নিউজ ডেস্ক : জঙ্গিবাদ ও আন্তঃদেশীয় অপরাধ দমনে সহযোগিতা বাড়ানোর লক্ষ্যে একটি যৌথ ঘোষণায় স্বাক্ষর করেছে ১৪ দেশের পুলিশপ্রধান ও আইনপ্রয়োগকারী বিভিন্ন সংস্থার প্রতিনিধিরা।
মঙ্গলবার (১৪ মার্চ) ঢাকায় ১৪টি দেশের পুলিশ ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর শীর্ষ পর্যায়ের কর্মকর্তারাদের অংশগ্রহণে আন্তর্জাতিক সম্মেলনের সমাপনী অনুষ্ঠানে এ ঘোষণা স্বাক্ষরিত হয়।
সম্মেলন শেষে আয়োজিত মিট দ্য প্রেসে এ তথ্য জানান বাংলাদেশ পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি) এ কে এম শহীদুল হক।
রাজধানীর হোটেল সোনারগাঁওয়ে ইন্টারপোল এবং বাংলাদেশ পুলিশের যৌথ উদ্যোগে দেশে প্রথমবারের মতো তিন দিনব্যাপী ‘চিফ অব পুলিশ কনফারেন্সে অব সাউথ এশিয়া অ্যান্ড নেইবারিং কান্ট্রিস অন রিজিওনাল কো-অপারেশন ইন কার্ভিং ভায়োলেন্ট এক্সট্রিমিজম অ্যান্ড ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইম শীর্ষক এ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। সম্মেলনের মূল প্রতিপাদ্য ছিল- ‘Regional Cooperation in Curbing Violent Extremism and Transnational Crime’।
আইজিপি জানান, যৌথ ঘোষণার প্রেক্ষিতে অনেক দেশ সমঝোতা স্মারক (মেমোরেন্ডাম অব আন্ডারস্টেন্ডিংস বা এমওইউ) করার বিষয়ে আগ্রহ প্রকাশ করেছে। আগ্রহীদের মধ্যে মিয়ানমার, দক্ষিণ কোরিয়া, চীন ও মালয়েশিয়া রয়েছে। এ ব্যাপারে বাংলাদেশ সরকারকে অবহিত করার পর অনুমোদন দিলে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
এ ছাড়া কনফারেন্সে ইন্টারপোল সদস্য দেশসমূহের মধ্যে ওয়ান টু ওয়ান কমিউনিকেশন, কাউন্টার টেররিজমে সক্ষমতা বাড়ানোর লক্ষ্যে তথ্য বিনিময়, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর মধ্যে সহযোগিতা জোরদার করা, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও বিশ্বের নেতৃস্থানীয় সংস্থার মধ্যে পেশাগত সম্পর্ক বৃদ্ধি, সাইবার ক্রাইম ও অর্থনৈতিক অপরাধ দমনে সক্ষমতা বৃদ্ধিতে সহযোগিতা বাড়ানো, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর মধ্যে অপরাধ দমনে অভিজ্ঞতা বিনিময়ের লক্ষ্যে যৌথ সিম্পোজিয়াম ও প্রশিক্ষণ আয়োজন ইত্যাদি বিষয়গুলো স্থান পেয়েছে।
বাংলাদেশের পুলিশ প্রধান ছাড়াও আফগানিস্তানের সিনিয়র ডেপুটি মিনিস্টার ফর সিকিউরিটি আবদুল রহমান, মালয়েশিয়ার ইন্সপেক্টর জেনারেল অব পুলিশ খালিদ আবু বকর, মিয়ানমার পুলিশের বিগ্রেডিয়ার জেনারেল মাইও সি উইন এবং শ্রীলঙ্কার ইন্সপেক্টর জেনারেল অব পুলিশ পুজিৎ সেনাদি বান্দর জয়াসুন্দারাসহ ৫৮ জন বিদেশি অতিথি সম্মেলনে যোগ দেন।
তিন দিনের এ সম্মেলনে ১৪টি কর্ম অধিবেশনে বিভিন্ন দেশের প্রতিনিধিরা বিষয়ভিত্তিক প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন। জঙ্গিবাদ দমন, মানব পাচার, অর্থনৈতিক অপরাধ এবং সন্ত্রাসী অর্থায়ন, মাদক দ্রব্য পাচার রোধ, অবৈধ অস্ত্র চোরাচালান প্রতিরোধ, গোয়েন্দা তথ্য বিনিময়, সাইবার অপরাধ নিয়ন্ত্রণ ইত্যাদি বিষয় আলোচনায় স্থান পায়।
যৌথ ঘোষণায় দক্ষিন এশিয় অঞ্চল এবং বিশ্বব্যাপী অপরাধের ধরন চিহ্নিত করণ ও আন্তঃদেশীয় অপরাধ দমনে একটি কৌশল উদ্ভাবনের বিষয়টি গুরুত্ব পেয়েছে বলেও জানান আইজিপি।

Be the first to comment on "জঙ্গিবাদ ও আন্তঃদেশীয় অপরাধ দমনে ‘যৌথ ঘোষণা’"