ওয়ানডে ব্যর্থতার জন্য ঘরোয়া কাঠামোই দায়ী ॥ মিসবাহ

নিউজ ডেস্ক : পাকিস্তানের বর্তমান ওয়ানডে দলের ব্যর্থতার জন্য দেশটির ঘরোয়া কাঠামোকে দায়ী করেছেন টেস্ট অধিনায়ক মিসবাহ-উল-হক। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে পাকিস্তানের ঘরোয়া কাঠামোতে বেশ কিছু পরিবর্তন আনা হয়েছে এবং মিসবাহ বলেন, ওয়ানডে ক্রিকেট ধীরে ধীরে খারাপের দিকে যাচ্ছে।

ইএসপিএন ক্রিকইনফোকে মিসবাহ বলেন, ‘একজন পাকিস্তানী ক্রিকেটার হয়তোবা এক মৌসুমে দশ থেকে বিশটি প্রথম শ্রেণীর ম্যাচ খেলে থাকে। তবে সে ৫০ ওভার ফর্মেটের ন্যায় ম্যাচ অনুশীলনের সুযোগ পায় না। আমি দীর্ঘদিন যাবত বলে আসছি, আমাদের ঘরোয়া ক্রিকেটে ওয়ানডে ক্রিকেটের উপর অনেক বেশি জোর দেয়া দরকার এবং অনেক বেশি ওয়ানডে খেলা দরকার।’

আইসিসি টেস্ট র‌্যাংকিংয়ে মিসবাহর নেতৃত্বাধীন পাকিস্তান বর্তমানে এক নম্বরে থাকলেও ওয়ানডেতে আছে নয় নম্বরে। যথাযথ এক্সপোজ এবং মেধার অভাবেই দলের ভাগ্য পরিবর্তনা হচ্ছে না বলে নিশ্চিত মিসবাহ। দেশে ঘরোয়াভাবে আরো বেশি ওয়ানডে ফর্মেটের খেলা হওয়া উচিত বলে মনে করছেন তিনি।

তিনি বলেন, ‘আমাদের ঘরোয়া ক্রিকেটে ৫০ ওভার ফর্মেটের টুর্নামেন্ট আছে কেবলমাত্র একটি। এমনকি ক্লাব পর্যায়েও এ ফর্মেটে খেলা হয় না। মাঠ পর্যায়ে অধিকাংশ ক্রিকেট হয় ২০ অথবা ২৫ ওভারের এবং যে কারণে ওয়ানডেতে আমরা নয় নম্বরে পড়ে আছি। আরো আগে এমনকি এখনো আমাদের যে সম্পদ আছে তার সদ্ব্যবহার করা উচিত। আমরা কেবলমাত্র ঘরোয়া টুর্নামেন্টে ম্যাচ সংখ্যা বৃদ্ধি করেও তা করতে পারি। ঘরোয়া পর্যায়ে অনেক বেশি ম্যাচ খেলি এবং এক্সপোজ পাই বলেই আমরা টেস্ট ক্রিকেটে এক নম্বরে উঠতে পেরেছি।’

তিনি আরো বলেন, ‘অন্যদিকে আমাদের খেলোয়াড়রা মেধাবী এবং ধারাবাহিক না হলেও তারা নিজেদের ঝলক দেখিয়েছে। অতএব ঘরোয়া পর্যায়ে বেশি বেশি ম্যাচ খেলানোর সুযোগ দিয়ে এই মেধাবীদের যত্ন নিতে হবে।’

২০১১ সালের মে মাসে পাকিস্তান ওয়ানডে দলের অধিনায়কত্ব পান মিসবাহ এবং ২০১৫ বিশ্বকাপের পর সরে দাঁড়ানোর আগে প্রায় চার বছর দলকে নেতৃত্ব দেন। তার অধীনে প্রথম ১৪ ম্যাচের ১৩টিতেই জয় পেয়েছে পাকিস্তান। আর শেষ পর্যন্ত মোট ৭২ ম্যাচে ৩৮টিতে হেরেছে পাকিস্তানীরা। পক্ষান্তরে বর্তমান অধিনায়ক আজহার আলীর নেতৃতে এ পর্যন্ত ২৫ ম্যাচে পাকিস্তান জিতেছে মাত্র নয়টিতে। তবে অধিনায়ককে কেবলমাত্র খারাপ পারফরমেন্সের জন্য দায়ী করা উচিত নয় বলে মনে করছেন মিসবাহ।

মিসবাহ বলেন, ‘পাকিস্তানে একটা ধারণা হচ্ছে- সব কিছুর জন্যই একমাত্র অধিনায়কই দায়ী। ক্রিকেট একটা দলীয় খেলা এবং প্রত্যেক খেলোয়াড়কেই অবদান রাখতে হয়। আমরা দেশের প্রতিভাবান সকল খেলোয়াড়কেই ব্যবহার করেছি। তবে সেটা কাজে আসেনি। পারফর্ম না করতে পারলেই আপনি দলে পরিবর্তন আনতে বাধ্য হবেন। দুর্ভাগ্যজনক হলেও সত্যি- ছেলেরা টেস্টের ন্যায় ওয়ানডেতে পারফর্ম করতে পারেনি। আজমলের পর বোলিংয়ে যথেষ্ট ভাল কিছু হচ্ছেনা এবং ব্যাটিংটা ধারাবাহিক হচ্ছে না।’

মিসবাহর অধিনায়কত্ব শুরু হওয়ার পর পরিবর্তনকালীন সময়ে ওয়ানডে দলের সমস্যা সমাধানে নির্বাচকরা ৪০জনকে যাচাই-বাছাই করে দেখেছে।

মিসবাহ বলেন, ‘দল যখন পারফর্ম করতে পারে না এবং পরাজয়ের বৃত্তে থাকে তখন পরিবর্তন অত্যাবশ্যকীয়। তবে আপনি যখন জিততে শুরু করবেন তখন মেধাবীদের পাবেন এবং তাদের নিয়ে সামনের দিকে এগিয়ে যাবেন। কিন্তু পাকিস্তানের বেলায় মূলত এটা হয়নি। যথার্থ কম্বিনেশন খুঁজে পেতে আমরা অনেক খেলোয়াড়কে নিয়ে চেষ্টা করেছি, কিন্তু সেটা কাজে আসেনি এবং ভাল করতে না পারায় আমরা বার বার পরিবর্তন আনতে বাধ্য হয়েছি।’

 

Print Friendly, PDF & Email
basic-bank

Be the first to comment on "ওয়ানডে ব্যর্থতার জন্য ঘরোয়া কাঠামোই দায়ী ॥ মিসবাহ"

Leave a comment

Your email address will not be published.


*