লোহাগড়ায় রোপা ধানে কারেন্ট পোকার আক্রমণ ॥ দিশেহারা কৃষক

লোহাগড়ায় রোপা ধানে কারেন্ট পোকার আক্রমণ ॥ দিশেহারা কৃষক

নিউজ ডেস্ক॥ নড়াইলের লোহাগড়া উপজেলায় চলতি মৌসুমে রোপা ইরি ও আমন ধানের ক্ষেতে বাদামী গাছ ফড়িং বা কারেন্ট পোকার আক্রমন ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে। বিস্তৃত মাঠ জুড়ে শুধু পোকা আর পোকা। হঠাৎ করে ইরি ও আমন ধানের ক্ষেতে পোকার আক্রমনে এখানকার কৃষকরা দিশেহারা হয়ে পড়েছেন। শুধু তাই নয়, পোকা দমনে বাজারে আশানুরুপ ও প্রয়োজনীয় কীটনাশক না পাওয়ায় হতাশ হয়ে পড়ছেনে কৃষকরা। স্থানীয় কৃষি বিভাগ পোকা দমনে ধান ক্ষেত পরিদর্শন, প্রচারপত্র বিলি এবং পরামর্শ ছাড়া আর কিছুই করতে পারছেন না। কৃষকদের আশংকা, সময় মতো পোকা দমন করতে না পারলে রোপা ইরি ও আমন উৎপাদন মারাত্বক ব্যহত হতে পারে। সব কিছু মিলে, রোপা ধান ক্ষেতে পোকার আক্রমনে হতাশ হয়ে পড়েছেন এলাকার হাজার হাজার কৃষক। কৃষক তাঁর স্বপ্নের ফসল হারিয়ে হত বিহব¥ল হয়ে পড়েছেন।

উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা গেছে, চলতি মৌসুমে লোহাগড়া  উপজেলায় রোপা আমন ধান চাষের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারন করা হয়েছে প্রায় ৭ হাজার ৪ শত ২০ হেক্টর জমিতে। এর বিপরীতে ধান চাষ হয়েছে  ৯ হাজার ৭শত ৮০ হেক্টরে। গত ১০ অক্টোবর থেকে হঠাৎ করে ধানের ক্ষেতে বাদামী গাছ ফড়িং এর আক্রমণ বেড়ে যাওয়ায় অত্র এলাকার কৃষকরা দিশে হারা হয়ে পড়েছেন।  মঙ্গলবার (১৭অক্টোবর) উপজেলার কালনা,চরকালনা,বাঁকা,সিংগা,পাচুড়িয়া, মোচড়া, শালবরাত, জয়পুর, নারানদিয়া,মানিকগঞ্জ,রামকান্তপুর, চর শালনগর, মিঠাপুর, লাহুড়িয়া,ইতনা, কোলা-দিঘলিয়াসহ অন্যান্য এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, মাঠে যেখানে থাকবে সবুজের সমারোহ, সেখানে মাঠের পর মাঠ ফসল বিবর্ণ হয়ে পাতা খঁড় কুটার সাদৃশ্য হয়ে যাচ্ছে। এসব ধান ক্ষেতে কৃষকরা বিষ প্রয়োগ করেও ধানের ক্ষেত বাঁচাতে পারছেন না । এ পোকার আক্রমন এতটাই ভয়াবহ যে, পোকা এক মাঠ থেকে অপর  মাঠে  দ্রুত ছড়িয়ে পড়ছে। স্থানীয় কৃষকরা এ পোকার নাম দিয়েছে কারেন্ট পোকা। এতে করে আক্রান্ত ধানের ক্ষেত মুহুুর্তের মধ্যে বাদামি রং ধারণ করছে। ধান ক্ষেতে পোকা দমনের জন্য অনেক কৃষক কীটনাশক ব্যবহারের পাশাপাশি ঝাড়-ফুক ও তাবিজ-কবজের আশ্রয় নিচ্ছে।  ফসল হানির আশংকায় কৃষকরা শংকিত।
উপজেলার লাহুড়িয়া গ্রামের পঁচাশি পাড়ার  কৃষক মোজাফর হোসেন, ওসমান শেখ ও শাহাদৎ শেখ জনান, গত তিন/ চার দিন ধরে এলাকার ধান ক্ষেতে পোকার আক্রমন দেখা দিয়েছে। পোকার আক্রমনে ধান ক্ষেত পুড়ে বাদামি রং ধারণ করছে। দায়িত্বপ্রাপ্ত  উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা ক্ষেতের পোকা দমনে যে কীটনাশক ব্যবহার করতে বলছেন, তা চাহিদার তুলনায় কম পাওয়া যাচ্ছে।
উপজেলার জয়পুর গ্রামের কৃষক জামাল ফকির ও পরেশ মল্লিক, সিংগার হুমায়ন কবির, ইদ্রিস শেখ, চরকালনার মুন মীর, লাবলু মীর, মোচড়ার কামাল মোল্যা,পাঁচুড়িয়ার সোহেল লস্কার এই প্রতিনিধি কে জানান, বাদামী গাছ ফড়িং (বিপিএইচ) বা কারেন্ট পোকা রোপা ইরি ও আমন ক্ষেতে ছড়িয়ে পড়েছে । ধান গাছে কাইচ থোড় আসার পর পোকার আক্রমণ বেড়ে যাচ্ছে। পোকার ডিম থেকে বেরিয়ে আসা বাদামী গাছ ফড়িংয়ের বাচ্চা ও পূর্ণ বয়ষ্ক উভয় পোকা দলবদ্ধ ভাবে ধান গাছের গোড়ার দিকে অবস্থান করে গাছ থেকে রস খেয়ে ফেলছে। আর এ কারণে গাছ দ্রুত শুকিয়ে যাচ্ছে । পোকার আক্রমণে ধান গাছ প্রথমে হলুদ ও পরে শুকিয়ে বাদামী রং ধারন করেছে।
লোহাগড়া বাজারের কীটনাশক ব্যবসায়ী নাজমুল জানান, প্রতিদিনই শত শত কৃষক কারন্টে পোকা দমনের জন্য কীটনাশক কিনতে আসছেন। কিন্তু বাজারে কীটনাশকের  সরবরাহ কম থাকার কারণে প্রয়োজনীয় কীটনাশক না পেয়ে অনেক কৃষকই হতাশ হয়ে বাড়ি ফিরে যাচ্ছেন।
এ বিষয়ে উপজলো কৃষি র্কমর্কতা সমরেন বিশ্বাস জানান, মূলতঃ এই পোকার নাম  বাদামী গাছ ফড়িং (বিপিএইচ)। স্থানীয় ভাবে এই পোকাকে কৃষকরা কারেন্ট পোকা বলছেন। কৃষকদের মাঝে সচেতনতা সৃষ্টির জন্য এরই মধ্যে এ সর্ম্পকিত প্রচারপত্র বিতরণ করা হয়েছে। পৌরসভাসহ উপজেলার ১২ টি ইউনিয়নে কর্মরত উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তারা পোকা দমনে তৎপর রয়েছে।

Print Friendly, PDF & Email
basic-bank

Be the first to comment on "লোহাগড়ায় রোপা ধানে কারেন্ট পোকার আক্রমণ ॥ দিশেহারা কৃষক"

Leave a comment

Your email address will not be published.


*