নিউজ ডেস্ক : আসন্ন স্থানীয় নির্বাচনে নড়াইলের লোহাগড়া উপজেলার কাশিপুর ইউনিয়ন পরিষদে চেয়ারম্যান পদে লড়তে চান ফ্যাসিবাদবিরোধী আন্দোলনে অংশ নিয়ে একাধিকবার আহত ও বারবার কারাবরণকারী যুবনেতা মো: আতিকুল ইসলাম। সম্প্রতি তিনি গণমাধ্যমকে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
জানা যায়, আতিকুল ইসলাম পেশায় একজন ব্যবসায়ী। তিনি কাশিপুর ইউনিয়নের গিলাতলা গ্রামের মৃত মাওলানা আবু দাউদ মোল্যার ছেলে। দাউদ মোল্যা ওই ইউনিয়নের গিলাতলা-ঈশানগাতী-ভাটগাতী এলাকার মসজিদ, মাদরাসা, ঈদগাহ, কবরস্থানসহ নানা ধর্মীয় স্থাপনার প্রতিষ্ঠাতা। আতিকুল ইসলামের বড়ভাই মো: আমিনুল ইসলাম নড়াইল জেলা ছাত্রশিবিরের সাবেক সভাপতি ছিলেন। বর্তমানে তিনি জামায়াতের কেন্দ্রীয় নেতা। আতিকুল ইসলাম জামায়াতের একজন সক্রিয় কর্মী ও ঘনিষ্ঠ শুভাকাক্সক্ষী। ফলে জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী হিসেবেও দেখা যেতে পারে তাকে। আতিকুল ইসলামের দেয়া তথ্য এবং সদর ও লোহাগড়া থানার কয়েকটি মামলার কাগজপত্র পর্যালোচনা করে দেখা যায়, বিগত ফ্যাসিবাদী শাসনামলে ২০১৩ থেকে ২০২৪ সালের জুলাই অভ্যুত্থান পর্যন্ত নানা আন্দোলনে অংশ নিয়ে মোট ১১ টি নাশকতা মামলার আসামি হন আতিকুল ইসলাম। ২০১৩ ও ২০১৫ তে মোট দুইবার কারাবরণ করেন। পরে মামলার চাপ ও আওয়ামীলীগের হামলায় অতিষ্ঠ হয়ে দেশ ছেড়ে তাইওয়ান পাড়ি জমান এই যুবনেতা। কয়েক বছর পর পরিস্থিতি কিছুটা স্বাভাবিক হলে আবারও দেশে ফিরে সরকার পতনের নানা কর্মসূচিতে অংশ নেন তিনি। ২৪শের জুলাই অভ্যূত্থান চলাকালে তিনি ও তার বড় ছেলে তামিম অংশ নেন রাজধানীর মালিবাগ চৌধুরীপাড়া এলাকায়। সেখানে আন্দোলনকারীদের মাঝে বিপুল পরিমান অর্থের পানীয় ও খাদ্যসামগ্রী সরবরাহ করেন তিনি। তখন বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে এসব ভিডিও ফুটেজসহ আন্দোলনের ছবি দেখে লোহাগড়া থানা পুলিশ ও নড়াইলের ডিবি পুলিশ তার বাড়িতে একাধিকবার অভিযান পরিচালনা করেন। তাকে না পেয়ে তার বয়োবৃদ্দ পিতা-মাতাকে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করে শাসিয়ে আসতেন। ২০১৩ সালে জামায়াত নেতাদের মৃত্যুদন্ডের রায়ের প্রতিবাদে সড়ক অবরোধ শেষে ফেরার পথে নড়াইল-লোহাগড়া সড়কের চৌগাছা এলাকায় আওয়ামী সন্ত্রাসীদের হামলার শিকার হয়ে হাতে ও আঙুলে মারাত্মক আঘাতপ্রাপ্ত হন তিনি। ২০১৪ সালে লোহাগড়া উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে জামায়াতে ইসলামী মনোনীত ভাইস চেয়ারম্যান প্রার্থী মাওলানা আলমগীর হোসাইনের পক্ষে নির্বাচনী প্রচারনা শেষে মোটর সাইকেল যোগে বাড়ি ফেরার সময় এড়েন্দা বাসস্ট্যান্ডে পৌছালে আওয়ামীলীগের সন্ত্রাসীরা তার মোটর সাইকেলের গতিরোধ করে জোরপূর্বক পাশের একটি নির্জন বাগানে নিয়ে হকিস্টিক, লোহার রড, জিআই পাইপ ও হাতুড়ি দিয়ে অমানবিকভাবে পিটিয়ে মৃত ভেবে ফেলে যায়। পরে মুমূর্ষ অবস্থায় স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে যশোর জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করেন। সেখান থেকে কিছুটা সুস্থ্য হয়ে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকার একটি প্রাইভেট হাসপাতালে ভর্তি হয়। সেখানে দীর্ঘ চিকিৎসার পর সুস্থ্য হয়ে দেশ ছাড়তে বাধ্য হয়ে তাইওয়ান চলে যায় মজলুম এই জামায়াত কর্মী। তার ব্যবহৃত মোটরসাইকেলটি সন্ত্রাসীরা নিয়ে যায়, যা আজও উদ্ধার করা হয়নি। এসব ঘটনায় তখন মামলা করতে চাইলেও লোহাগড়া থানা পুলিশ মামলা না নিয়ে বরং উল্টো গ্রেফতারের ভয় দেখিয়ে মিথ্যা মামলার হুমকি দেয়। নির্বাচনে অংশ নেয়া প্রসঙ্গে তিনি বলেন, আমি আওয়ামীলীগ আমলে সরকার পতনের আন্দোলন করায় দুইবার আওয়ামী লীগের সন্ত্রাসীদের হাতে আহত হয়েছি। এরমধ্যে একবার খুব গুরুতর আহত হয়েছি, আজও সেই আঘাত বয়ে নিয়ে চলছি। দুইবার কারাবরণ করেছি। ১১ মামলার আসামি হয়ে দীর্ঘদিন আদালতের বরান্দায় ঘুরেছি। কোনো দলের মনোনয়ন পেতে কাজ করছেন কিনা এ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, আমি ব্যক্তিগতভাবে নির্বাচনকে লক্ষ্য করে এলাকার সাধারন মানুষের জন্য দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন প্রকার সেবামূলক কাজ করে যাচ্ছি। নির্বাচন প্রসঙ্গে সম্প্রতি জামায়াতে ইসলামীর অনেক নেতা-কর্মী ও সমর্থকরা কথা বলেছেন। যদি সংগঠন চায়, তাহলে জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী হিসেবে নির্বাচনে অংশ নিবো। আমার প্রতি কাশিপুর ইউনিয়ন বাসির আস্থা ও ভালবাসা রয়েছে। আমি নির্বাচনে অংশ নিয়ে বিপুল ভোটে বিজয়ী হবো ইনশাআল্লাহ।

Be the first to comment on "লোহাগড়ায় কাশিপুর ইউপি নির্বাচনে চেয়ারম্যন পদে জামায়াত থেকে লড়তে চান আতিকুল ইসলাম"