ফাহিম মুনয়েমের প্রতি শেষ শ্রদ্ধা

নিউজ ডেস্ক: মাছরাঙ্গা টেলিভিশনের প্রধান সম্পাদক ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা সৈয়দ ফাহিম মুনয়েমের প্রতি শেষ শ্রদ্ধা জানিয়েছেন সাংবাদিকরা।

শুক্রবার সকাল সাড়ে ১০টায় জাতীয় প্রেস ক্লাবে তার মরদেহ আনা হলে স্মৃতিকাতর ও আবেগপ্রবণ হয়ে পড়েন দৈনিক সংবাদে তার সাবেক সহকর্মী সাংবাদিক কার্তিক চ্যাটার্জিসহ অনেকে।

পরে প্রেস ক্লাব প্রাঙ্গণেই প্রয়াতের জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। এতে অংশ নেন অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত, তথ্যমন্ত্রী হাসানুল হক ইনু, প্রধানমন্ত্রী তথ্য উপদেষ্টা ইকবাল সোবহান চৌধুরী, সাবেক প্রধান তথ্য কমিশনার মোহাম্মদ জমির, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য আ আ ম স আরেফিন সিদ্দিক ও মাছরাঙা টেলিভিশনের চেয়ারম্যান অঞ্জন চৌধুরী।

গণমাধ্যমের ব্যক্তিত্বদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন রিয়াজ উদ্দিন আহমেদ, আলতামাস কবির, সালেহ চৌধুরী, হাসান শাহরিয়ার, গোলাম তাহাবুর, মাহফুজউল্লাহ, মনিরুজ্জামান, কাশেম হুমায়ুন, সৈয়দ আবদাল আহমেদ, ইশতিয়াক রেজা, রেজওয়ানুল হক রাজা, জাতীয় প্রেস ক্লাবের সভাপতি মুহম্মদ শফিকুর রহমান, সাধারণ সম্পাদক কামরুল ইসলাম চৌধুরীসহ অনেকে।

জানাজা শেষে অর্থমন্ত্রী প্রয়াতের পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে কথা বলেন, তাদের সান্ত্বনা ও সমবেদনা জানান।

এর পর ফাহিম মুনয়েমের মরদেহ বনানীতে মাছরাঙ্গা কার্যালয় ও পরে গুলশানের নিজের বাসায় নিয়ে যাওয়া হবে বলে পরিবারের সদস্যরা জানিয়েছেন। জুমআর পর গুলশান আজাদ মসজিদে জানাজা শেষে তাকে বনানী কবরস্থানে দাফন করা হবে।

হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে গুলশানের বাসায় বুধবার ভোরে ৬২ বছর বয়সী ফাহিম মুনয়েমের মৃত্যু হয়। স্ত্রী ও তিন ছেলে রেখে গেছেন ফাহিম মুনয়েম।

১৯৫৩ সালে ঢাকায় জন্ম নেন ফাহিম। তার বাবা সৈয়দ নূরউদ্দিন এক সময় দৈনিক সংবাদের বার্তা সম্পাদক ছিলেন।

ব্যবস্থাপনা বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্র থেকে ডিগ্রি নিলেও দেশে ফিরে বাবার পথ ধরে পেশা হিসেবে সাংবাদিকতাকেই বেছে নেন ফাহিম মুনয়েম।

১৯৮২ সালে দৈনিক সংবাদে যোগ দেওয়ার মধ্য দিয়ে তার পেশাজীবন শুরু। এরপর মর্নিং সান ও ইউএনবিতে কাজ করেছেন তিনি, ছিলেন ডেইলি স্টারের ব্যবস্থাপনা সম্পাদকের দায়িত্বেও।

ডেইলি স্টারে থাকা অবস্থায়ই ২০০৭ সালে তখনকার তত্ত্বাবধায়ক সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ফখরুদ্দীন আহমদের প্রেস সচিবের দায়িত্ব পান ফাহিম মুনয়েম।

তার আগে ১৯৯১ সালে বিএনপি সরকারের আমলে জাপানে বাংলাদেশ ‍দূতবাসের প্রেস কাউন্সিলর করা হয়েছিল তাকে।

২০১০ সালে মাছরাঙ্গা টেলিভিশনের যাত্রা শুরুর সময় ফাহিম মুনয়েম যোগ দেন প্রধান নির্বাহী হিসেবে। গত ছয় বছর তার নেতৃত্বেই সম্প্রচার চালিয়ে আসছিল টেলিভিশন চ্যানেলটি।

সহকর্মী সংবাদকর্মীদের অনেকের কাছে ফাহিম মুনয়েম ‘টিপু ভাই’ হিসেবেই বেশি পরিচিত ছিলেন।

Print Friendly, PDF & Email
basic-bank

Be the first to comment on "ফাহিম মুনয়েমের প্রতি শেষ শ্রদ্ধা"

Leave a comment

Your email address will not be published.


*