শিরোনাম

বর্ষবরণ: ছাত্র ইউনিয়ন থাকবে ‘সতর্ক’, ছাত্রলীগ ‘সুশৃঙ্খল’

নিউজ ডেস্ক: পহেলা বৈশাখের উৎসবে হয়রানি ঠেকাতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এলাকায় সতর্ক থাকার ঘোষণা দিয়েছে গতবার যৌন নিপীড়ন ঠেকাতে গিয়ে আহত লিটন নন্দীর সংগঠন ছাত্র ইউনিয়ন।

অন্যদিকে ক্ষমতাসীন দল সমর্থিত ছাত্র সংগঠন ছাত্রলীগ বর্ষবরণের উৎসবকে আনন্দময় ও উপভোগ্য করে তুলতে সংগঠনের নেতা-কর্মীদের সুশৃঙ্খল থাকার নির্দেশ দিয়েছে।

বৃহস্পতিবার বাংলা নববর্ষ উদযাপনের প্রস্তুতি চলছে সারাদেশে। রাজধানীতে এই উৎসবের কেন্দ্র ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এবং সংলগ্ন রমনা ও সোহরাওয়ার্দী উদ্যান।

গত বছর পহেলা বৈশাখের উৎসবের মধ্যে সন্ধ্যায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের টিএসসি এলাকায় সোহরাওয়ার্দী উদ্যানের ফটকে একদল ব্যক্তি নারীদের যৌননিপীড়ন করে।

সেদিন ওই যুবকদের ঠেকাতে গিয়ে আহত হয়েছিলেন বাম সংগঠন ছাত্র ইউনিয়নের ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় সংসদের সভাপতি লিটন।

দেশজুড়ে সমালোচিত ওই ঘটনার অপরাধী সবাইকে গ্রেপ্তার করতে পুলিশের ব্যর্থতার মধ্যে এবার অনুষ্ঠানে নিয়ন্ত্রণ আরোপ করেছে সরকার।

এর প্রতিবাদ জানিয়ে আসা ছাত্র ইউনিয়ন বুধবার এক সংবাদ সম্মেলনে যৌন নিপীড়নের মতো ঘটনা প্রতিহত করতে টিএসসি, রাজু ভাস্কর্যসহ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন পয়েন্টে সতর্ক অবস্থান নেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে।

মধুর ক্যান্টিনে সংবাদ সম্মেলন সংগঠনটির সভাপতি লাকী আক্তার বলেন, গতবারের ঘটনায় বিচার না পাওয়ার অভিজ্ঞতা থেকে এবার তারা নিজেরাই যে কোনো অপতৎপরতা প্রতিহত করবেন।

“গত বর্ষবরণের দিন যৌন নিপীড়নের ঘটনার প্রতিবাদে এক বছর লড়াই-সংগ্রাম চালিয়েছি। প্রশাসনের তরফ থেকে যে বিচার প্রত্যাশা করেছিলাম তা পাইনি।”

প্রশাসনের পক্ষ থেকে সর্বোচ্চ নিরাপত্তা দেওয়ার নামে বর্ষবরণের উৎসবকে সংকীর্ণ করার চেষ্টা চলছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি।

সংবাদ সম্মেলনে বিশ্ববিদ্যালয় সংসদের সভাপতি লিটন নন্দীও ছিলেন।

এদিকে সকালে ডাকসু ভবনে বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের এক বর্ধিত সভায় নেতা-কর্মীদের সুশৃঙ্খল থাকার নির্দেশনা দেওয়া হয় বলে সংগঠনটির সাধারণ সম্পাদক এস এম জাকির হোসাইন জানিয়েছেন।

তিনি বলেন, “পহেলা বৈশাখ উদযাপনকে উপভোগ্য করতে সরকার ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন জনস্বার্থে বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এই সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নে ছাত্রলীগের নেতা-কর্মীরা সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দেবে।”

মঙ্গল শোভাযাত্রা, কনসার্টসহ বিভিন্ন অনুষ্ঠান সুষ্ঠুভাবে করতে ছাত্রলীগের নেতা-কর্মীরা স্বেচ্ছাসেবকের ভূমিকা নেবে বলে জানান তিনি।

“ছাত্রলীগের কেউ যদি কোনো বিশৃঙ্খলায় জড়িত থাকে, তাহলে তার বিরুদ্ধে কঠোর সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে,” বলেন জাকির।

ছাত্রলীগের ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সাধারণ সম্পাদক মোতাহার হোসেন প্রিন্স বলেন, “গত বছর পহেলা বৈশাখে সোহরাওয়ার্দী উদ্যানের গেটে যে অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটেছিল তা প্রতিরোধেই এই বর্ধিত সভা করা হয়।”

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের প্রায় ৩০০ নেতা-কর্মী নিয়ে একটি স্বেচ্ছাসেবক বাহিনী গঠন করা হয়েছে বলে জানান তিনি।

“এই স্বেচ্ছাসেবক বাহিনী বেশ কয়েকটি ভাগে ভাগ হয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থানে অবস্থান নেবে, যেন কোনো প্রকার অপ্রীতিকর ঘটনা না ঘটে।”

basic-bank

Be the first to comment on "বর্ষবরণ: ছাত্র ইউনিয়ন থাকবে ‘সতর্ক’, ছাত্রলীগ ‘সুশৃঙ্খল’"

Leave a comment

Your email address will not be published.


*