নিউজ ডেস্ক: রডের পরিবর্তে বাঁশের চটা ব্যবহার করে সরকারি ভবন নির্মাণের ঘটনায় সংশ্লিষ্ট প্রকল্পের পরিচালককে খাগড়াছড়িতে বদলি করেছে সরকার, যা শাস্তিমূলক ব্যবস্থা হিসেবে জনপ্রশাসনে দেখা হয়ে থাকে।
এছাড়া চুয়াডাঙ্গার ওই নির্মাণকাজ সংশ্লিষ্ট একজন পরামর্শকের লিয়েন বাতিল করে তাকেও বরগুনায় বদলি করা হয়েছে।
মঙ্গলবার এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে কৃষি মন্ত্রণালয় এই তথ্য জানালেও ‘শাস্তি’ পাওয়া কর্মকর্তাদের নাম জানায়নি। মন্ত্রণালয়ের জনসংযোগ কর্মকর্তার সঙ্গে একাধিকরার যোগাযোগ করেও এদের নাম পাওয়া যায়নি।
এই দুই কর্মকর্তাকে এক দিনের মধ্যে নতুন কর্মস্থলে যোগ দিতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
চুয়াডাঙ্গার দর্শনায় কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের নির্মাণাধীন একটি ভবনে রডের পরিবর্তে বাঁশের চটা ব্যবহার করায় কাজ বন্ধ করে দেয় স্থানীয় প্রশাসন।
গণমাধ্যমে প্রকাশিত সংবাদে কৃষি মন্ত্রণালয়ের দৃষ্টি আকৃষ্ট হয়েছে জানিয়ে বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর গত ৭ এপ্রিল তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি করেছে।
“কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর হতে ভবনটির নির্মাণ কাজ সরাসরি তদারকির দায়িত্বে থাকা উপ-সহকারী প্রকৌশলী কামরুন নাহারকে কৈফিয়ত তলব করা হয়েছে।”
“প্রকল্পের প্রকল্প পরিচালককে শাস্তিমূলক বদলি করে খাগড়াছড়িতে পদায়ন করা হয়েছে এবং নির্মাণকাজ সংশ্লিষ্ট একজন পরামর্শককে তার লিয়েন বাতিল করে শাস্তিমূলক বদলি হিসেবে বরগুনায় পদায়ন করা হয়েছে।”
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের পরিকল্পনা, প্রকল্প বাস্তবায়ন ও আইসিটি উইংয়ের ভৌত অবকাঠামো উন্নয়ন শাখার আওতাধীন রক্ষণাবেক্ষণ ছাড়া সকল প্রকার নতুন নির্মাণ কাজ বন্ধ করা হয়েছে।
চুক্তির শর্তানুযায়ী এই নির্মাণ কাজের তদারকির দায়িত্বে থাকা ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান ‘জয় ইন্টারন্যাশনাল’ ও ‘ইঞ্জিনিয়ার্স কনসোর্টিয়াম লিমিটেড’ এর বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নিয়ে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে মন্ত্রণালয়কে অবহিত করতে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের মহাপরিচালককে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে বলেও বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে।
এতে বলা হয়, রডের বদলে বাঁশের চটা দিয়ে ভবন নির্মাণের গঠনায় গত ১১ এপ্রিল দামুড়হুদা থানায় একটি ফৌজদারি মামলা করা হয়েছে।
তদন্তের পর অপরাধীদের সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিত করা হবে বলে বিজ্ঞপ্তিতে দেশবাসীকে আশ্বস্ত করা হয়েছে।

Be the first to comment on "রডের বদলে বাঁশ: প্রকল্প পরিচালককে খাগড়াছড়ি বদলি"