নিউজ ডেস্ক: দুই ধাপের ভোটে ব্যাপক জালিয়াতির অভিযোগ তুলে ইউপি নির্বাচন থেকে সরে যাওয়ার হুমকি বিএনপি নেতারা দিলেও আপাতত সে পথে না হাঁটার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন খালেদা জিয়া।
দল ও জোট নেতাদের সঙ্গে বিএনপি চেয়ারপারসনের বৈঠকের পর দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, “ইউপি নির্বাচনে পরবর্তী ধাপগুলোতেও আমরা থাকব।
“প্রতিটি ধাপে পর্যালোচনা করে নির্বাচনে আছি এবং শেষ পর্যন্ত থাকব বলে আমরা স্থির করেছি।”
স্থানীয় পর্যায়ের এই নির্বাচনের প্রথম দুই ধাপে ভরাডুবির পর নানা অনিয়মের অভিযোগ তুলে বিএনপি নেতারা বলেছিলেন, তৃতীয় ধাপেও চিত্র না বদলালে পরের তিন ধাপ বর্জনের কথা ভাববেন তারা।
এরপর রোববার দলের জ্যেষ্ঠ নেতাদের নিয়ে বৈঠক করেন খালেদা। তাদের বক্তব্য শোনার পর সোমবার ২০ দলীয় জোটের নেতাদের বৈঠকে ডাকেন তিনি। জামায়াতে ইসলামী বাদে সব দলের প্রতিনিধি এই বৈঠকে ছিলেন।
রাতে গুলশানে বিএনপি চেয়ারপারসনের কার্যালয়ে ওই বৈঠকের পর ফখরুল নির্বাচনে থাকার সিদ্ধান্ত সাংবাদিকদের বলেন, “আমরা নির্বাচনে থাকছি। আপাতত বর্জনের কোনো সম্ভাবনা নেই।”
বিএনপির এক নেতা জানান, দল ও জোটের বৈঠকে নির্বাচন বর্জনের পক্ষে-বিপক্ষে মতামত আসে। তবে বেশিরভাগ নেতা বর্জনের সিদ্ধান্তের বিপক্ষে মত দেন।
“তারা বলেন,ভোট ডাকাতি হলেও মাঠ ছেড়ে চলে আসাটা ঠিক হবে না। সরকারি দল ও সরকারের মুখোশ দেশবাসী ও বিশ্ববাসীকে জানাতে নির্বাচনের মাঠে থাকতে হবে।”
এত অভিযোগের পরও কেন ভোটে থাকছে বিএনপি, তার ব্যাখ্যায় তিনি বলেন, “এই নির্বাচনে অংশ নিয়ে আমরা দেখতে চাই, এই নির্বাচন কমিশন কতটা খারাপ ও কতটা অযোগ্য হতে পারে। তারা রাষ্ট্র ও জনগণের সঙ্গে কতটা প্রতারণা করতে পারে।”
দশম সংসদ নির্বাচন বর্জনের পর বিএনপি বিভিন্ন স্থানীয় নির্বাচনে অংশ নিলেও বর্তমান ইসির অধীনে কোনো নির্বাচন সুষ্ঠু হবে না বলে দাবি বিএনপির।
দলটি বলছে, ইসি সরকারের ইশারায় কাজ করছে। অন্যদিকে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ বলছে, জনগণ কর্তৃক প্রত্যাখ্যাত হয়ে এখন নির্বাচনকে বিতর্কিত করতে চাইছে বিএনপি।
চলমান নবম ইউপি নির্বাচনের প্রথম দুই ধাপ মিলিয়ে আওয়ামী লীগের চেয়ারম্যান প্রার্থীরা ৯৮৪টিতে এবং বিএনপির প্রার্থীরা ১০৮টিতে জয় পেয়েছেন। ভোটে সহিংসতায় নিহত হয়েছেন অন্তত ২৮ জন।
ইউনিয়ন পরিষদের দুই ধাপে নির্বাচনে সহিংসতায় যারা নিহত হয়েছেন, তাদের আত্মার মাগফেরাত ও পরিবারের প্রতি সমবেদনা প্রকাশ এবং আহতদের দ্রুত আরোগ্য কামনা করেন বিএনপি মহাসচিব।
স্থানীয় সরকারের নির্বাচনে এরকম ‘সহিংসতা ও ভোট ডাকাতি’র অবস্থার পরিপ্রেক্ষিতে আগামী সংসদ নির্বাচন এই সরকারের অধীনে সুষ্ঠু হবে না বলেও দাবি করেন তিনি।
“নির্দলীয় সরকারের ছাড়া এদেশে সুষ্ঠু নির্বাচন হতে পারে না, এটা আবার প্রমাণিত হয়েছে। আমরা মনে করি, আগামী নির্বাচন যখনই হোক, তা হতে হবে একটি নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে এবং একটি নিরপেক্ষ নির্বাচন কমিশনের অধীনে।”
খালেদা জিয়া আগাম নির্বাচনের দাবি জানিয়ে এলেও তাতে সাড়া না দিয়ে আওয়ামী লীগ নেতারা বলছেন, ২০১৯ সালের আগে কোনো সংসদ নির্বাচন দেওয়া হবে না।
খালেদা জিয়ার সভাপতিত্বে ২০ দলীয় জোটের বৈঠকে ছিলেন জেপির আন্দালিব রহমান পার্থ, এলডিপির রেদোয়ান আহমেদ, জাতীয় পার্টির (কাজী জাফর) মোস্তফা জামাল হায়দার, খেলাফত মজলিশের আহমেদ আবদুল কাদের, ইসলামী ঐক্যজোটের আবদুর রকীব, জাগপার শফিউল আলম প্রধান, এনডিপির খন্দকার গোলাম মূর্তজা, এনপিপির ফরিদুজ্জামান ফরহাদ, লেবার পার্টির মোস্তাফিজুর রহমান ইরান, জমিয়তে উলামায়ে ইসলামের মুফতি মুহাম্মদ ওয়াক্কাস, পিপলস লীগের গরীবে নেওয়াজ, সাম্যবাদী দলের সাঈদ আহমেদ, ভাসানী ন্যাপের আজহারুল ইসলাম, ইসলামিক পার্টির আবু তাহের চৌধুরী, মুসলিম লীগের শেখ জুলফিকার আলী বুলবুল, কল্যাণ পার্টির এম এম আমিনুর রহমান, ডিএলের সাইফুদ্দিন আহমেদ মনি, ন্যাপের নুরুল আমান চৌধুরী টিটো।
বৈঠকে বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর ও যুগ্ম মহাসচিব মোহাম্মদ শাহজাহানও ছিলেন।

Be the first to comment on "ইউপি নির্বাচনে থাকার সিদ্ধান্ত দিলেন খালেদা"