নিউজ ডেস্ক : খুঁজে পাওয়া যাচ্ছিল না হারিয়ে যাওয়া ফর্ম। টি-টোয়েন্টি সিরিজের দ্বিতীয় ম্যাচে কিছুটা হলেও তার সন্ধান পেলেন।
ম্যাচ উইনারের যোগ্যতা আছে বিধায় তার ওপর এমনিতেই দলের আস্থা বেশি। তাই নিশ্চিতভাবেই তৃতীয় ম্যাচে সুযোগ পেলেন সৌম্য সরকার। শুধু সুযোগ নয়; ফিরে পেলেন পুরনো অবস্থান। আর খুঁজে পেলেন আত্মবিশ্বাস।
তার অফ ফর্মে থাকার বিষয়টি কারও অজানা নয়। বরং দ্বিতীয় টি-টোয়েন্টির আগে সৌম্য ছিলেন আলোচনার কেন্দ্রে। সমর্থকরাও পরাজয়ের দায় তার উপরই চাপাতেন। শেষ পর্যন্ত সিরিজে টিকে থাকার ম্যাচে ৫ নম্বরে ব্যাট করতে নামেন তিনি। প্রথম বলটি মাঝব্যাটে লাগে। সেই বলটিই তাকে ফিরিয়ে দেয় আত্মবিশ্বাস। খুব বড় কিছু করতে পারেননি ২৬ বলে ৩৯ রান করে আউট করেছেন। কিন্তু সেই কয়েকটি রান বের করতেই দেখা গেছে সেই পুরনো সৌম্যকে। যিনি দ্বিধাহীনভাবে ভয়হীনভাবে ব্যাটিং করতে অভ্যস্ত। তিনি ও সাব্বির যত্ক্ষণ ক্রিজে ছিলেন জয়টা খুব সহজ মনে হচ্ছিল তখন। শেষ ম্যাচ তথা হোয়াইটওয়াশ হওয়া ম্যাচেও সৌম্য ক্রিজে থাকাকালীন এমনটাই মনে হচ্ছিল।
দ্বিতীয় ম্যাচ হেরে সিরিজ খোয়ানোর পর সাংবাদিকরা ছেঁকে ধরেছিল সৌম্যকে। প্রশ্ন একটাই ছিল, “নিজেকে ফিরে পেয়ে কেমন লাগছে?” উত্তরে মোটেও সন্তুষ্টি প্রকাশ করেননি সৌম্য। বরং দলকে জিতিয়ে মাঠ ছাড়তে পারলেই শান্তি পেতেন তিনি। তার সেই রানক্ষুধা তৃতীয় ম্যাচেও অব্যাহত থাকল। এদিন তিনি আবারও ওপেন করতে নামলেন তামিম ইকবালের সাথে। কিউইদের রানের পাহাড় টপকাতে দুজনে মিলে দুর্দান্ত শুরু করলেন। প্রথম ওভারেই স্যান্টনারের বলে দুটি বাউন্ডারি হাঁকিয়ে নিজের সম্পর্কে জানান দিলেন সৌম্য। ২৪ রান করে তামিম আউট হওয়ার পরও তার সাবলীল ব্যাটিং দেখে আশা দেখছিল বাংলাদেশ। কিন্তু শেষ পর্যন্ত ৪২ রান করেই থামলেন তিনি। তারপর আর কেউ দাঁড়াতে না পারায় বাংলাদেশ হেরে গেল ২৭ রানে।
তার ২৮ বলে ৬ বাউন্ডারিতে ৪২ রানের ইনিংসটি শেষ হয় ট্রেন্ট বোল্টের বলে কট অ্যান্ড বোল্ড হয়ে। বলা বাহুল্য যে এটাই আজ বাংলাদেশের ইনিংসে ব্যক্তিগত সর্বোচ্চ। দ্বিতীয় সর্বোচ্চ রান করেন সাকিব (৪১)। টানা দুই সিরিজে হোয়াইটওয়াশ হওয়া বাংলাদেশের শেষ ম্যাচে প্রাপ্তি বলতে সৌম্যর স্বরুপে ফিরে আসা। এবার ম্যাচ উইনিং পারফর্মেন্স করতে হবে। দলকে জেতানোর সেই পুরনো ভূমিকায় অবতীর্ণ হতে হবে মাঠে।

Be the first to comment on "আত্মবিশ্বাস ধরে রাখলেন সৌম্য"