নিউজ ডেস্ক: ঝিনাইদহ সদরে আবারও এক মন্দিরের সেবায়েতকে কুপিয়ে হত্যা করেছে ‘মোটরসাইকেলে আসা তিন যুবক’, যেভাবে গত মাসে এক হিন্দু পুরোহিতকে হত্যা করা হয়েছিল। নিহত শ্যামানন্দ দাস (৫০) সদর উপজেলার উত্তর কাষ্ঠসাগরা গ্রামের রাধামদন গোপাল মঠ মন্দিরের সেবায়েত হিসেবে কাজ করে আসছিলেন গত তিন বছর ধরে।
যেভাবে যে কৌশলে এই হত্যাকাণ্ড ঘটানো হয়েছে, তার সঙ্গে সাম্প্রতিক বিভিন্ন জঙ্গি হামলা ও হত্যার ঘটনার মিল রয়েছে বলে জানিয়েছেন ঝিনাইদহের পুলিশ সুপার শেখ আলতাফ হোসেন। প্রত্যক্ষদর্শী এক নারীর বক্তব্য থেকে উদ্ধৃত করে তিনি বলেছেন, শুক্রবার ভোর ৫টা ২০ মিনিটে এ ঘটনা ঘটে। “শ্যামানন্দ গোঁসাই ভোর ৫টার দিকে মঠ থেকে বেরিয়ে রাস্তার পাশের গাছ থেকে পূজার ফুল তুলছিলেন। এ সময় তিনজন হামলাকারী মোটরসাইকেলে করে এসে তাকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে হত্যা করে চলে যায়।”
মৃত্যু নিশ্চিত করতে এই হিন্দু সেবায়েতের মাথা ও ঘাড়ে একাধিক কোপ দেওয়া হয় বলে পুলিশ সুপার জানান। মঠের কোষাধ্যক্ষ প্রভাস কুমার জানান, নিহত শ্যামানন্দের বাড়ি নড়াইল সদর উপজেলার মুসুড়িডাঙ্গা গ্রামে। “বছর তিনেক আগে তিনি এই মন্দিরে এসে সেবায়েত হন। কারও সঙ্গে তার সমস্যা ছিল বলে আমি শুনিনি।” এর আগে গত ৭ জুন একই উপজেলার মহিষাডাঙ্গা গ্রামে মহিষের ভাগাড় মাঠে আনন্দ গোপাল গাঙ্গুলী (৬৯) নামের এক হিন্দু পুরোহিতকে কুপিয়ে হত্যা করা হয়।
নলডাঙ্গা দুর্গা মন্দিরের সাবেক পুরোহিত আনন্দ গোপাল করাতিপাড়ার বাড়ি থেকে সাইকেলে নলাডাঙ্গা গ্রামের সিদ্ধেশ্বরী কালী মন্দিরে যাওয়ার সময় আক্রান্ত হন। ওই ঘটনাতেও তিন যুবক মোটরসাইকেলে এসে তাকে কুপিয়ে হত্যা করে চলে যায়। মধ্যপ্রাচ্যের জঙ্গি দল আইএস আনন্দ হত্যাকাণ্ডেও দায় স্বীকার করে বার্তা দিয়েছে বলে সাইট ইন্টেলিজেন্স গ্রুপ জানালেও ওই হত্যার পেছনে বাংলাদেশের জামায়াতে ইসলামীর ছাত্র সংগঠন ইসলামী ছাত্রশিবির জড়িত থাকার সন্দেহের কথা বলেছে আসছে পুলিশ।

Be the first to comment on "ঝিনাইদহে ফের হিন্দু সেবায়েত হত্যা"