লোহাগড়ায় মহিলা কলেজের অধ্যক্ষের সিমাহীন দুর্নীতির বিরুদ্ধে পোষ্টারিং ও লিফলেট বিতরন

লোহাগড়ায় মহিলা কলেজের অধ্যক্ষের সিমাহীন দুর্নীতির বিরুদ্ধে পোষ্টারিং ও লিফলেট বিতরন

নিউজ ডেস্ক॥ নড়াইলের লোহাগড়া উপজেলার প্রাণকেন্দ্রে অবস্থিত লক্ষীপাশা মহিলা আদর্শ ডিগ্রি কলেজ। নারী শিক্ষার প্রসারে কলেজটি কাজ করে যাচ্ছে ১৯৯৫ সাল থেকে। প্রতিষ্ঠার পর থেকে শিক্ষামূলক কার্যক্রমে উপজেলার কলেজ গুলোর মধ্যে ছিল অন্যতম। কলেজের ধারাবাহিক কার্যক্রম যখন সকল মহলে প্রশংসিত হয় তখন চাকুরী বিধি মোতাবেক ২০০৩ সালে অবসরে যান প্রতিষ্ঠাকালিন অধ্যক্ষ শেখ এখলাচুর রহমান। ২০০৬ সালে কলেজে যোগদান করেন অধ্যক্ষ তরফদার কামরুল ইসলাম। সেই থেকে কলেজের কপাল পুড়েছে বলে দাবী কলেজের শিক্ষক, কর্মচারী ও অধ্যয়নরত শিক্ষার্থী এবং অভিভাবকদের। একের পর এক দুর্নীতি, স্বেচ্ছাচারিতা ও কথায় কথায় অধীনস্থদের হুমকি-ধমকি দিয়ে প্রায় অচল করে রেখেছেন কলেজের প্রশাসনিক বিভাগ। এতে করে দীর্ঘদিন স্থবির হয়ে পড়ে আছে কলেজের প্রশাসনিক ও শিক্ষা কার্যক্রম। কলেজের শিক্ষার মান ফিরিয়ে আনতে এলাকাবাসী গত মঙ্গলবার ( ৩ সেপ্টেম্বর) রাতে অধ্যক্ষের অপসারণ ও দুর্নীতির খন্ড চিত্রের ফিরিস্তি তুলে ধরে পোষ্টার ও লিফলেট বিতরণ করেছেন।
খোজ নিয়ে জানা যায়, অধ্যক্ষ তরফদার কামরুল ইসলাম পূর্বে সহকারী অধ্যক্ষ হিসেবে নিয়োগ পেয়েছিলেন যশোর জেলার তালবাড়িয়া ডিগ্রি কলেজে। সেখানে সীমাহীন দুর্নীতি, অনিয়ম, সেচ্ছাচারিতা ও স্বৈরতান্ত্রিকতার কারনে চাকুরীচ্যুত হয়। তিনি তৎকালিন বিএনপি-জামায়াত জোট সরকারের নড়াইল সদর উপজেলার তুলারামপুর ইউনিয়ন বিএনপি’র যুগ্ন সাধারন সম্পাদক ছিলেন। দলীয় ক্ষমতার জোরে নিয়োগ বিধি লংঘন করে অধ্যক্ষ হিসাবে নিয়োগ পান লক্ষীপাশা অদর্শ মহিলা ডিগ্রী কলেজে। যোগদানের পর ২০১২ সালে ডিগ্রি অর্জনের অজুহাতে প্রায় দু’বছর কলেজে অনুপস্থিত থেকে বাড়িতে আত্মগোপনে ছিলেন। বাড়িতে বসে ডিগ্রি অর্জন করলেও কলেজের বেতন ভাতা উত্তোলন করেছেন প্রায় ৬ লক্ষ টাকা। কলেজে ১৮জন শিক্ষক-কর্মচারী নিয়োগে ২ কোটি টাকার বাণীজ্য করেন তিনি। সমপ্রতি একাদশ শ্রেণীতে ভর্তি ফি ১হাজার টাকার স্থলে ২হাজার ৫’শ, এইচ এসসি ও বিএ প্রথম বর্ষ থেকে তৃতীয় বর্ষ ফর্ম পূরণে প্রায় দশলক্ষ টাকা অতিরিক্ত আদায়, ২০১৭,১৮,১৯ সালের আগষ্ট মাস পর্যন্ত ভূয়া বিল ভাউচারের মাধ্যমে ২লক্ষ ৫০হাজার টাকা উত্তোলন করে আত্মসাত করেন। এ ছাড়াও কলেজ তহবিল থেকে ৯ লক্ষ ৪৮হাজার ২’শ ৫০ টাকা, এবং সরকারী তহবিল হইতে ৬ লক্ষ টাকা আত্মসাত ছাড়াও কলেজের বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্পের নামে অর্থ আত্মসাত, উৎকোচের বিনিময়ে শিক্ষক-কর্মচারীদের ছুটি প্রদান, উৎকোচের বিনিময়ে শিক্ষক-কর্মচারীদের বেতন-ভাতায় স্বাক্ষর, স্বীকৃতি ও নবায়নের নামে বিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষকদের নিকট থেকে উৎকোচ গ্রহন,অধ্যক্ষের অনুগত শিক্ষকদের বিশেষ সুবিধা প্রদানের মাধ্যমে অর্থ গ্রহন, পাবলিক পরিক্ষায় অনুপস্থিত থেকেও দায়ীত্ব পালন দেখিয়ে সম্মানী ভাতা গ্রহন, কলেজে গড়হাজির থেকে পরের দিন হাজিরা খাতায় স্বাক্ষর করা, শিক্ষক-কর্মচারীদের মাঝে বিবাদ সৃষ্টি করে মিমাংসার নামে অর্থ আদায়,অধ্যক্ষ হিসাবে দায়ীত্ব গ্রহনের পর ৬/৭টি মামলা এবং মামলার খরচ হিসাবে ভূয়া বিল-ভাউচারের মাধ্যমে অর্থ লোপাট, মিথ্যা অজুহাতে শিক্ষক-কর্মচারীদের সাময়ীক বরখাস্থ করে মোটা অংকের অর্থ গ্রহনের মাধ্যমে চাকুরীতে পূর্নবহাল করাসহ চিত্র-বিচিত্র অনিয়মের ফিরিস্তি তুলে ধরা হয় পোষ্টার ও লিফলেটে।
এ ব্যাপারে অধ্যক্ষ তরফদার কামরুল ইসলাম বলেন, তিনি ঢাকাতে রয়েছেন, শুনেছেন তার বিরুদ্ধে এলাকাবাসি পোষ্টার ও লিফলেট বিতরণ করেছে। তবে তিনি অভিযোগের বিষয়টি এড়িয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেন।

Print Friendly, PDF & Email
basic-bank

Be the first to comment on "লোহাগড়ায় মহিলা কলেজের অধ্যক্ষের সিমাহীন দুর্নীতির বিরুদ্ধে পোষ্টারিং ও লিফলেট বিতরন"

Leave a comment

Your email address will not be published.


*