নিউজ ডেস্ক : বাগেরহাটে মঙ্গলবার রাতে আকষ্মিক কালবৈশাখী ঝড়ে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। নারীসহ অন্তত: ১০ জন আহত হয়েছেন। জেলাব্যাপী বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্ন হয়ে গেছে। প্রায় পৌনে একঘণ্টা স্থায়ী এ ঝড় ও শিলাবৃষ্টিতে জেলার পাঁচটি উপজেলায় ৫ শতাধিক কাঁচা ঘরবাড়ি ও প্রতিষ্টান লন্ডভন্ড হয়েছে। অনেক পরিবার আশ্রয়হীন হয়ে পড়েছেন। বাগেরহাট সদর, কচুয়া, ফকিরহাট, রামপাল, চিতলমারী, মোল্লাহাট, মোড়েলগঞ্জ উপজেলায় বোরোধান, ভুট্্রা, তরমুজ, বাঙ্গী, আম ও সবজিসহ ফসলের ক্ষেত তছনছ হয়ে গেছে।
উপড়ে পড়েছে বিপুল সংখ্যক গাছপালা। গাছ পড়ে প্রায় চার ঘন্টা বাগেরহাট-মাওয়া, খুলনা-বাগেরহাট, খুলনা-মংলা ও খুলনা-বরিশাল মহাসড়কে যান চলাচল বন্ধ ছিল। এছাড়া আরও ১৪টি সড়কে যোগাযোগ বন্ধ থাকে। বুধবার সন্ধ্যা পর্যন্ত বিদ্যৎ ব্যবস্থা চালু না হওয়ায় পানিরপাম্প ও হাসপাতালসহ প্রায় সর্বত্র ভোগান্তির সৃষ্টি হয়েছে। ঝড়ে আহত ১০ জনের মধ্যে গুরুতর আহত সদর উপজেলার উৎকুল গ্রামের মকসুদ হাওলাদারের স্ত্রী আফরোজা বেগমকে(৩৪) খুমেক হাসাপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। বাকিদের বিভিন্ন হাসপাতাল ও ক্লিনিকে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।
বাগেরহাটের জেলা প্রশাসক মো. জাহাংগীর আলম জানান, ঝড়ে প্রাথমিকভাবে কোনো নিহতের খবর পাওয়া যায়নি। তবে, বিপুল সংখ্যক গাছপালা উপড়ে গেছে এবং কাঁচা ও আধাপাকা ঘরবাড়ি বিধ্বস্থ হয়েছে। বিদ্যুৎ ও যানচলাচল স্বাভাবিক করতে সর্বাত্মক কাজ চলছে। এছাড়া ক্ষয়ক্ষতি নিরুপণের জন্য সংশ্লিষ্ট উপজেলা ও স্থানীয় প্রশাসনকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।
এদিকে, বুধবার বাগেরহাট সদর আসনের সংসদ সদস্য এ্যাড: মীর শওকাত আলী বাদশা কচুয়া ও বাগেরহাট সদর উপজেলার ক্ষতিগ্রস্থ বিভিন্ন এলাকা পরিদর্শন করেছেন।
ওয়েস্ট জোন পাওয়ার ডিস্ট্রিবিউশন কম্পানি লিমিটেডের ভারপ্রাপ্ত নির্বাহী প্রকৌশলী পলাশ পাল বুধবার জানান, ঝড়ে বিদ্যুতের তারের উপর বড় বড় গাছপালা পড়ে থাকায় রাত থেকে বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্ন রয়েছে। গাছপালা সরিয়ে বিদ্যুৎ সংযোগ দ্রুত চালুর কাজ চলছে। বাগেরহাট পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির ব্যবস্থাপক মো. মোতাহার হোসেন বলেন, ঝড়ে গাছপালা উপড়ে ও ভেঙে পড়ে পল্লী বিদ্যুতের অধিকাংশ লাইনের তার ছিঁড়ে গেছে। বিদ্যুৎ সংযোগ চালু করতে তাদের একাধিক দল কাজ করছে।
কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক মো. আফতাব উদ্দিন জানান, বাগেরহাট সদর, কচুয়া ও ফকিরহাট উপজেলায় পাকা বোরো ধানসহ বিভিন্ন ফসলের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। ক্ষয়ক্ষতির নিরুপনে কৃষি বিভাগ কাজ করছে।

Be the first to comment on "কালবৈশাখী ঝড়ে বাগেরহাটে ৫ শতাধিক ঘরবাড়ি তছনছ"