শিরোনাম

‘নিউ মার্কেটের জিন্সগুলো দেখে ভীষণ লোভ হয়’

নিউজ ডেস্ক : ‘তুমি যাকে ভালোবাসো/ স্নানের ঘরে বাষ্পে ভাসো/তার জীবনে ঝড়/ তোমার কথার শব্দদূষণ/তোমার গলার স্বর/ আমার দরজায় খিল দিয়েছি/আমার দারুণ জ্বর! তুমি অন্য কারোর সঙ্গে বেঁধো ঘর’ কলকাতার ‘প্রাক্তন’ ছবির এই গান গেয়ে কলকাতার জনপ্রিয় রবীন্দ্র সঙ্গীতশিল্পী ইমন চক্রবর্তী এখন দুই বাংলার কাছে বেশ পরিচিত। সম্প্রতি ঢাকায় এসেছিলেন এই গুণী সঙ্গীতশিল্পী। গুলশান ক্লাবে বসে তার সাথে কথা বলেছেন মাহতাব হোসেন

আপনার সঙ্গীতের শুরুর গল্পটা যদি বলতেন-

সঙ্গীতের হাতেখড়ি আমার মায়ের হাত ধরে। তারপরে রাজকুমার রায়ের কাছে রবীন্দ্র সঙ্গীতে তালিম নেই। লোক গান শিখেছি অভিজিত বসুর কাছে। এইতো শেখার মধ্যে এখনো আছি। রবীন্দ্র ভারতী বিশ্ববিদ্যালয় থেকে রবীন্দ্র সঙ্গীতে গ্র্যাজুয়েশন, মাস্টার্স এবং পিএইচডি করছি সত্যজিত রায়ের ব্যাকগ্রাউন্ড মিউজিকের ওপরে।

তুমি যাকে ভালোবাসো- এই ভালোবাসার শুরুটা কিভাবে?

হঠাত করে একদিন অনুপম দা (অনুপম রয়) ফোন করলেন যে তোমার জন্য একটা গান ভেবেছি। তুমি যদি শোনো তারপরে তোমার যদি মনে হয় গাইতে পারো। প্রথম কথা হলো তিনি অনুপম রয়। ছবিটা শিবুদা’র আর বুম্বাদা (প্রসেনজিত) ঋতুপর্ণা দি আছেন। না বলার কোনো প্রশ্নই উঠছে না। সেজন্যই আমি হ্যাঁ করলাম।

ট্র্যাক না শুনে, শুধু অনুপম রায় বললেন আর আপনি রাজি হয়ে গেলেন?

না না, অনুপমদার ওপর আমার যদিও বিশ্বাস আছে। তারপরেও অনুপম দা তো আমাকে ডেকে শোনালেন। অনুপম দার কণ্ঠে শুনে কেন জানি মনে হলো এটা তো আমারই গান, এখানে তো আমার কথাই বলা হয়েছে। আমার জন্যই তৈরি করা হয়েছে এই গান। প্রায় মানুষের কথা ‘তুমি অন্য কারো সঙ্গে বেঁধো ঘর…’ প্রত্যকের জীবনেই হয়তো ‘প্রাক্তন’ থাকে। সুতরাং সে তো কখনো মুছে যায় না। তাকে উদ্দেশ্য করেই এই গানটা।

তাহলে আপনার জীবনেও প্রাক্তন আছে?

হা হা হা…

আপনি তো একজন জনপ্রিয় রবীন্দ্র সঙ্গীতশিল্পী। এক্ষেত্রে আপনার নামের সামনে যদি বলা হয় রবীন্দ্র সঙ্গীত শিল্পী কিংবা সঙ্গীতশিল্পী যে কোনো একটা যুক্ত করেন। কোনটা করবেন?

রবীন্দ্রকে আমি মনে প্রাণে ধারণ করি কিন্তু এক্ষেত্রে আমি বলবো, অবশ্যই শুধু সঙ্গীতশিল্পী।

বাংলাদেশের কোনো ছবিতে যদি আপনাকে গান গাইতে বলা হয় বা এরকম প্রস্তাব। পান সেক্ষেত্রে কি করবেন?

ডেফিনিটলি আমি করবো। এদেশে এতো ভালো ভালো কাজ হয়। এতো গুণী শিল্পী এদেশে। আমি এখানে কাজ করতে পারলে আমার ভীষণ ভালো লাগবে।

বাংলাদেশের কোন ধরনের গান আপনি বেশি শোনেন?

আমি বাংলাদেশের ব্যান্ডের গান প্রচুর শুনি। জেমস আমার প্রিয় একজন শিল্পী। তার প্রচুর গান আমি শুনেছি। মাইলস, লালন এলআরবিও ভীষণ প্রিয়। এদেশের মিউজিম এতো ইনোভেটিভ! এছাড়াও হৃদয় খান, অর্ণব দা আমার ভীষণ প্রিয়। আর মিউজিশিয়ান হিসেবে যদি বলেন, ইমন সাহা।

আপনাকে যদি বলা হয় এদেশের একজনের সাথে গান গাওয়ার সুযোগ রয়েছে। কার সঙ্গে গান করতে চাইবেন?

হৃদয় খান।

ঢাকায় ‘রিকশা চালক’ ইমন চক্রবর্তী

একবারেই বলে ফেললেন হৃদয় খান?

হ্যাঁ হৃদয় খানের গান আমার অসম্ভব প্রিয়। দেস্খতে যতটা হ্যান্ডসাম ততই ভালো লাগে গান।

ঢাকার সাথে যোগাযোগের শুরুটা কবে?

আমি প্রথম এসেছিলাম বাংলাদেশে ২০০৯ সালে। ‘ইউনিফেস্ট’ নামে সার্ক দেশগুলোকে নিয়ে একটা প্রতিযোগিতা হয় ব্র্যাক ইউনিভার্সিটিতে। সেখানে আমি প্রথম হয়। এরপরে তো নিয়মিতই ঢাকার সাথে যোগাযোগ তৈরি হয়ে যায়।

বাংলাদেশে এলে কোন কোন জায়গায় বেশি বেড়ানো হয়?

চারুকলায় যাই। জায়গাটা আমার ভীষণ প্রিয়। ঢাকা ইউনিভার্সিটি এলাকা ভালো লাগে। এগুলোর বাইরে নিউমার্কেট তো আমার খুব ভালো লাগে। আমি ঢাকা এলেই ওখানে বেশ কয়েকবার করে যাই।

কেন কেন? এতো বিরক্তির গ্যাঞ্জাম ঘিঞ্জি এলাকা এতো ভালো লাগে?

ওমা! হোক গ্যাঞ্জাম, আর ঘিঞ্জি। ওখানে জিন্স গুলো সাজিয়ে রাখে, জ্বলজ্বল করে, নিউমার্কেটের জিন্স দেখলেই লোভ লাগে। এছাড়াও এদেশে আমি আসি বলা যায় খেতে। বাংলাদেশে এলে প্রচুর খাই।

বাংলাদেশের কোন খাবারটা আপনার সবচেয়ে বেশি প্রিয়?

শুটকি, এদেশের শুটকি মাছ আমার ভীষণ প্রিয়, ভীষণ।

basic-bank

Be the first to comment on "‘নিউ মার্কেটের জিন্সগুলো দেখে ভীষণ লোভ হয়’"

Leave a comment

Your email address will not be published.


*