শিরোনাম

শেরপুর সীমান্তে ৫ দিনেও সন্ধান মেলেনি ৩ আদিবাসী যুবকের

নিউজ ডেস্ক : শেরপুরের ঝিনাইগাতী সীমান্তের গজনী এলাকার নিখোঁজ ৩ আদিবাসী যুবকের সন্ধান মেলেনি ৫ দিনেও। ঘটনাটিও আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাাহিনীর আটক না অন্য কোন দুবৃত্ত চক্রের অপহরণ সেটিও পরিস্কার নয়। বরং ঘটনার বিষয়ে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাবাহিনীসহ স্থানীয় প্রশাসন রয়েছে অন্ধকারে। এ নিয়ে তাদের পরিবারসহ আদিবাসী অধ্যুষিত সীমান্ত এলাকাগুলোতে চরম আতঙ্ক বিরাজ করছে।

জানা যায়, ১৪ এপ্রিল বৃহস্পতিবার রাতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য পরিচয়ে ১০-১২ জনের একটি দল ঝিনাইগাতী উপজেলার গজনী এলাকার সুশীল মারাকের ছেলে বিভাস হাগিদক (২৫) ও রসেন সাংমার ছেলে প্রভাত সাংমা (৫০) এবং একই রাতে ওই এলাকার সুমিত চন্দ্র সংমার ছেলে বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থী রাজেস কুবি (২২) কে ময়মনসিংহের ভালুকা এলাকার তার বোনের বাড়ি থেকে তুলে নিয়ে যায়। ওইসময় পরিবারের সদস্যরা অনেক চেষ্টা করেও তাদের পরিচয় জানতে পারেনি। পরদিন বিষয়টি এলাকায় ছড়িয়ে পড়ে। আত্মীয়-স্বজনরা থানাসহ আইন-শৃঙ্খলার সাথে সম্পৃক্ত বিভিন্ন জায়গায় যোগাযোগ করে নিখোঁজ ৩ যুবকের সন্ধান নিশ্চিত করতে ব্যর্থ হয়। ওই ঘটনায় বিভাসের মা বিরলা সাংমা ঝিনাইগাতী থানায় একটি সাধারণ ডায়েরী করলেও কোন অগ্রগতি হয়নি তদন্তে।

এ বিষয়ে একাধিক দায়িত্বশীল সূত্রের ধারণা, সীমান্তের গজনী এলাকাটি ছিল একসময় ভারতীয় বিচ্ছিন্নতাবাদী সংগঠন উলফা’র অবাধ বিচরণক্ষেত্র। ওইসময় স্থানীয় আদিবাসীদের সাথেও ছিল তাদের নিবিড় সম্পর্ক। সেই সূত্রে কেউ কেউ তাদের সাথে জড়িয়ে অস্ত্র চালনাসহ সামরিক প্রশিক্ষণও নিয়েছিল। কাজেই উলফা কানেকশনের সূত্রে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাবাহিনীর কোন বিভাগের লোকজন তাদের আটক করে নিয়ে যেতে পারে। অবশ্য কিছু সূত্রের ধারণা, পূর্ব শত্রুতার কারণে কোন দুর্বৃত্ত চক্র তাদের উদ্দেশ্য হাসিলের জন্য ওই ৩ যুবককে অপহরণ করে থাকতে পারে।

উপজেলা ট্রাইবাল ওয়েলফেয়ার এসোসিয়েশনের সভাপতি নবেশ খকশী ওই ঘটনায় উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেন, ৫ দিনেও নিখোঁজ ৩ আদিবাসী যুবকের সন্ধান না পাওয়ায় পরিবারগুলো ভেঙে পড়েছে। এখন দ্রুত আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ছে সীমান্তের আদিবাসীদের মাঝে। অথচ ঘটনার বিষয়ে প্রশাসন ও আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাবাহিনীর কোন তৎপরতাই দেখা যাচ্ছে না।

এ ব্যাপারে ঝিনাইগাতী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মোঃ মিজানুর রহমান জানান, ঘটনার বিষয়ে নিখোঁজ যুবকদের পরিবারের তরফ থেকে থানায় একটি সাধারণ ডায়েরী হয়েছে। তদন্ত চলছে, এখনও কোন কিছু নিশ্চিত হওয়া যায়নি। বিজিবি-২৭ ব্যাটেলিয়ানের নওকুচি সীমান্ত ফাঁড়ীর কোম্পানী কমান্ডার নায়েক সুবেদার মোঃ আব্দুল কাদের জানান, বিষয়টি তারা লোকমুখে শুনেছেন। তবে তাদের কাছে কোন তথ্য নেই। একই কথা জানিয়ে র‌্যাব-১৪ (শেরপুর-জামালপুর) এর কর্মকর্তা মেজর মোঃ নাইম আব্দুল্লাহ বলেন, র‌্যাব কাউকে আটক করলে নিয়ম অনুযায়ী ২৪ ঘন্টার মধ্যে থানায় হস্তান্তর করা হয়।

basic-bank

Be the first to comment on "শেরপুর সীমান্তে ৫ দিনেও সন্ধান মেলেনি ৩ আদিবাসী যুবকের"

Leave a comment

Your email address will not be published.


*