ট্রাম্পের পাশে বিচার মন্ত্রণালয়ও থাকছে না

নিউজ ডেস্ক : দায়িত্ব নিয়েই একসপ্তাহ কারও কথা কানে না তুলে একের পর এক নির্বাহী আদেশ জারি করে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এবার মুদ্রার ওপিঠ অর্থাৎ প্রতিক্রিয়া দেখতে শুরু করেছেন। ভেতরে ভেতরে কূটনীতিকরা যেমন তার এসব খামখেয়ালি পদক্ষেপের মোক্ষম জবাব দেওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছেন, তেমনি আশপাশ থেকে সরে যাচ্ছেন সরকার-প্রশাসনের কর্মকর্তারাও।

এবার ভারপ্রাপ্ত অ্যাটর্নি জেনারেল বলে দিয়েছেন, তিনি প্রেসিডেন্টের অভিবাসী নিষেধাজ্ঞা সংক্রান্ত নির্বাহী আদেশটি ‘আইনসম্মত’ বলে মনে করেন না। সেজন্য এই আইনটি বাস্তবায়নে ট্রাম্পের হয়ে না এগোনোরও নির্দেশ দিয়েছেন বিচার মন্ত্রণালয়কে।
ভারপ্রাপ্ত অ্যাটর্নি জেনারেল স্যালি ইয়েটস দায়িত্ব পেয়েছিলেন ট্রাম্পের পূর্বসুরী প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামার ‍আমলে। অবিলম্বেই তার স্থলাভিষিক্ত হচ্ছেন ট্রাম্পের মনোনীত সিনেটর জেফ সেশন্স।
তবে এরইমধ্যে যে ক’দিন দায়িত্বে আছেন সে ক’দিন ট্রাম্পের খামখেয়ালি সিদ্ধান্ত মেনে চলার কোনো লক্ষ্মণ দেখাচ্ছেন না তিনি।
মুসলিমপ্রধান ৭টি দেশের অভিবাসী যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা দিয়ে প্রেসিডেন্টের জারি করা নির্বাহী আদেশ প্রসঙ্গে স্যালি সোমবার (৩০ জানুয়ারি) এক চিঠিতে বলেন, “এটা আমার কাছে আইনসম্মত মনে হচ্ছে না। নির্বাহী আদেশটি রক্ষায় (বাস্তবায়নে) বিচার মন্ত্রণালয় কোনো ধরনের যুক্তিতর্কে যাবে না। ”
এ নিয়ে বিচার মন্ত্রণালয়ের কর্মীদের দেওয়া এক চিঠিতে ভারপ্রাপ্ত অ্যাটর্নি জেনারেল উল্লেখ করেন, এই আদেশটি ‍আদালতে প্রশ্নের মুখে পড়েছে।
তিনি মন্ত্রণালয়ের কর্মীদের উদ্দেশে বলেন, “আমার দায়িত্ব এটা নিশ্চিত করা যে বিচার মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব কেবল আইনি সহায়তা দেওয়া হয়, একইসঙ্গে আইনটা কী তাও নিজেদের সেরা বিবেচনা-বিশ্লেষণের মাধ্যমে জানিয়ে দেওয়া। ”
এদিকে, ট্রাম্পের নির্বাহী আদেশের সমালোচনা করেছেন তার পূর্বসুরী প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামাও। তিনি বলেছেন, এই আদেশের ফলে আমেরিকার মূল্যবোধ ঝুঁকিতে পড়ে গেছে। ওবামা নির্বাহী আদেশটি প্রত্যাহারের দাবিতে চলমান আন্দোলনের প্রতিও তার সমর্থন জানান।

Print Friendly, PDF & Email
basic-bank

Be the first to comment on "ট্রাম্পের পাশে বিচার মন্ত্রণালয়ও থাকছে না"

Leave a comment

Your email address will not be published.


*