢাকা। সেই পাসিঘাটে ‘পারফোরেটেড’ ইস্পাত বসিয়ে দীর্ঘ রানওয়ে তৈরি করে বিমানবাহিনী। তৈরি হয় এয়ার ট্রাফিক কন্ট্রোল টাওয়ার, রাস্তা, সুরক্ষিত দেওয়াল। এখান থেকে ওঠানামা করবে ফিক্সড ডানার বিমান, সামরিক ও অসামরিক বিভিন্ন হেলিকপ্টার। যুদ্ধ ও প্রতিরক্ষার পাশাপাশি পাসিঘাট বিমানঘাঁটি চালু হওয়ায় স্থানীয় পর্যটনেও ব্যাপক জোয়ার আসবে বলে রিজিজুর আশা। তাঁর আশা, প্রাকৃতিক সৌন্দর্যে ভরপুর পাসিঘাটকে কেন্দ্র করে অরুণাচলের এ দিককার পর্যটনস্থলগুলির বিকাশ হবে। এয়ারপোর্ট অথরিটি অফ ইন্ডিয়া শীঘ্রই পাসিঘাটে অসামরিক টার্মিনাল তৈরি শুরু করবে বলে তিনি জানান।
বিমানবাহিনী ২০০৯ সালে অরুণাচলপ্রদেশের সঙ্গে রাজ্যের আটটি বিমানঘাঁটিকে এ্যাডভান্সড ল্যান্ডিং গ্রাউন্ডে উন্নীত করার জন্য চুক্তি স্বাক্ষর করে। এর জন্য খরচ ধরা হয়েছে হাজার কোটি টাকা। এখনও পর্যন্ত পাসিঘাট-সহ পাঁচটি এএলজি চালু হল। বিমানবাহিনী সূত্রে জানানো হয়, তুতিং ও তাওয়াং এএলজির কাজও এই বছরের মধ্যেই শেষ হয়ে যাবে। মিয়াও ও বিজয়নগরের মধ্যে সড়ক সংযোগ চালু হওয়ার পরেই বিজয়নগর এএলজির কাজ শুরু হবে।
অরুণাচলের ১৬৮০ কিলোমিটার আন্তর্জাতিক সীমান্তের মধ্যে ১০৮০ কিলোমিটার সীমান্তই চিনের সঙ্গে। সীমান্তের ওপারে চিনের সমরসজ্জা এবং পরিকাঠামো ভারতের চিন্তা বাড়িয়েছে। সে দিকে লক্ষ রেখে ভারতও লাদাখ থেকে অরুণাচল পর্যন্ত পাকা সীমান্ত সড়ক তৈরির প্রকল্প নিয়েছে। এ দিন সুখোই উড়ান তাই শুধু আনুষ্ঠানিকতা ছিল না। ছিল ভারতের সমরসজ্জার গুরুত্বপূর্ণ নিদর্শন ও পড়শি দেশের প্রতি বার্তা। পাসিঘাটের রানওয়ে মোহনবাড়ির থেকেও লম্বা। প্রয়োজনে সেখানে সুখোই ওঠানামা করতে পারবে। অসমের তেজপুর ও চাবুয়ায় দুই স্কায়াড্রন সুখোই মোতায়েন আছে।
পাসিঘাটে সুখোই ৩০এমকেআইয়ের চাকা, ভারতের বার্তা চিনকে

Be the first to comment on "পাসিঘাটে সুখোই ৩০এমকেআইয়ের চাকা, ভারতের বার্তা চিনকে"