শিরোনাম

৯৭ গার্মেন্টসের সঙ্গে ব্যবসা বাতিল করেছে অ্যালায়েন্স

নিউজ ডেস্ক : আমেরিকাভিত্তিক ক্রেতাদের কারখানা পরিদর্শন জোট অ্যালায়েন্স গত তিন বছর ধরে বাংলাদেশে গার্মেন্টস কারখানার নিরাপত্তা ব্যবস্থা পরিদর্শন ও সংস্কার কাজ তদারকি করছে।
আলোচ্য সময়ে ৭৫৯টি কারখানার নিরাপত্তা ব্যবস্থা পরীক্ষা করা হয়েছে। এসব কারখানার অগ্নি, ভবনের কাঠামো ও বৈদ্যুতিক নিরাপত্তা ব্যবস্থার ত্রুটি সংশোধনের লক্ষ্যে সময়সীমা দেওয়া হলেও অনেক কারখানাই তা করতে ব্যর্থ হয়েছে। এ রকম ৯৭টি কারখানার সঙ্গে ব্যবসা বাতিল করেছে অ্যালায়েন্স। এসব কারখানা অ্যালায়েন্সভুক্ত কোনো ক্রেতা বা ব্র্যান্ডের সঙ্গে ব্যবসা করতে পারবে না। অ্যালায়েন্সের তিন বছর পূর্তি শেষে গতকাল এক বিবৃতিতে এ তথ্য জানান হয়।

বিবৃতিতে কারখানাগুলোর প্রতি কঠোর বার্তা দেন অ্যালায়েন্সের প্রধান ও যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক কংগ্রেস ওম্যান অ্যালেন টশার। তিনি বলেন, ২০১৮ সালের মধ্যে অ্যালায়েন্সভুক্ত কারখানাগুলোকে নিরাপত্তা ত্রুটি সংশোধন করতে হবে। ব্যর্থরা আমাদের সাপ্লাই চেইনে থাকতে পারবে না। কেননা আমাদের কাছে শ্রমিকের নিরাপত্তা বেশি গুরুত্বপূর্ণ।

এদিকে বাংলাদেশের অ্যালায়েন্সের কার্যক্রমের চার বছরে পদার্পণ উপলক্ষে সাংবাদিকসহ সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে এক টেলিকনফারেন্সে মিলিত হন বাংলাদেশের অ্যালায়েন্সের পরিচালক জেমস এফ মরিয়ার্টি। তিনি বাংলাদেশে এ সময় দেশটির রাষ্ট্রদূত হিসেবেও কর্মরত ছিলেন। এ সময় তিনি সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের জবাব দেন।

অ্যালায়েন্স প্রকাশিত পরিসংখ্যানে দেখা গেছে, এ পর্যন্ত ৪০টি কারখানা সব ধরনের ত্রুটি সংশোধন কার্যক্রম সম্পন্ন করতে পেরেছে। আর পরিদর্শনের কারখানাগুলোর যত ধরনের অগ্নি, ভবনের কাঠামো ও বৈদ্যুতিক ত্রুটি চিহ্নিত হয়েছে, তার ৬৩ শতাংশ সংস্কার সম্পন্ন হয়েছে। এর মধ্যে বড় ধরনের ত্রুটি সংশোধনের হার ৫৫ শতাংশ।

কারখানায় শ্রমিকের নিরাপত্তা পরিস্থিতি ও স্বাস্থ্যগত ইস্যু দেখভালের জন্য ৫৪টি কারখানায় শ্রমিক নিরাপত্তা কমিটি গঠন করা হয়েছে। এছাড়া অগ্নি দুর্ঘটনা বিষয়ে সচেতন করতে এ পর্যন্ত ১২ লাখ শ্রমিককে প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে।

জেমস এফ মরিয়ার্টি বলেন, কারখানা সংস্কারের পাশাপাশি নিরাপত্তা ব্যবস্থা অগ্রগতিতে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। একই সঙ্গে কারখানায় জীবিকার জন্য কাজ করা শ্রমিকদের ক্ষমতায়নের লক্ষ্যে কাজ করে যেতে হবে। সংস্কার এবং শ্রমিকের ক্ষমতায়ন হাতে হাত ধরে এগিয়ে যেতে হবে।

এ সময় অ্যালায়েন্সের পক্ষ থেকে বলা হয়, এখন বড় ধরনের ত্রুটি সংস্কারে সবার আগে মনোযোগ দিতে হবে। বিশেষত যেসব ঝুঁকি জীনের নিরাপত্তার সঙ্গে সরাসরি সম্পৃক্ত যেমন ফায়ার ডোর, ভবনের কলাম ও বিম, অগ্নি প্রতিরোধে স্পিঙ্কলার স্থাপন ইত্যাদি। ইতোমধ্যে এ ধরনের গুরুতর ত্রুটির ৫৫ শতাংশ সম্পন্ন হয়েছে।

প্রসঙ্গত, ২০১৩ সালে রানা প্লাজা দুর্ঘটনার পর বিশ্বব্যাপী সমালোচনার মুখে ইউরোপ ও আমেরিকার ক্রেতারা বাংলাদেশের কারখানার নিরাপত্তা ব্যবস্থা পরিদর্শনের উদ্যোগ নেয়। অ্যালায়েন্স ছাড়াও ইউরোপের প্রায় সোয়া দুইশ’ ক্রেতার সমন্বয়ে অ্যাকর্ড নামে আলাদা আরেকটি জোটও কারখানা পরিদর্শন ও সংস্কার কার্যক্রম দেখভাল করছে। এর বাইরে সরকারি উদ্যোগে আরো প্রায় এক হাজার ৫শ’ কারখানাসহ মোট তিন হাজার সাতশ’ কারখানা পরিদর্শন শেষে সংস্কার কাজ তদারক করা হচ্ছে। আগামী ২০১৮ সালে অ্যাকর্ড ও অ্যালায়েন্সের কার্যক্রম সম্পন্ন হওয়ার কথা রয়েছে।

basic-bank

Be the first to comment on "৯৭ গার্মেন্টসের সঙ্গে ব্যবসা বাতিল করেছে অ্যালায়েন্স"

Leave a comment

Your email address will not be published.


*