লোহাগড়া পৌরসভায় গরীবের জন্য আইন নেই, আছে নীতিমালা

লোহাগড়া পৌরসভায় গরীবের জন্য আইন নেই, আছে নীতিমালা

নিউজ ডেস্ক ॥ স্থাপনা নির্মাণে আইনের বাধ্য-বাধকতা আছে। তবে সকলের জন্য তার প্রয়োগ নেই। ক্ষেত্র বিশেষে আইন শিথিল হয়। সুবিধা পায় ধন্যাঢ্যরা আর গরীবের ক্ষেত্রে নিয়মের বেড়া জালে আটকে যায় সকল সুযোগ সুবিধা। গরীবের একটি টয়লেট নির্মাণ করতে গেলেও পৌর কর্তৃপক্ষের অনুমতি প্রয়োজন হলেও ধনীদের ভবন নির্মাণের বেলায় পৌর আইনের প্রয়োগ দেখা যায় না। লোহাগড়া পৌরসভায় চোখে পড়ে এমন বৈষম্য। বৈষম্যের বদৌলতে বঞ্চিত সাধারণ পৌরবাসী। এসব মানুষেরা কর্তা-ব্যক্তিদের পেছনে ছুটে বেড়ান একটু ছাড় পাওয়ার আশায়। কিন্তু কর্তৃপক্ষের আশ্বাস ছাড়া শেষ পর্যন্ত কিছুই জোটে না তাদের। কাজ করার স্বার্থে অবশেষে অফিসের প্রতি ডেক্সে দিতে হয় নজরানা। অনুসন্ধান আর ভুক্তভোগী সাধারণ মানুষের সাথে কথা বলে জানা গেছে নানা এসব বঞ্চনার কথা।
পৌর নীতিমালায় পৌর এলাকায় যে কোন স্থাপনা নির্মাণ ও পরিবর্তনে কর্তৃপক্ষের অনুমতি নেওয়ার কথা উল্লেখ রয়েছে। এজন্য নকশার অনুমোদন গ্রহণসহ জনস্বার্থকে অগ্রাধিকার দিয়েছে স্থানীয় সরকার আইন। আইনকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে কর্তৃপক্ষকে তুষ্ট করে স্বার্থ হাসিল করে ধণিক ও বণিক শ্রেণির লোকজন। পৌরসভার লোকজনকে ম্যানেজ করে গড়ে তুলছেন ইচ্ছেমতো স্থাপনা। সড়কের ওপর প্রাচীর নির্মাণ করার ফলে জরুরী পরিসেবা ফায়ার সার্ভিস ও এ্যাম্বুলেন্স সড়কে ডুকতে না পেরে অনেক ক্ষেত্রে পরিবেশ বিপর্যয় ও দুর্ঘটনা ঘটছে,তারপরেও কর্তৃপক্ষ থাকে উদাসীন। এমনকি রুদ্ধ হয় দূর্বলদের পথচলা। বন্ধ হয় বাড়ি থেকে বের হওয়ার সামান্য পায়ে চলার রাস্তা। সাধারণ মানুষের চলাচলে কোন প্রকার বিঘœ সুষ্টি করা যাবে না-বাংলাদেশ সংবিধানের এ সংক্রান্ত ধারাকে মানা হচ্ছে না। তারপরও পৌর কর্তৃপক্ষের টনক নড়ে না। কারন আইন শুধু দূর্বলদের জন্য। সম্প্রতি পৌরসভার ৭ নং ওয়ার্ডের লক্ষীপাশা আদর্শপাড়ায় উপসচিব পরিচয়দানকারী বিটিআরসির সহকারী পরিচালক-সাবরেজিষ্ট্রার দম্পতি পৌরসভা কর্তৃক টেন্ডারের মাধ্যমে নির্মিত প্রায় ১২ বছরের পুরনো হেরিংবোন সড়কের ইট তুলে সীমানা প্রাচীর তৈরী করেন। প্রাচীর নির্মাণের ফলে মুহুর্তেই অবরুদ্ধ হয়ে পড়ে ওই এলাকার ৫টি পরিবার। অবরুদ্ধ পরিবারের পক্ষ থেকে প্রতিকার চেয়ে লোহাগড়া পৌর মেয়র ও লোহাগড়া থানা অফিসার বরাবর আবেদন করা হয়। এক্ষেত্রে পৌর কর্তৃপক্ষ যথারীতি নিরব দর্শক বনে গেছেন। আবেদন পেলেও সৃষ্ট সমস্যা সমাধানে ডাকা হয়নি অভিযুক্তদের। দেওয়া হয়নি সড়কের ইট তুলে ব্যক্তিগত কাজে ব্যবহারে কোন কারন দর্শানো নোটিশ। শুধু তাই নয়, প্রভাবশালী ওই দম্পতি কারাগারের প্রাচীর সম দেয়াল তৈরী করে দূর্বলদের বেঁচে থাকার শেষ নিশ্বাসের ওপর হেনেছেন তীব্র আঘাত। প্রাচীর নির্মাণেও মানা হয়নি পৌর কোড। এমনকি নেওয়া হয়নি পৌর কর্তৃপক্ষের অনুমতি। তবুও ঘুম ভাঙেনি পৌর কর্তৃপক্ষের। কারন, আইন শুধু দূর্বলদের জন্য। প্রতিকারের আবেদনে পড়ছে ধুলা, জমছে গরীবের চোখের পানি। সবলদের কোন অপরাধ নেই। বরং সবলদের ডেকে নিয়ে করা হয় আপ্যায়ন। এ দৃশ্য দেখা ছাড়া গরীবের পাশে দাঁড়ানোর কেউ নেই। আইনরক্ষকদের সাহায্য চাইলেও মেলে একই ধরনের আচরন। থানায় সহযোগিতার জন্য আবেদন নিয়ে গেলে উল্টো হুমকি-ধামকিসহ দেখানো হয় ভয়-ভীতি। উপসচিব পরিচয়দানকারী বিটিআরসির সহকারী পরিচালক মোঃ আলী কাওছার সুমন-মুকসুদপুর উপজেলায় কর্মরত সাবরেজিষ্ট্রার নাজনীন জাহান দম্পতি অবৈধ অর্থের কুপ্রভাবে এলাকায় ত্রাস সৃষ্টি করলেও তাদের বরং সমীহ করা হচ্ছে। দূর্বলদের কথাও তারা শুনতে চায় না। তাদের চোখে দৃর্বলরা মানুষ নয়। তাই কোন উপায় না দেখে ভুক্তভোগী পরিবারের সদস্যরা ছুটে যান নড়াইল-২ আসনের মানবিক এমপি ক্যাপ্টেন মাশরাফী বিন মোর্ত্তজার কাছে। দেখা করে আইনের অপব্যবহারকারী ও অবরুদ্ধ অবস্থা থেকে পরিত্রাণ পেতে লিখিত আবেদন দাখিল করেছেন তারা। মানবিক এমপি নিজে দুরবস্থার কথা শুনে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার নিশ্চয়তা দিয়েছেন বলে ভুক্তভোগীরা জানান।
সাধারণ মানুষ স্থাপনা নির্মাণ করলে হাজির হয় পৌর কর্তৃপক্ষ। ভোটের রাজনীতিতে সাধারণ মানুষের প্রয়োজন পড়লেও পৌরসভা থেকে পাওয়া যাচ্ছে না ন্যুনতম সেবা। বরং ট্যাক্সের বোঝা দিনদিন আরও ভারী হচ্ছে। রাস্তা-ঘাট ও বাড়ি নির্মাণে পৌরবাসীর পারস্পারিক দ্বন্ধ¦ নিরসনে শুধু মিলছে আশ্বাস। কার্যকরী কোন পদক্ষেপ দেখা যাচ্ছে না। আর তাই প্রভাবশালীদের ভয়ে কুকড়ে গেছে সাধারণ মানুষ। মানবতা আজ কোথায়-প্রশ্ন ভুক্তভোগী মানুষের!

Print Friendly, PDF & Email
basic-bank

Be the first to comment on "লোহাগড়া পৌরসভায় গরীবের জন্য আইন নেই, আছে নীতিমালা"

Leave a comment

Your email address will not be published.


*