নিউজ ডেস্ক : ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের ‘এফ’ ইউনিটের পুনরায় ভর্তিপরীক্ষা নেওয়ার সিদ্ধান্ত বাতিল না করলে ‘আত্মহত্যা’র হুমকি দিয়েছেন ওই ইউনিটে ভর্তি হওয়া শিক্ষার্থীরা।
মঙ্গলবার (৭ মার্চ) সকাল সাড়ে ৯টার দিকে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের সামনে ‘এফ’ ইউনিটে ভর্তি হওয়া ১০০ শিক্ষার্থী মানববান্ধনে এ হুমকি দেন।
আগামী ১৬ মার্চ পুনরায় এ ভর্তিপরীক্ষা নেওয়া হবে বলে জানিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন।
মানববন্ধনে শিক্ষার্থীরা বলেন, অনেক পরিশ্রম ও কষ্টের বিনিময়ে বাবার ঘাম ঝরানো অর্থে এ বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হয়েছি। কিন্তু দেড় মাস ক্লাস চলার পরে ভর্তিপরীক্ষার প্রশ্ন ফাঁসের ঘটনায় আমাদের ভর্তি বাতিল করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। আবার ভর্তিপরীক্ষায় অংশ নিয়ে যদি ভর্তির সুযোগ না পাই, তবে আমরা এই বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের সামনে আত্মহত্যা করে জীবন বিসজর্ন দিয়ে নজির স্থাপন করে যাব।’
ভর্তিপরীক্ষায় ‘এফ ইউনিটের প্রশ্ন ও উত্তরপত্র ফাঁসের ঘটনায় সোমবার (৬ মার্চ) বিশ্ববিদ্যালয়ের ২৩৩তম সিন্ডিকেট সভায় এফ’ ইউনিটের ভর্তি বাতিল করে পুনরায় পরীক্ষা নেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়। সেই সাথে এক শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারী ও শিক্ষার্থীসহ ৪ জনকে বহিষ্কার করা হয়। এ সিদ্ধান্তে ক্যাম্পাসজুড়ে শুরু হয়েছে মিশ্র প্রতিক্রিয়া।
সিন্ডিকেট সভার এ সিদ্ধান্তে ওই ইউনিটের ১০০ শিক্ষার্থী ক্ষুব্ধ হয়ে মঙ্গলবার (৭ মার্চ) সকাল সাড়ে ৯টা থেকে প্রশাসন ভবনের সামনে মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করে।
মানববন্ধন চলাকালে শিক্ষার্থীদের একটি প্রতিনিধিদল বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র-উপদেষ্টা ও প্রক্টর অফিসে যান। সেখানে ছাত্র-উপদেষ্টা প্রফেসর ড. আনোয়ারুল হক স্বপন ও প্রক্টর প্রফেসর ড. মাহবুবর রহমানের কাছে ভর্তি বাতিল হওয়ার সিদ্ধান্তের তীব্র প্রতিবাদ জানান।
তারা জানান, ‘ভর্তি পরীক্ষায় প্রশ্ন ফাঁসের সাথে যারা জড়িত শুধু তাদের বিরুদ্ধে আপনারা ব্যবস্থা নিয়ে নজির স্থাপন করুন। কিন্তু দোষীদের সাথে আমরা যারা নির্দোষ তাদের কেন বলির পাঠা বানাচ্ছেন। আমাদের শতকরা ৭০ ভাগ শিক্ষার্থী দ্বিতীয় মেয়াদে ভর্তি হয়েছি। অন্যান্য বিশ্ববিদ্যালয়ে চান্স পাওয়ার পর ভর্তি বাতিল করে এসে এখানে ভর্তি হয়েছি। এমনকি জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ভর্তি বাতিল করে এসে এখানে অনার্সে ভর্তি হয়েছে। এখন যদি আমাদের ভর্তি বাতিল করে পুনরায় ভর্তি পরীক্ষা নেওয়া হয় তাহলে আমাদের অনেকেই চান্স পাবে না। ইন্টার মিডিয়েটের বই পড়ার আর কোনো মানসিকতা নেই। তা ছাড়া ভর্তিপরীক্ষার জন্য অনেক প্রস্তুতির দরকার। এটা কোনো সিদ্ধান্ত হতে পারে না। অথচ তদন্ত কমিটি হয়েছে। তদন্ত কমিটির কাজ হলো দোষীদের বের করা। কিন্তু এখানে দোষী নির্দোষ সবাইকে বিচারের আওতায় আনা হলো। এটা কি কোন সুবিচার হতে পারে?
কান্নাতাড়িত কণ্ঠে তাদের অনেকেই বলেন, আমাদের অনেক শিক্ষার্থীই ভর্তির টাকা ঋণ করে এনে ভর্তি হয়েছে। এখনো সে ঋণ শোধ করতে পারেনি। তাহলে তার কী হবে? যদি এই সিদ্ধান্ত বহাল থাকে, তবে আমাদের আত্মহত্যা করা ছাড়া আমাদের কোনো পথ থাকবে না। এই অবস্থায় আমাদের অবিভাবকদের কী বোঝাব?
পরে প্রক্টর প্রফেসর ড. মাহবুবর রহমান শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে বলেন, ‘বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন সিন্ডিকেটের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী যে পদক্ষেপ নিয়েছে তা অবশ্যই নজির স্থাপন করেছে। তবে তোমাদের বিষয়ে আমরাও সমবেদনা জানাচ্ছি। তবে আশা করি সিন্ডিকেটের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী তোমাদের মেধার মূল্যায়ন অবশ্যই করা হবে।’
বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সমিতির সভাপতি প্রফেসর ড. মাহবুবুর রহমান জানান, ‘আমরা এখনো সিন্ডিকেটের সিদ্ধান্তগুলোর লিখিত কোনো তথ্য পাইনি। তবে ভিসির সাথে আমরা বসব। সিন্ডিকেটের সিদ্ধান্তগুলোর বিষয়ে কথা হবে। এর পরে আমরা আমাদের সিদ্ধান্ত নেব।’
ভিসি প্রফেসর ড. রাশিদ আসকারী বলেছেন, ‘যেখানে পরীক্ষার প্রশ্ন ফাঁস হয়েছে যে বিষয়টি নিশ্চিত। আবার ৭০ শতাংশ অবৈধভাবে ভর্তি হয়েছে, সেখানে ভর্তি বাতিল করা ছাড়া অন্য কোনো উপায়ে এর সমাধান দেওয়া সম্ভব ছিল না। পুনরায় ভর্তিপরীক্ষা নিয়ে শিক্ষার্থীদের অবশ্যই মেধার মূল্যায়ন করা হবে। আগামী ১৬ মার্চ অনুরূপভাবে ভর্তিপরীক্ষা নেওয়া হবে। সেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের মেধার পরিচয় দেবে।’
ভর্তি বাতিলের সিদ্ধান্তে আত্মহত্যার হুমকি ইবি শিক্ষার্থীদের

Be the first to comment on "ভর্তি বাতিলের সিদ্ধান্তে আত্মহত্যার হুমকি ইবি শিক্ষার্থীদের"